ব্রেকিং নিউজ

রাত ৮:২৩ ঢাকা, বুধবার  ১৯শে সেপ্টেম্বর ২০১৮ ইং

‘শহীদদের সংখ্যা অস্বীকার ‘এ যেন শহীদদের রক্তের সঙ্গে বেইমানী’- প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আজ বাঙালি জাতির বহু ত্যাগের বিনিময়ে অর্জিত মহান অর্জনগুলোকে ভবিষ্যতে কেউ যেন নস্যাৎ করতে না পারে, সেজন্য সবাইকে সতর্ক থাকার আহবান জানিয়েছেন। সম্প্রতি মুক্তিযুদ্ধে ৩০ লাখ লোক শহীদ হয় নাই, ‘বিএনপি নেত্রী খালেদা জিয়ার এ ধরনের শহীদদের সংখ্যা অস্বীকারের বক্তব্য টেনে প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, এ যেন শহীদদের রক্তের সঙ্গে বেইমানী এবং শহীদদের অবমাননা করা ছাড়া আর কিছুই না।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বাঙালি জাতির যখন যা কিছু অর্জন তা অনেক ত্যাগের মধ্যদিয়ে, সংগ্রামের মধ্যদিয়েই আমাদের অর্জন করতে হয়েছে। কাজেই সেই অর্জনকে আমাদের ধরে রাখতে হবে।’

তিনি বলেন, ‘কোনভাবেই যেন এই অর্জনগুলোকে কেউ আবার ভবিষ্যতে নস্যাৎ করতে না পারে, এ বিষয়ে সকলকে সচেতন থাকতে হবে।’

শেখ হাসিনা

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আজ সকালে চলতি বছরের একুশে পদকপ্রাপ্তদের মাঝে একুশে পদক বিতরণ উপলক্ষ্যে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির ভাষণে এ আহবান জানান।

রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে সংস্কৃতি মন্ত্রণালয় আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী ২০১৭ সালের একুশে পদক বিজয়ী ১৭ ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের হাতে এই পদক তুলে দেন।

ভাষা আন্দোলন, শিল্পকলা (সঙ্গীত, চলচ্চিত্র, ভাস্কর্য, নাটক ও নৃত্য), সাংবাদিকতা, গবেষণা, শিক্ষা, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি, সমাজসেবা, ভাষা ও সাহিত্যে এ সম্মাননা দেয়া হয়।

পুরস্কার হিসেবে একটি সনদপত্র, স্বর্ণপদক এবং দুই লাখ টাকার চেক বিজয়ীদের হাতে তুলে দেন প্রধানমন্ত্রী।
সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূরের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তৃতা করেন সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের ভারপ্রাপ্ত সচিব মো. ইব্রাহিম হোসেন খান। মন্ত্রিপরিষদ সচিব মো. শফিউল আলম পদক বিতরণ অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন এবং পদক বিজয়ীদের সাইটেশন পাঠ করেন।

অনুষ্ঠানে মন্ত্রিপরিষদ সদস্যবৃন্দ, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টাগণ, বিচারপতিবৃন্দ সংসদ সদস্যবৃন্দ, কূটনৈতিক মিশনের সদস্যবৃন্দ, পদস্থ সরকারি ও বেসরকারি কর্মকর্তাবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

পদক বিজয়ীরা হচ্ছেন- ‘অপরাজেয় বাংলার’ ভাস্কর সৈয়দ আব্দুল্লাহ খালিদ, প্রযুক্তিবিদ, গবেষক অধ্যাপক ড. জামিলুর রেজা চৌধুরী এবং দৈনিক জনকন্ঠের নির্বাহী সম্পাদক স্বদেশ রায়, অধ্যাপক ড. শরিফা খাতুন, শিল্পকলায় (সঙ্গীত) সুষমা দাস, ওস্তাদ আজিজুল ইসলাম (বংশীবাদক, শাস্ত্রীয় সঙ্গীত), জুলহাস উদ্দিন আহমেদ (স্বাধীন বাংলা বেতারের শিল্পী), শিল্পকলায় (চলচ্চিত্র) তানভীর মোকাম্মেল (লেখক ও চলচ্চিত্র নির্মাতা), শিল্পকলায় (নাট্যশিল্পী) সারা যাকের, গবেষণায় সৈয়দ আকরম হোসেন, শিক্ষায় প্রফেসর ইমেরিটাস আলমগীর মোহাম্মদ সিরাজুদ্দীন (চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য ও লেখক), সাংবাদিকতায় আবুল মোমেন, সমাজসেবায় অধ্যাপক ডা. মাহমুদ হাসান (আইপিজিএমআর’কে বঙ্গবন্ধু মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে পরিণত করায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালনকারি), ভাষা ও সাহিত্যে সুকুমার বড়–য়া (ছড়াকার), শিল্পকলায় (নৃত্য) শামীম আরা নীপা এবং শিল্পকলায় (সংগীত) রহমতউল্লাহ আল মাহমুদ সেলিম ওরফে মাহমুদ সেলিম (গণসঙ্গীত শিল্পী, বঙ্গবন্ধু হত্যাকান্ডসহ স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনের প্রতিবাদকারি) এবং ভাষা ও সাহিত্যে (মরণোত্তর) কবি ওমর আলী।

বিজয়ী সকলেই প্রধানমন্ত্রীর নিকট থেকে পদক গ্রহণ করেন। মরণোত্তর কবি ওমর আলীর পক্ষে তার ছেলে মো. রফি মনোয়ার আলী প্রধানমন্ত্রীর নিকট থেকে পদক গ্রহণ করেন।

প্রধানমন্ত্রী একুশে পদক বিজয়ীদের অভিনন্দন জানিয়ে বলেন, কথায় আছে, যে দেশে গুণীর কদর নেই, সেদেশে গুণীর জন্ম হয় না।
তিনি বলেন, তাঁর সরকার গুণীজনদের তাদের প্রাপ্য সম্মান প্রদানের বিষয়ে আন্তরিক।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা সাহিত্য-শিক্ষা-কৃষি-ক্রীড়া-প্রযুক্তিসহ উদ্ভাবনাময় সকল ক্ষেত্রে কৃতিত্বপূর্ণ অর্জনের অধিকারী ব্যক্তিত্বদের পুরস্কৃত ও সম্মানিত করে আসছি। এরই অংশ হিসেবে আজকের এই একুশে পদক প্রদান অনুষ্ঠান।

রাষ্ট্রীয় এ পদকের সঙ্গে জড়িয়ে আছে অমর একুশের নাম উল্লেখ করে সরকার প্রধান বলেন, যে মহান ভাষা শহীদগণ নিজেদের জীবনের বিনিময়ে একুশের সংগ্রামী ইতিহাস রচনা করেছেন, তাঁদের ত্যাগের দিকে লক্ষ্য রেখে আপনাদের মেধাকে দেশের উন্নয়ন, সমৃদ্ধ ও সার্বিক বিকাশের কাজে লাগানোর বিনীত আহ্বান জনাই।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান স্বাধীনতার পর দেশের পুনর্গঠনে দেশের বুদ্ধিজীবী ও মেধাবীদের দায়িত্ব অর্পণ করেছিলেন উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, তাঁর পরিকল্পনা কমিশনে তাই দেশসেরা অর্থনীতিবিদ, উন্নয়ন-গবেষক, সমাজ-বিশ্লেষকদের সমাবেশ ঘটেছিল। বঙ্গবন্ধু যথার্থই উপলব্ধি করেছিলেন, দেশের মেধাবী নাগরিকগণই তাঁদের দায়বদ্ধ ভাবনার মাধ্যমে নতুন রাষ্ট্রের ভিত্তি গড়তে পারেন।

প্রধানমন্ত্রী ২৫ মার্চ গণহত্যা দিবস করতে তাঁর সরকার উদ্যোগ গ্রহণ করবে উল্লেখ করেন এবং সাম্প্রতিককালে একাত্তরের ২৫ মার্চ গণহত্যা নিয়ে মিথ্যা তথ্য পরিবেশন করে পাকিস্তানের জনৈক জুনায়েদ আহমেদের বই প্রকাশ এবং সেই বই বাংলাদেশ হাইকমিশনে পাঠানোর ধৃষ্টতার ঘটনার তীব্র নিন্দা করেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমি লক্ষ্য করছি, পাকিস্তানীদের ষড়যন্ত্র এখনও শেষ হয় নাই। তারা কিছুদিন আগে একটি পুস্তক বের করে তাতে উল্লেখ করেছে- ২৫ মার্চ পাকিস্তানী বাহিনী যে গণহত্যা শুরু করেছিল যাতে এদেশীয় আলবদর, আল শামস, রাজাকাররা যোগ দিয়েছিল সে সব গণহত্যার ছবিতে মিথ্যা ক্যাপশন এঁটে দিয়ে রিপোর্ট তৈরি করে এসব হত্যাকান্ড পাকিস্তানী বাহিনীর নয়, মুক্তিযোদ্ধারা সংগঠন করেছে বলে তারা তা প্রচারের চেষ্টা চালাচ্ছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, এখন আমরা স্বাধীন দেশ। অর্থনৈতিকভাবে আমরা এগিয়ে যাচ্ছি। বাংলাদেশ এখন একটি উন্নয়নের রোল মডেল। সমগ্র বিশ্বে বাংলাদেশ একটি মর্যাদার আসনে অধিষ্ঠিত হয়েছে। এখন যে অপপ্রচার তারা (পাকিস্তানী গোষ্ঠী) করে যাচ্ছে তা কারো কাছে গ্রহণযোগ্য না। কাজেই ২৫ মার্চকে আমাদের গণহত্যা দিবস হিসেবে গ্রহণ করতে হবে এবং আন্তর্জাতিকভাবেও এর স্বীকৃতির জন্য আমাদের প্রচার চালাতে হবে।

প্রধানমন্ত্রী একাত্তরের গণহত্যার কথা স্মরণ করে বলেন, সে সময় যে জঘন্য ঘটনা তারা ঘটিয়েছে তা মানব ইতিহাসে নজীরবিহীন। দিনের পর দিন এ দেশের মানুষকে তারা হত্যা করেছে। আমাদের ৩০ লাখ শহীদ জীবন দিয়েছেন, ২ লাখ মা-বোন সম্ভ্রম দিয়েছেন। এটা প্রতিষ্ঠিত সত্য।

শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমাদের দুর্ভাগ্য যে আমাদের দেশের কোন কোন রাজনৈতিক দলের নেতা, আমি নাম ধরেই বলতে চাই- বিএনপি নেত্রী খালেদা জিয়া কিছুদিন আগে বলেছিলেন, মুক্তিযুদ্ধে ৩০ লাখ লোক শহীদ হয় নাই।…তার এ ধরনের বক্তব্যের সঙ্গে পাকিস্তানের এ ধরনের অপপ্রচারের কোন সূত্র আছে কিনা তা আমাদের খুঁজে দেখতে হবে। তারা উভয়েই একই সূরে কথা বলেছেন। এ যেন শহীদদের রক্তের সঙ্গে বেইমানী এবং শহীদদের অবমাননা করা ছাড়া আর কিছুই না।’

প্রধানমন্ত্রী স্বাধীন বাংলাদেশের স্থপতি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু, কারা অভ্যন্তরে নিহত জাতীয় চার নেতাসহ অমর একুশে ফেব্রুয়ারি এবং একাত্তরের মহান মুক্তিযোদ্ধা ও সম্ভ্রমহারা ২ লাখ মা-বোনের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে বলেন, ‘একুশ মানে মাথা নত না করা, মর্যাদার সঙ্গে মাথা উঁচু করে বেঁচে থাকা। একুশ মানে বাংলা, বাঙালি এবং বাংলা ভাষার প্রতি গভীর মমত্ববোধ ও নিরন্তর ভালোবাসা।’

বাঙালির হাজার বছরের সংগ্রামী ইতিহাসে অমর একুশে এক উজ্জ্বল এবং মহান সংযোজন উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘একুশের পথ বেয়েই আমরা পৌঁছেছি একাত্তরের মহান মুক্তিযুদ্ধের মোহনায়।’

মহান ভাষা আন্দোলনের প্রেক্ষাপট স্মরণ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ১৯৪৮ সালে ৪ জানুয়ারি বঙ্গবন্ধুর নির্দেশনায় সকল গণআন্দোলনের পতাকাবাহী সংগঠন ছাত্রলীগ প্রতিষ্ঠিত হয়। ফজলুল হক হলে অনুষ্ঠিত এক সভায় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রস্তাবের প্রেক্ষিতে ছাত্রলীগ, তমুদ্দীন মজলিস এবং আরও কয়েকটি ছাত্র সংগঠন মিলে সর্বদলীয় ‘রাষ্ট্রভাষা বাংলা সংগ্রাম পরিষদ’ গঠিত হয়। ১৯৪৮ সালের ১১ মার্চকে ‘বাংলা ভাষা দাবি দিবস’ ঘোষণা করে ধর্মঘট ডাকা হয় এবং সর্বদলীয় সংগ্রাম পরিষদ জনগণকে আন্দোলনের সঙ্গে সম্পৃক্ত করার জন্য সমগ্র দেশব্যাপী প্রচারাভিযান শুরু করে।

ধর্মঘট চলাকালে বঙ্গবন্ধুসহ অনেক ছাত্রকে গ্রেফতার করা হয় উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সাধারণ ছাত্র-জনতা প্রবল আন্দোলনের মুখে মুসলিম লীগ সরকার ১৫ মার্চ বন্দীদের মুক্তি দিতে বাধ্য হয়।

স্মৃতিচারণ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ১৬ মার্চ বিশ্ববিদ্যালয়ের আমতলায় ভাষার দাবিতে একটি ছাত্রসভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সভাপতিত্ব করেন। পরে মিছিল নিয়ে নেতৃবৃন্দ খাজা নাজিমউদ্দিনের কাছে দাবিনামা পেশ করেন। কিন্তু ঐদিনই পুলিশ একদল ছাত্রের ওপর লাঠিচার্জ এবং টিয়ার গ্যাস নিক্ষেপ করে। প্রতিবাদে ছাত্ররা পরেরদিন সারাদেশে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ধর্মঘট পালন করেন।

১৯৪৯ সালের ১৯ এপ্রিল বঙ্গবন্ধু আবারও গ্রেফতার হন উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, জুলাই মাসের শেষে তিনি মুক্তি পান। ১৪ অক্টোবর আওয়ামী লীগ ঢাকায় ভুখা মিছিল বের করে। মিছিল থেকে মওলানা ভাসানী ও বঙ্গবন্ধুসহ অনেক নেতাকে গ্রেফতার করা হয়।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ১৯৫২ সালের ২৫ জানুয়ারি খাজা নাজিমুদ্দিন প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব নিয়েই আবারও ঘোষণা দিলেন, পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা হবে উর্দু।

এ সময় বঙ্গবন্ধু বন্দি অবস্থায় চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন উল্লেখ করে আওয়ামী লীগ সভাপতি বলেন, হাসপাতালের কেবিনে প্রায়শই তিনি ছাত্রলীগের তৎকালীন সভাপতি নঈমুদ্দিন এবং সাধারণ সম্পাদক খালেক নেওয়াজসহ ছাত্রনেতাদের সঙ্গে গোপনে বৈঠক করে আন্দালনের দিকনির্দেশনা দিতেন। এসব বৈঠক হত মধ্যরাতের পর। এরকম এক বৈঠকেই ২১ ফেব্রুয়ারি রাষ্ট্রভাষা দিবস পালনের সিদ্ধান্ত হয়।

প্রধানমন্ত্রী এ সময় বঙ্গবন্ধুর অসমাপ্ত আত্মজীবনী’র ১৯৭ পৃষ্ঠা থেকে উদ্বৃত করে বলেন, বঙ্গবন্ধু লিখেছেন ‘…পরের দিন রাতে এক এক করে অনেকেই আসল। সেখানেই ঠিক হল আগামী ২১শে ফেব্রুয়ারি ‘রাষ্ট্রভাষা দিবস’ পালন করা হবে এবং সভা করে সংগ্রাম পরিষদ গঠন করতে হবে। ছাত্রলীগের পক্ষ থেকেই রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদের কনভেনর করতে হবে।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘৫২’র ২১ ফেব্রুয়ারির সেই বিয়োগান্তক ঘটনা রাতারাতি আমাদের মনন, চিন্তা-চেতনায় একটা বৈপ্লবিক পরিবর্তন এনে দেয়। …আমরা যারা পাকিস্তানী শাসনের মধ্যে বেড়ে উঠেছি, আমাদের কাছে একুশে ছিল এক অন্যরকম শক্তি, প্রেরণা, উদ্দীপনার উৎস।’

যুক্তফ্রন্টের সরকার, অমর একুশে ফেব্রুয়ারিকে ভাষা দিবসের স্বীকৃতি প্রদান, ঐতিহাসিক ৬ দফা, ১১ দফাসহ আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা এবং ’৬৯-এর ঐতিহাসিক গণঅভুত্থ্যানের মাধ্যমে বঙ্গবন্ধুর মুক্তিলাভ, একাত্তরের ২৬ মার্চ প্রথম প্রহরে বঙ্গবন্ধুর স্বাধীনতা ঘোষণাসহ ধারাবাহিক আন্দোলন-সংগ্রামের গৌরবগাঁথা তুলে ধরেন প্র্রধানমন্ত্রী।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা জাতির পিতার নেতৃত্বে স্বাধীনতা অর্জন করেছি। কিন্তু জাতির পিতাকে ’৭৫-এর ১৫ আগস্ট হত্যার পর দেশ উল্টোদিকে হেঁটেছে।’

তিনি বলেন, ‘একুশের ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনা এবং মহৎ অর্জনগুলোকে ভুলুণ্ঠিত করা হয়েছে।’

প্রধানমন্ত্রী ২১ বছর পর পুনরায় আওয়ামী লীগের রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় আসীন হওয়া প্রসঙ্গে বলেন, ‘দীর্ঘ একুশ বছর পর ১৯৯৬ সালে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব পায় বাংলার মাটি ও মানুষের রাজনৈতিক দল বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ।’

প্রধানমন্ত্রী এ সময় ’৯৬ সালে সরকার গঠনের পর কানাডা প্রবাসী বাংলাদেশী প্রয়াত রফিকুল ইসলাম এবং আব্দুস সালামের সহযোহিতায় তাঁর সরকারের ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় ‘অমর ২১ শে ফেব্রুয়ারিকে’ আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে ইউনেস্কোর স্বীকৃতি প্রদানের বৃত্তান্তও তুলে ধরেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাঙালির একুশ এভাবে পরিণত হয় সারা পৃথিবী মানুষের মাতৃভাষা দিবসে। দেশের সর্বস্তরে বাংলা ভাষার যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিতকরণ এবং ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠির জনগোষ্ঠীর মাতৃভাষার সুরক্ষা বিধানে ভূমিকা রাখার দায়িত্বও এখন আমাদের ওপর অর্পিত। সেদিকে লক্ষ্য রেখে আমরা পৃথিবীর সকল ভাষার উৎপত্তি ও বিকাশ নিয়ে গবেষণা এবং সংরক্ষণ ও চর্চার জন্য আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইন্সটিটিউট প্রতিষ্ঠা করেছি।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, তৎকালীন জাতিসংঘ মহাসচিব কফি আনানকে নিয়ে এই ইনস্টিটিউট নির্মাণের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হলেও ২০০১ সাল পরবর্তী বিএনপি-জামায়াত সরকার আওয়ামী লীগ সরকারের অন্যান্য উন্নয়ন কর্মসূচির মত এরও নির্মাণ বন্ধ করে দিয়েছিল।

বাংলাকে জাতিসংঘের দাপ্তরিক ভাষা ঘোষণার জন্য তাঁর সরকারের জোর প্রচেষ্টা অব্যাহত রাথার তথ্য উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আপনারা জানেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান জাতিসংঘে বাংলায় ভাষণ প্রদান করে বিশ্বের দরবারে এ ভাষার গৌরব ও মর্যাদা প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। সরকার প্রধানের দায়িত্ব লাভ করে আমি নিজেও জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে নিয়মিত বাংলায় ভাষণ দিয়ে আসছি।’