Sheersha Media

ব্রেকিং নিউজ

সকাল ১১:২৪ ঢাকা, মঙ্গলবার  ২০শে নভেম্বর ২০১৮ ইং

সাংবাদিক শফিক রেহমান এর ফাইল ফটো

শফিক রেহমানের বাসা থেকে জয় হত্যাচেষ্টার নথি পেয়েছে দাবি পুলিশের

পাঁচ দিনের রিমান্ডে থাকা সাংবাদিক শফিক রেহমানকে সঙ্গে নিয়ে তার বাসায় অভিযান চালিয়ে প্রধানমন্ত্রীর তথ্য প্রযুক্তি উপদেষ্টা ও তার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয়কে হত্যাচেষ্টা সংক্রান্ত নথিপত্র জব্দ করেছে বলে দাবি পুলিশ।

মঙ্গলবার ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক ব্রিফিংয়ে একথা জানান ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার মনিরুল ইসলাম।

তিনি জানান, জয়কে হত্যাচেষ্টার ষড়যন্ত্রকারীদের সঙ্গে বৈঠক এবং অর্থ লেনদেনের কথা রিমান্ডে স্বীকার করেছেন সাংবাদিক শফিক রেহমান।

রিমান্ডে দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে মঙ্গলবার তার ইস্কাটনের বাসায় অভিযান চালায় ডিবি পুলিশ।

এ সময় জয়কে যুক্তরাষ্ট্রে অপহরণ ও হত্যা চেষ্টার পরিকল্পনার অভিযোগ সংক্রান্ত বেশ কিছু নথিপত্র জব্দ করা হয়েছে বলে জানান মনিরুল ইসলাম।

মঙ্গলবার দুপুরে শফিক রেহমানকে সঙ্গে নিয়ে তার ইস্কাটনের বাসায় এই অভিযান চালানো হয় বলে জানান জয়কে অপহরণ ও হত্যাচেষ্টা মামলার তদারকি কর্মকর্তা ও ডিবির উপ-কমিশনার মাশরুকুর রহমান খালেদ।

তিনি জানান, শফিক রেহমানের বাসা থেকে জয়ের বাড়ি, গাড়ির নম্বরসহ প্রাথমিক কিছু তথ্য ও গোপনীয় কিছু নথিপত্র জব্দ করেছে গোয়েন্দারা।

খালেদ আরও জানান, শফিক রেহমান রিমান্ডে জানিয়েছেন, এফবিআই এজেন্ট রবার্ট লাস্টিকের কাছ থেকে এ নথিপত্রগুলো যোগাড় করে তিনি নিজের সংরক্ষণে রেখেছিলেন।

এদিকে অভিযানের পর ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার মনিরুল ইসলাম বলেন, যুক্তরাষ্ট্রে দণ্ডিত রিজভী আহমেদ সিজার, এফবিআই এজেন্ট রবার্ট লাস্টিক এবং এই দুজনের মধ্যস্ততাকারী লাস্টিকের বন্ধু জোহানেস থালের সঙ্গে বৈঠকের কথা শফিক রেহমান রিমান্ডে স্বীকার করেছেন।

তিনি বলেন, ‘২০১২ সালে জাসাস নেতা ও তার ছেলে রিজভী আহমেদ সিজারের সঙ্গে একাধিকবার বৈঠকের কথা স্বীকার করেছেন শফিক রেহমান। তিনি যুক্তরাষ্ট্রে সজীব ওয়াজেদ জয় সম্পর্কে নানান তথ্যও বিভিন্ন সময় সংগ্রহ করেছেন। তাকে জিজ্ঞাসাবাদে এসব তথ্য পাওয়ার পর তার বাসা থেকে বেশ কিছু কাগজপত্র জব্দ করা হয়েছে।’

মনিরুল ইসলাম জানান, জয়কে আমেরিকায় অপহরণ ও হত্যা চেষ্টার ঘটনায় বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সংশ্লিষ্ঠতা আছে কিনা তাও জানার চেষ্টা করছে পুলিশ।

তিনি বলেন, ‘শফিক রেহমানকে জিজ্ঞাসাবাদে অনেক তথ্য পাওয়া গেছে। এরপর মাহমুদুর রহামানকেও রিমান্ডে নেয়া হবে। তারপরই বলা যাবে তারেক রহমানের সংশ্লিষ্ঠতা আছে কি না।’

গত শনিবার সকালে শফিক রেহমানকে তার বাসা থেকে আটক করে ডিবি পুলিশ। পরে তাকে সজীব ওয়াজেদ জয়কে অপহরণ ও হত্যাচেষ্টার মামলায় গ্রেফতার দেখিয়ে পাঁচ দিনের রিমান্ডে নেয়া হয়।