হাসিনা নিজ থেকেই শেষ হয়ে যাবে: খালেদা – শকুনের দোয়ায় গরু মরে না: হাসিনা

শনিবার নারায়ণগঞ্জ জেলার কাঁচপুর বালুর মাঠে এক জনসভায় বিএনপি চেয়ারপরসন বেগম খালেদা জিয়া বলেছিলেন, ‘হাসিনা যত দিন থাকবে, মানুষের কাছ থেকে তত নিগৃহীত হবে। হাসিনাকে কেউ মারতে চায় না। হাসিনাকে মারার প্রয়োজন নাই। হাসিনা নিজ থেকেই শেষ হয়ে যাবে। আল্লাহর তরফ থেকেই গজব নেমে আসবে।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, যুদ্ধাপরাধীদের রক্ষায় বুদ্ধিজীবী হত্যাকারীদের নিয়ে বিএনপি’র আন্দোলন সফল হবে না কেননা দেশের মানুষ সবসময়ই তাদের আন্দোলন প্রত্যাখ্যান করেছে।
‘খালেদা জিয়া বিজয়ের মাসে কড়া আন্দোলনের হুমকি দিয়েছেন। ১৯৭১ সালের যুদ্ধাপরাধীদের রক্ষায় দেশের কৃতি সন্তানদের হত্যাকারীদের সঙ্গে নিয়ে তাদের আন্দোলন সফল হবে না।’ অতীতের মতোই জনগণ তাদের অশুভ নীল নকশা ভ-ুল করে দেবে।
শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবসের আলোচনা প্রধানমন্ত্রী আজ এ কথা বলেন। আজ সন্ধ্যায় রাজধানীর খামারবাড়ীতে বাংলাদেশ কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশনের বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ এ আলোচনা সভার আয়োজন করে।
সংসদের উপনেতা ও দলের সিনিয়র প্রেসিডিয়াম সদস্য সৈয়দা সাজেদা চৌধুরী এতে সভাপতিত্ব করেন।
আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদ সদস্য আমির হোসেন আমু, তোফায়েল আহমেদ ও সুরঞ্জিত সেন গুপ্ত, প্রেসিডিয়াম সদস্য বেগম মতিয়া চৌধুরী ও অ্যাডভোকেট সাহারা খাতুন, যুগ্ম সম্পাদক মাহবুবুল আলম হানিফ ও জাহাঙ্গীর কবির নানক, সাংগঠনিক সম্পাদক এএফএম বাহাউদ্দিন নাসিম, খাদ্যমন্ত্রী অ্যাডভোকেট কামরুল ইসলাম, ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি এমএ আজিজ ও সাধারণ সম্পাদক মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন।
শহীদ সাংবাদিক সিরাজুদ্দিন হোসেনের পুত্র এবং শহীদ ডা. আলিম চৌধুরীর মেয়ে তাদের পিতাদের ওপর অত্যাচারের বর্ণনার স্মৃতিচারণ উপস্থিত সুধীদের হৃদয় বেদনা আক্রান্ত করে তোলে।
রাজাকার ও আলবদরদের নিয়ে শনিবার নারায়ণগঞ্জের জনসভায় বিএনপি নেতার বক্তব্যের তীব্র নিন্দা জানান প্রধানমন্ত্রী।
তিনি প্রশ্ন তুলে বলেন, কিভাবে তিনি শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবসের একদিন আগে রাজাকার, আলবদর ও জামায়াতে ইসলামীদের সঙ্গে একই মঞ্চে বক্তব্য রাখলেন ?
শেখ হাসিনা বলেন, মঞ্চে খালেদা জিয়ার সঙ্গে জামায়াতে ইসলাম নেতা ছিল এবং সেখানে ব্যানার, ফেস্টুন ও বেলুনে যুদ্ধাপরাধীদের ছবি প্রদর্শনের পাশাপাশি রাজাকার ও আল-বদর নেতারা জনসভায় ছিলেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, যুদ্ধাপরাধী ও বুদ্ধিজীবী হত্যাকারীদের রক্ষায় এই জনসভার আয়োজন করা হয়। এই জনসভা থেকে খালেদা জিয়া যুদ্ধাপরাধীদের রক্ষায় আমার প্রতি অভিশাপ (গজব নাজিল) দিয়েছেন।
শেখ হাসিনা বলেন, শকুনের দোয়ায় গরু মরে না ‘যদি এমন ঘটতো তাহলে একটি গরুও বেঁচে থাকতো না।’
তিনি বলেন, দেশে কতিপয় শকুন আছে যারা যুদ্ধাপরাধীদের বাঁচাতে চায় এবং দেশকে ধ্বংস করতে চায়।
এ প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, যুদ্ধাপরাধীদের রায় ঘোষিত হচ্ছে এবং রায় বাস্তবায়ন হচ্ছে। ইনশাআল্লাহ দেশকে দীর্ঘদিনের কলঙ্ক থেকে মুক্তি দিতে সকল রায় বাস্তবায়ন হবে।
পাকিস্তানের দালালরা যাতে কখনো ক্ষমতায় আসতে না পারে, লোকদের হত্যা এবং জনগণের ভাগ্য নিয়ে ছিনিমিনি খেলতে না পারে সে জন্য দেশবাসীকে সজাগ থাকার আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী।
তিনি শহীদ বুদ্ধিজীবীদের স্বপ্ন বাস্তবায়নে দেশকে আরো এগিয়ে নিতে নতুন করে শপথ নেয়ার জন্য দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানান।
তিনি বলেন, ১৯৭১ সালে শহীদ দেশের কৃতি সন্তানদের জন্য ক্ষুধা ও দারিদ্র মুক্ত বাংলাদেশ গড়ে তুলতে আমাদের নতুন করে শপথ নিতে হবে।

সর্বশেষ সংশোধিত: