Press "Enter" to skip to content

লাখো যৌনকর্মী ‘টুইটার’ ছেড়ে ‘সুইটারে’

অ্যামেরিকার নতুন আইনের পর টুইটার ছেড়ে যৌনকর্মীরা নতুন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম সুইটারে যোগ দিচ্ছে৷ মাইক্রোব্লগিং ওয়েবসাইট সুইটার ডট অ্যাট-এ ১ লাখের বেশি যৌনকর্মী যোগ দিয়েছেন৷ খবর ডি ডব্লিওয়ের।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মূলত মানবপাচার প্রতিরোধের জন্য আইন পরিবর্তন করলেও অ্যামেরিকার এই সিদ্ধান্তে যৌনকর্মীদের প্রতি সহিংসতা বৃদ্ধির আশঙ্কা রয়েছে৷

এক দশকেরও বেশি সময় ধরে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে যৌনকর্মীদের উপস্থিতি রয়েছে৷ মাইক্রোব্লগিং সাইট টুইটার এসকর্ট বা যৌনকর্মীদের সুরক্ষার জন্য নানা ধরনের সুবিধা দিতো৷ বিশেষ করে সম্ভাব্য ক্লায়েন্টের সামনে ভিন্ন নামে পরিচয় গোপন করে উপস্থিত হওয়ার সুযোগ দিতো৷ তাছাড়া রাস্তায় দাঁড়িয়ে খোঁজার বদলে বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে খুব সহজে টুইটারই সম্ভাব্য মক্কেলের কাছে যৌনকর্মীদের পৌঁছানোর মতো সুযোগ করে দিতো৷

কিন্তু চলতি বছরের এপ্রিলে অ্যামেরিকার কংগ্রেসে যখন ‘শর্ট ফর ফাইট অনলাইন সেক্স ট্রাফিকিং অ্যাক্ট অ্যান্ড স্টপ সেক্স ট্রাফিকার্স অ্যাক্ট, রেসপেক্টিভলি’, সংক্ষেপে এফওএসটিএ বা এসইএসটিএ চালু হয়, তখন যৌনকর্মীরা বিপাকে পড়েন৷

কেননা, নতুন আইনটি অপ্রাপ্তবয়স্কদের যৌনব্যবসায় জড়িয়ে পড়া এবং পাচার প্রতিরোধের লক্ষ্যে তৈরি করা হয়েছে৷ ফলে ইন্টারনেট সার্ভিস প্রোভাইডারদের বলা হয়েছে, এ ধরনের কিছু তাদের ওয়েবসাইট বা প্লাটফর্মে থাকলে তারাও দায়ী থাকবেন৷

কিন্তু এই আইনে প্রাপ্তবয়স্ক যৌনকর্মীরাও নানামুখী বাধার সম্মুখীন হচ্ছেন৷ ফলে তাঁরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন৷

যৌনকর্মীদের উন্নয়ন এবং সুবিধায় তথ্য-যোগাযোগ প্রযুক্তির ব্যবহার নিয়ে কাজ করে অস্ট্রেলিয়া ভিত্তিক এমন একটি সংস্থা অ্যাসেম্বলি ফোর৷ যৌনকর্মীদের এই সমিতিই টুইটারের বিকল্প ‘সুইটার’ এবং এর সহযোগী সাইট ‘ট্রাইস্ট’ চালু করেছে৷ আর এ জন্য কিনেছে অস্ট্রিয়ার ডোমেইন৷

এই সমিতির একজন মুখপাত্র বলেন, ‘‘অ্যামেরিকায় পাশ হওয়া ওই বিলটির মানে হচ্ছে, যৌনকর্মীরা এখন যে প্লাটফর্মই ব্যবহার করবেন, তাতেই দায় থাকবে৷ এমনকি যৌনকর্মীরা যদি ব্যক্তিগতভাবেও কোনো সাইট ব্যবহার করেন, তাহলে ওই সাইট কর্তৃপক্ষ দায় এড়াতে পারবে না৷ এর ফলে আমরা ইতোমধ্যে দেখেছি রেডিট, ক্রেইগসলিস্ট এবং স্কাইপ তাদের নীতি পরিবর্তন শুরু করেছে এবং নীরবে আমাদের তাদের প্লাটফর্মগুলোতে নিষিদ্ধ করছে৷ বিশেষ করে অ্যামেরিকায় যৌনকর্মীদের জন্য এই প্লাটফর্মগুলো খুবই জরুরি৷ এটি যৌনকর্মীদেরকে রাস্তায় দাঁড়িয়ে খদ্দের খোঁজার ঝুঁকির মধ্যে ফেলে দিতে পারে৷ অনেক সময়ই এতে তাঁদের জীবনবিনাশকারী পরিস্থিতির মুখোমুখি হওয়ার আশঙ্কা বেড়ে গেল৷”

‘সুইটার’ ডোমেইন অস্ট্রিয়ায় খোলার কারণ হচ্ছে সেখানে যৌনকর্ম আইনগতভাবে বৈধ এবং যৌনকর্মীরা নিজেদের কাজ সম্পূর্ণ নিরাপত্তা ও ব্যক্তিগত গোপনীয়তা বজায় রেখেই করতে পারেন৷

switter

twitter

শেয়ার অপশন: