ব্রেকিং নিউজ

রাত ৮:৩১ ঢাকা, বৃহস্পতিবার  ২০শে সেপ্টেম্বর ২০১৮ ইং

শাহজাহান ওমর

শাওনের ‘মওদুদ বিরোধী’ অভিযোগ খন্ডনে শাহজাহান ওমর

বিএনপি নেতা ব্যারিষ্টার মওদুদ আহমেদকে বাড়ি থেকে উচ্ছেদ করার পরে তাকে (মওদুদ আহমেদ) নিয়ে একাত্তরের শহীদ শিল্পী আলতাফ মাহমুদের মেয়ে শাওন মাহমুদ এর করা অভিযোগের বক্তব্য খন্ডন এর চেষ্টা করেছেন বিএনপির অপর এক নেতা ব্যারিষ্টার শাহজাহান ওমর। শাওন মাহমুদের লেখায় অভিযোগ করা হয় তাদেরকেও বাড়ি ছাড়া করতে মওদুদ আহমেদ এর ভূমিকা ছিল। শাওনের এ বক্তব্য গনমাধ্যমে প্রকাশিত হওয়ার পরে সোশ্যাল মিডিয়ায় নতুন বিতর্কের সৃষ্টি হয়। এরই প্রেক্ষাপটে মিঃ শাহজাহান ওমর আজ তাঁর ফেসবুকে ১ ঘন্টা আগে দেয়া এক স্ট্যাটাসে শাওন মাহমুদের করা অভিযোগ খন্ডনের স্বপক্ষে নানাবিধ যুক্তি উপাস্থাপন করে অভিযোগ খন্ডনের আপ্রাণ প্রয়াস চালিয়েছেন।

নিম্নে মিঃ শাহজাহান ওমর এর ফেসবুক স্ট্যাটাসটি হুবহু তুলে ধরা হলঃ

মওদুদ সাহেব এরশাদের জাতীয় পার্টিতে যোগ দিয়েছিলেন ১৯৮৫ সালে। তাহলে উনি ১৯৮২ সালে আলতাফ মাহামুদের পরিবারকে উচ্ছেদ করার জন্য দায়ী হলেন কিভাবে?

শহীদ আলতাফ মাহামুদের মেয়ে দেখলাম বিএনপি নেতা ব্যারিস্টার মওদুদ আহমেদকে বাড়ী থেকে উচ্ছেদের ঘটনায় আনন্দিত হয়ে একটা লেখা প্রসব করেছেন এবং দেশের তাবত চেতনাপন্থী ফেসবুকাররা খোঁজ খবর না নিয়েই সেই পোস্ট পাইকারীহারে শেয়ার করছে!

ব্যারিষ্টার মওদুদ আহমেদ আওয়ামী লীগ দিয়েই তাঁর রাজনৈতিক জীবন শুরু করেছিলেন। ১৯৬৮ সালে তিনি আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলায় শেখ মুজিবের আইনজীবী প্যানেলের সদস্য ছিলেন, ১৯৬৯ সালে তিনি আইয়ুব খানের সাথে গোল টেবিল বৈঠকে শেখ মুজিবুর রহমানের সহযোগি হিসেবে যোগ দিয়েছিলেন এবং ১৯৭১ সালে উনি লন্ডনের বিলাসী জীবন ছেড়ে কোলকাতায় এসে প্রথমে স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রে ইংরেজী সংবাদ পাঠক হয়েছিলেন, পরবর্তীতে তিনি মুজিবনগর সরকারের বর্হিবিশ্ব প্রচারণা বিভাগের সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন। মুক্তিযুদ্ধে পাকিস্তানী বাহিনী কর্তৃক মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিষয়গুলো আন্তজার্তিক অঙ্গনে প্রচারের অনেকটা কৃতিত্বই তৎকালীন তরুণ ব্যারিষ্টার মওদুদ আহমেদের।

মুক্তিযুদ্ধ শেষে মওদুদ আহমেদ আওয়ামী লীগ আমলে সরকারী নির্যাতের শিকার বাম রাজনীতিকদের বিনা খরচায় আইনী সহায়তা দিয়েছেন। তারপর ১৯৭৭ সালে প্রথমে বিএনপি, ১৯৮৫ সালে জাতীয় পার্টি হয়ে শেষে ১৯৯৬ সালে আবারো বিএনপিতে ফিরেছেন।

তিনবার দল বদল করার কারণে অবশ্যই উনার সমালোচনা করা যায়, আইনমন্ত্রী থাকাকালে উনার কিছু সিদ্ধান্তের সমালোচনা করা যায়, এরশাদের মন্ত্রী এবং ভাইস-প্রেসিডেন্ট থাকার কারণেও উনার সমালোচনা করা যায়। কিন্তু আলতাফ মাহামুদের মিথ্যাবাদী মেয়ে যে মিথ্যা কথা লিখছে এবং এরশাদকে বাঁচাতে গিয়ে মওদুদ সাহেবকে ফাঁসাচ্ছে, সেটা সমর্থন করা যায় না।

মওদুদ সাহেব এরশাদের জাতীয় পার্টিতে যোগ দিয়েছিলেন ১৯৮৫ সালে। তাহলে উনি ১৯৮২ সালে আলতাফ মাহামুদের পরিবারকে উচ্ছেদ করার জন্য দায়ী হলেন কিভাবে?

আলতাফ মাহামুদের মেয়ে সম্ভবত বলতে চাচ্ছেন না যে ৮২ সালে তাদের বাড়ী থেকে উচ্ছেদ করা এরশাদ এখন তার প্রিয় নেত্রী শেখ হাসিনার বিশেষ দূত এবং উনার সম্ভবত জানা নেই মওদুদ আহমেদ ১৯৬৮ থেকে ১৯৭১ সাল পর্যন্ত আগরতলা মামলা থেকে মুক্তিযুদ্ধে কী ভূমিকা পালন করেছেন। তাহলে চেতনার আড়ালে দাঁড়িয়ে এরশাদকে রক্ষা করার জন্য উনি মওদুদ আহমেদকে দোষী করে এমন ডাহা মিথ্যা কথা লিখতেন না।

ফুটনোট:

দল বদলের জন্য মানুষ এস এ খালেক এবং ব্যারিস্টার মওদুদ আহমেদকে যতটা সমালোচনা করে অন্যদের কিন্তু তেমন সমালোচনা করে না। এই যেমন মাহামুদুর রহমান মান্নার কথাই ধরুন। এই ভদ্রলোক ছাত্রলীগ দিয়ে রাজনীতি শুরু করেছিলেন, তারপর যোগ দিলেন জাসদে, এরপর বাসদে, তারপর আওয়ামী লীগে, শেষে এখন আওয়ামী লীগ ছেড়ে নতুন দল গঠন করেছেন। উনাকে নিয়ে কী এত সমালোচনা হয়? নাকি দল পরিবর্তন করে একটি বিশেষ দলে এলেই তাদের সমালোচনা করতে হবে?
————

আপডেট:

এখন আলতাফ মাহামুদের মেয়ের সাঙ্গ-পাঙ্গরা এখানে এসে গালাগাল দিয়ে বলছে, তাদের বাড়ী থেকে উচ্ছেদ করা হয়েছে ১৯৮২ সালের ফেব্রুযারী মাসে সেই সময় বিএনপি ক্ষমতায় ছিল। কিন্তু এদের কে বোঝাবে যে-

১/ ১৯৮০ সালে মওদুদ আহমেদ মন্ত্রীসভা থেকে বাদ পরেন। এমনকি উনাকে উপপ্রধানমন্ত্রী পদ ছাড়াও কেন্দ্রীয় বিএনপি, নোয়াখালী বিএনপিসহ দলের সকল পদ থেকে অব্যাহতি দেয়া হয়। কেবল তার প্রাথমিক সদস্য পদ ছিল। এই ঘটনার পর বিএনপি’র সাথে তার যথেষ্ট দূরত্ব তৈরী হয়েছিল। উনি ১৯৮৪ সাল পর্যন্ত নামে বিএনপি’র সদস‌্য থাকলেও কোন রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িত ছিলেন না। সেই অবস্থায় ১৯৮২ সালে উনি কেন যাবেন আলতাফ মাহামুদের পরিবারকে উচ্ছেদ করতে? তাও আবার পুলিশ দিয়ে!
২/ ১৯৮২ সালের মার্চে এরশাদ ক্ষমতা দখল করার পর দেশের অনেক ভেস্টেড প্রোপারর্টি রিক্লেইম করেছিল। শহীদ পরিবারের সদস্যদের মধ্যে যাদের দখলে ২টা করে বিহারী বাড়ী ছিল তাদের কাছ থেকে ১টা করে ফেরত নিয়েছিল। আলতাফ মাহামুদের পরিবারের দখলে থাকা বিহারী বাড়ীটা তখনই দখলমুক্ত হবার কথা। সবচেয়ে বড় কথা, ১৯৮২ সালের জানুয়ারী মাস থেকেই আব্দুস সাত্তারের বিএনপি সরকার ছিল টালমাটাল অবস্থায়। সেই সময়ে তারা এমন উচ্ছেদ অভিযানে গিয়েছিল সেটা রীতিমত অবিশ্বাস্য।

আলতাফ মাহামুদের মেয়ের উচিত ঘটনার সাথে মওদুদ আহমেদ জড়িত ছিলেন, সেই প্রমান দিয়ে কথা বলা, তা নাহলে মিথ্যাচারের জন্য ক্ষমা চাওয়া।