ব্রেকিং নিউজ

রাত ৮:২২ ঢাকা, মঙ্গলবার  ২৩শে অক্টোবর ২০১৮ ইং

লাঠিপেটা করে বলেই পদদলনের ঘটনা ঘটে, নিহত:২৭, তদন্ত কমিটি গঠন

ময়মনসিংহ পৌরসভার কাছে নুরানী জর্দ্দা ফ্যাক্টরীতে যাকাতের কাপড় নিতে এসে পদদলিত হয়ে কমপক্ষে ২৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। শুক্রবার ভোরের এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরো অর্ধ শতাধিক। ভোর পৌঁণে ৫টার দিকে যাকাতের জন্য গেটের ভিতর প্রবেশ করতে চাইলে ফ্যাক্টরীর কর্মচারীরা বাঁধা দেয় এবং ভিতর থেকে লাঠিপেটা করে বলেইপদদলনের ঘটনা ঘটে ।ঘটনা তদন্তে পৃথক দুটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। এঘটনায় ফ্যাক্টরীর মালিক শামীম তালুকদারসহ সাত জনকে আটক করেছে পুলিশ। ধর্মমন্ত্রী আলহাজ্ব অধ্যক্ষ মতিউর রহমান নিহতদের প্রতি শোক ও সমবেদনা জ্ঞাপন করেছেন। তিনি তার পক্ষ থেকে নিহত প্রত্যোক পরিবারকে ১০ হাজার টাকা করে এবং জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিহত সকল পরিবারকে দাফনের জন্য ১০ হাজার টাকা প্রদানের ঘোষণা দেয়া হয়।

পুলিশ মৃতের সংখ্যা ২৭ জন বলে নিশ্চিত করেছেন। তবে এ সংখ্যা আরো বাড়তে পারে।
নিহতদের মধ্যে ২৫ জনের নাম-পরিচয় পাওয়া গেছে। আহতদের মধ্যে ৪ জনকে গুরুত্বর অবস্থায় ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
এঘটনায় পুলিশ প্রশাসন ও জেলা প্রসাশনের পক্ষ থেকে পৃথক দুটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। পুলিশ প্রশাসন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আব্দুল্লাহ আল মামুনকে প্রধান করে এবং জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিষ্ট্রেট মল্লিকা খাতুনকে প্রধান করে ৩ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। কমিটিকে আগামী তিন দিনের মধ্যে রিপোর্ট প্রদানের নির্দেশ দেয়া হয়েছে।
নিহতরা হলো- শহরের পাটগুদাম বিহারী ক্যাম্পের সিরাজুলের ছেলে সিদ্দিক (১২), নুরু ইসলামের স্ত্রী সখিনা (৪০) ও তার মেয়ে লামিয়া (০৫), মৃত বারেকের স্ত্রী সামু বেগম (৬০), মৃত জুম রাতির স্ত্রী হাজেরা খাতুন (৭০), মৃত্যুঞ্জয় স্কুল রোডের বসাক পট্রির গবিন্দ বসাকের স্ত্রী মেঘলা বসাক (৫৫), শহরের ধোপাখলা এলাকার নারায়ন চন্দ্র সরকারের স্ত্রী সুধা রানী সরকার (৫৫), মৃত বজেন্দ্র’র স্ত্রী রিনা (৬০), মৃত সুলতান মিয়ার স্ত্রী জামেনা বেওয়া (৬৫), চরপাড়া এলাকার হায়দার আলীর স্ত্রী হামিদা বেগম (৪৫), আকুয়া দক্ষিণ পাড়ার জালালের স্ত্রী নাজমা বেগম (৫০), ফজলু মিয়ার স্ত্রী মোমতাজ বেগম (৪০), সালামের স্ত্রী ফাতেমা বেগম (৫৫), আকুয়া দরগাপাড়ার রাজা মিয়ার স্ত্রী নাজমা আক্তার (৬০), রবি হোসেনের স্ত্রী ফাতেমা বেগম (৫২), কাঠগোলা বাজারের আব্দুল মজিদের স্ত্রী রেজিয়া আক্তার (৫৫), কাঠগ্লোা ডোলাদিয়ার রতন মিয়ার কন্যা রুবি অক্তার (১২), কাঁচারীঘাট এলাকার মাহাতাব উদ্দিনের স্ত্রী ফজিলাতুন নেসাম (৭৫), থানাঘাট এলাকার আব্দুস সালেকের স্ত্রী খোদেজা বেগম (৫০), চর ঈশ্বরদিয়ার লালু মিয়ার স্ত্রী সুফিয়া খাতুন (৬০), তারাকান্দা থানার বালিডাঙ্গা গ্রামের মোসলেম মিয়ার স্ত্রী মরিয়ম (৫০), কালিবাড়ি এলাকার শফিকুল ইসলামের স্ত্রী আঙ্গুরী বেগম (৩৫). ত্রিশালের বালিপাড়া গ্রামের আঞ্জু মিয়ার স্ত্রী সাহরন বেগম (৪০) ও জামালপুর জেলার হরিণাকান্দা গ্রামের আবুল হোসেনের কন্যা ইতি বেগম (১২)।
প্রতি বছরের মতো এবারও ময়মনসিংহ শহরের অমৃত বাবু রোড এলাকার বাসিন্দা নুরানী জর্দ্দা ফ্যাক্টরীর স্বত্ত্বাধিকারী শামীম তালুকদার যাকাত দেয়ার ঘোষণা দেন। শহরের বিহারী ক্যাম্প, দুলদুল ক্যাম্প ও থানাঘাট বস্তিসহ শহরের বস্তি এলাকায় হতদরিদ্রদের মাঝে ৬’শ কার্ড বিতরণ মাধ্যমে শুক্রবার সকাল থেকে যাকাতের ওই শাড়ী-লুঙ্গি প্রদানের দিন ধার্য্য করে। সেই লক্ষে সেহরির পর থেকে আনুমানিক দুই থেকে তিন হাজার লোক অপেক্ষা করতে থাকে ওই বাড়ীর সামনেসহ আশপাশের অলিগলিতে।
ভোর পৌঁণে ৫টার দিকে যাকাতের জন্য গেটের ভিতর প্রবেশ করতে চাইলে ফ্যাক্টরীর কর্মচারীরা বাঁধা দেয় এবং ভিতর থেকে লাঠিপেটা করে। এসময় হুড়োহুড়ো করে ভীরের চাপে পদদলিত হয়ে ঘটনাস্থলেই ৮ থেকে ১০ জন এবং মৃত্যু হয়। আহত হয় অর্ধ শতাধিক। পরে স্থানীয়রা তাদের ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে সেখানে মারা যায় আরো ১০/১২ জন।
ঘটনার পরপর জেলা প্রশাসন ও পুলিশ ২৫জনের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করে বলেন, এ সংখ্যা আরো বাড়তে পারে। নিহতদের মধ্যে ১০টায় এরিপোর্ট লিখা পর্যন্ত হাসপাতাল মর্গ থেকে পুলিশ দুই জনের লাশ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করেছেন। নিহতদের মধ্যে ২০ মহিলা ও তিন শিশু রয়েছে। মহিলাদের বেশিরভাগই বয়োবৃদ্ধ।
ঘটনার পর জেলা প্রশাসন ও পুলিশ প্রশাসন ঘটনাস্থল ও ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল পরিদর্শন করেন। একসাথে এতগুলো মৃত্যুর খবর শুনে শোক ও সমবেদনা জানান সিঙ্গাপুরে চিকিৎসাধীন ধর্মমন্ত্রী আলহাজ্ব অধ্যক্ষ মতিউর রহমান। তিনি নিহত প্রত্যেক পরিবারকে ১০ হাজার টাকা করে প্রদানের ঘোষনা দেন। এছাড়া জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিহত প্রত্যোক পরিবারের সদস্যদের ১০ হাজার টাকা করে প্রদান করেন।