ব্রেকিং নিউজ

সন্ধ্যা ৭:২৩ ঢাকা, বুধবার  ২৬শে সেপ্টেম্বর ২০১৮ ইং

শাবিপ্রবিতে শিক্ষকদের ওপর ছাত্রলীগের হামলা

শাবিপ্রবিতে শিক্ষকদের ওপর ছাত্রলীগের হামলা: ক্যাম্পাসে উত্তেজনা

সিলেটে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (শাবিপ্রবি) ভিসির পদত্যাগের দাবিতে আন্দোলনরত শিক্ষকদের ওপর হামলা চালিয়েছে ছাত্রলীগ। এতে প্রাথমিকভাবে অন্তত ৭জন শিক্ষক আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। আজ সকাল সাড়ে আটটার দিকে এ ঘটনা ঘটে। ঘটনার পর থেকে ক্যাম্পাসে উত্তেজনা বিরাজ করছে।

জানা গেছে, শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসির অবস্থান ঠিক রাখতে আজ রোববার ভোর সাড়ে পাঁচটা থেকেই ভিসির কার্যালয়ের সামনে অবস্থান নেয় ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। অপরদিকে পূর্বঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী বেলা আটটার পূর্বে ভিসির কার্যালয়ের সামনে আসেন আন্দোলনরত শিক্ষকরা। বেলা আটটা ২৫ মিনিটের দিকে ব্যানার নিয়ে আন্দোলনরত শিক্ষকরা ভিসি আমিনুল হক ভূইয়ার পদত্যাগের দাবিতে তার কার্যালয়ে সামনে মানববন্ধন করতে চাইলে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা বাধা দেয়। এসময় শিক্ষকদের দাবি সম্বলিত ব্যানার ছিনিয়ে নেয় ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। এসময় শিক্ষকরা মানববন্ধন করার চেষ্টা করলে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা শিক্ষকদের ওপর হামলা করে। এতে আগত হন অন্তত ৭জন শিক্ষক।

আহতরা হচ্ছেন- মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় উদ্বুদ্ধ শিক্ষক পরিষদের আহ্বায়ক অধ্যাপক সৈয়দ সামসুল ইসলাম, অধ্যাপক ইয়াসমিন হক, শিক্ষক সমিতির সাবেক সভাপতি অধ্যাপক মোহাম্মদ ইউনূস, বর্তমান সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক আবদুল গণি, অধ্যাপক এ ন ক সমাদ্দার, মোস্তফা কামাল মাসুদ ও সহযোগী অধ্যাপক মো. ফারুক উদ্দিন।

নিজের পদ-পদবী ঠিক রাখতে ভিসি ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের লেলিয়ে দিয়েছেন দাবি করে আন্দোলনরত একজন শিক্ষক জানান, দুর্নীতিবাজ ভিসিকে সরানোর নৈতিক আন্দোলন ঠেকাতে বিশেষ কোন ছাত্রসংগঠনকে উসকে দিয়ে পরিস্থিতি ঘোলাটে করার চেষ্টা করা হচ্ছে।

প্রত্যক্ষদর্শী একজন শিক্ষার্থী জানান, রোববার সকাল ৯টা থেকে ৫টা পর্যন্ত প্রশাসনিক ভবনের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালনের ঘোষণা ছিল আন্দোলনরত শিক্ষকদের। অপরদিকে আজ উপাচার্য আমিনুল হক ভূইয়া বিকাল ৩টায় অ্যাকাডেমিক কাউন্সিলের বৈঠক ডাকলে বিশ্ববিদ্যালয়ে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়। এরইমধ্যে উপাচার্যকে সমর্থন দিয়ে আসা ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা ভোর সাড়ে ৫টার দিকে প্রশাসনিক ভবনের সামনে অবস্থান নেয়। পরে সকাল সাড়ে আটটার দিকে শিক্ষকদের ওপর ছাত্রলীগের হামলা চলাকালে  উপাচার্য নিজ কার্যালয়ে প্রবেশ করেন।

এসময় বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সভাপতি সঞ্জীবন চক্রবর্তী পার্থ ও সাধারণ সম্পাদক ইমরান খানকে ঘটনার দশগজের মধ্যেই অবস্থান করতে দেখা গিয়েছে।

উপাচার্যপন্থি হিসেবে পরিচিত প্রক্টর অধ্যাপক কামরুল হাসান ও ছাত্র কল্যাণ উপদেষ্টা অধ্যাপক রাশেদ তালুকদারও এ সময় কিছুটা দূরে দাঁড়িয়েছিলেন। তবে তারা কেউ ছাত্রলীগ কর্মীদের ঠেকানোর চেষ্টা করেননি।

জালালাবাদ থানার ওসি আক্তার হোসেন দুই পক্ষের মাঝখানে দাঁড়িয়ে হাত জোড় করে পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা করলেও ব্যর্থ হন তিনি।

হামলাচলাকালে অধ্যাপক ইয়াসমিন হক মাটিতে পড়ে যান। এক ছাত্রলীগ কর্মীকে এ সময় এক শিক্ষকের গায়ে লাথি মারতেও দেখা গিয়েছে।

জালালাবাদ থানার ওসি আক্তার হোসেন ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী হলেও তিনি এ বিষয়ে ‘কমেন্টস’ করতে রাজি হননি।

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সভাপতি সঞ্জীবন চক্রবর্তী পার্থ জানিয়েছেন শিক্ষকদের আন্দোলনে বাধা দেয়া ছাত্রলীগের কোন সাংগঠনিক সিদ্ধান্ত ছিল না। ব্যক্তিগত সিদ্ধান্তে শিক্ষার্থীরা এতে অংশ নিয়েছে।

ঘটনার পর আন্দোলনরত একজন শিক্ষক জানিয়েছেন ছাত্রলীগের হামলার ঘটনায় তারা শঙ্কিত। নিজেদের মধ্যে সাধারণসভা করে সংগঠনের পরবর্তী কর্মসূচি নির্ধারণ করা হবে বলেও জানান তিনি।