ব্রেকিং নিউজ

রাত ৩:০৮ ঢাকা, শুক্রবার  ২১শে সেপ্টেম্বর ২০১৮ ইং

খালেদা জিয়া
বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া, ফাইল ফটো

‘শফিক রেহমান-মেয়র মান্নানের মুক্তি চেয়েছেন খালেদা জিয়া’

আজ সকালে সাংবাদিক শফিক রেহমান এবং গতকাল রাতে গাজীপুরের মেয়র মান্নানকে গ্রেফতার করা হয়। এ ঘটনায় তীব্র নিন্দা, প্রতিবাদ জানিয়ে বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়া এক বিবৃতিতে তাদের বিরুদ্ধে দায়েরকৃত মামলা প্রত্যাহার ও নি:শর্ত মুক্তি দাবি করেছেন।

বিবৃতিতে বিএনপি চেয়ারপার্সন বলেন, “বর্তমান ভোটারবিহীন অবৈধ সরকার কষ্টার্জিত বাংলাদেশ নামক স্বাধীন রাষ্ট্রের জনগণের বিরুদ্ধে এখন যুদ্ধ শুরু করেছে। সরকারের অপকীর্তি ও লাগামহীন দুর্নীতির কারনে পায়ের নীচের মাটি সরে যাওয়ায় দিশেহারা হয়ে দেশকে নিক্ষেপ করা হচ্ছে এক ভয়ংকর অতল গভীর খাদে। মানুষের ভোটাধিকার হরণের পর বাকস্বাধীনতাও কেড়ে নেয়া হয়েছে। সাংবাদিকদের কন্ঠরোধ করতে তাদের ওপর চলছে দলন-পীড়ণ। রাষ্ট্রযন্ত্রকে ব্যবহার করে সাজানো মিথ্যা মামলায় জড়িয়ে দেশের প্রতিথযশা সাংবাদিক ও সম্পাদকদেরও গ্রেফতার ও নির্যাতন করা হচ্ছে। অনির্বাচিত সরকারের প্রধানমন্ত্রী এখন দেশের স্পষ্টভাষী ও সত্য উচ্চারণে অকুন্ঠ বিদ্ব্যৎজনদেরকেও নির্মুলের মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করছে তাঁর পছন্দের আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর কিছু সংখ্যক সদস্যদের দিয়ে।

তাদের সেই দুরভিসন্ধি ও নির্মম আচরণের বহি:প্রকাশ ঘটলো অশীতিপর, দুর্জয় সাহসী সাংবাদিক ও কলামিষ্ট শফিক রেহমানকে গ্রেফতারের মধ্য দিয়ে। তাঁকে গ্রেফতার করা হয়েছে এজন্য যে, তিনি বর্তমান শাসগোষ্ঠীর অনাচার, ব্যর্থতা ও কুপমন্ডুকতার বিরুদ্ধে অবিচল নির্ভয়ে লিখে যান। এই ঘৃন্য অপকর্মটি করার আরেকটি কারন হলো-বর্তমান সরকার প্রধানের গণবিরোধী, অগণতান্ত্রিক ও স্বেচ্ছাচারী নীতি শফিক রেহমান তাঁর শাণিত লেখনির দ্বারা ফুটিয়ে তোলেন। শফিক রেহমান সত্য উচ্চারণে অবিচল ও সাহসী এক কলমযোদ্ধা। সেই কারনে তাঁকে কব্জা করতে না পেরে গ্রেফতার করা হয়েছে, এটি সরকারের চরম স্বেচ্ছাচারিতারই বহি:প্রকাশ। দেশে আজ সম্মানী ব্যক্তি ও সুধীজনদের মানহানী, গ্রেফতার করে কন্ঠরোধ এবং নির্যাতনের মাধ্যমে তাঁদের নির্বাক করার হীন অপচেষ্টার কোনো অন্ত নেই। এটাই বর্তমান সরকারের সাধারণ বৈশিষ্ট্য। আমি বর্তমান ভোটারবিহীন সরকারের উদ্দেশ্যে দ্ব্যর্থহীন কন্ঠে বলতে চাই-মামলা, হামলা, খুন, জখম, গুম, অপহরণসহ নানাবিধ বিভৎস অনাচার ঢাকতেই আপনারা শফিক রেহমানকে গ্রেফতার করেছেন। এর প্রধান লক্ষ্যই হচ্ছে জনদৃষ্টিকে ভিন্নখাতে প্রবাহিত করা। আমি আরও দ্ব্যর্থহীন কন্ঠে বলতে চাই-বাক, ব্যক্তি, লেখনি, ভাষণ, মূদ্রণের স্বাধীনতাসহ জনগণের সকল গণতান্ত্রিক অধিকারের প্রতি সম্মান প্রদর্শণ করুন। দেশে শান্তি ও স্থিতিশীলতা বিপন্ন করবেন না। আপনি কখনোই শফিক রেহমানের মতো ঋজু ও আত্মশক্তিতে বলিয়ান কলমযোদ্ধাকে মিথ্যা মামলা দিয়ে গ্রেফতার করে পর্যদুস্ত করতে পারবেন না। কারন আপনার সরকার আজ গণবিচ্ছিন্ন ও জনগণের শত্রুপক্ষ। আমি অবিলম্বে দেশের বিশিষ্ট সাংবাদিক শফিক রেহমানের বিরুদ্ধে দায়েরকৃত বানোয়াট মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার ও তাঁর নি:শর্ত মুক্তি দাবি করছি।”

অনুরুপ এক বিবৃতিতে বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়া গতরাতে গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের নির্বাচিত মেয়র অধ্যাপক এম এ মান্নানকে গ্রেফতারের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন। তিনি বলেন, বর্তমান সরকার অনির্বাচিত হওয়ায় নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের তাদের পছন্দ নয়। তাই সম্পূর্ণ রাজনেতিক প্রতিহিংসায় তারা নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের গ্রেফতার ও নির্যাতন করছে। একদলীয় শাসনকে দীর্ঘায়িত করতেই দীর্ঘ এক বছর কারাভোগের পর উচ্চ আদালত থেকে জামিনে থাকা মেয়র মান্নানকে সাজানো মিথ্যা মামলায় আবারো গ্রেফতার করা হয়েছে। এ ঘটনায় বিএনপি চেয়ারপার্সন গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে অবিলম্বে গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের নির্বাচিত মেয়র অধ্যাপক এম এ মান্নান এর বিরুদ্ধে দায়ের করা সাজানো মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার ও নি:শর্ত মুক্তি দাবি করেন।