Sheersha Media

ব্রেকিং নিউজ

সকাল ৮:৫৯ ঢাকা, বুধবার  ১৪ই নভেম্বর ২০১৮ ইং

লন্ডনে তথ্য প্রযুক্তিখাতে বাংলাদেশে ৩ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের চুক্তি স্বাক্ষর

তথ্য প্রযুক্তিখাতে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সাথে বাংলাদেশে ৩ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে।
লন্ডনে ইউকে বাংলাদেশ ই-কর্মাস ফেয়ারের উদ্বোধনী দিনে শুক্রবার চারটি প্রতিষ্ঠানের সাথে বাংলাদেশ হাইটেক পার্ক অথোরিটির মোট ২ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের চুক্তি স্বাক্ষর হয়েছে।
যুক্তরাজ্য ও সিঙ্গাপুরভিত্তিক মোট চারটি প্রতিষ্ঠান আগামী ৫ বছরে বাংলাদেশে তথ্য প্রযুক্তি খাতে এই বিনিয়োগের ব্যাপারে আগ্রহ প্রকাশ করে।
এছাড়া সিঙ্গাপুরভিত্তিক টেলিকম এন্ড আইটি প্রতিষ্ঠান টেলিকম এশিয়া ই-কমার্স ফেয়ারে প্রস্তাবিত ১ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের খাত হিসেবে মোবাইল পেমেন্ট গেটওয়ে, ট্রিপল প্লে, আইটি এন্ড টেলিকমিউনিকেশন্স কনজিউমার প্রোডাক্ট ও বিশেষায়িত প্রযুক্তি পার্ককেই বিনিয়োগের জন্য বিবেচনায় রাখছে বলে জানিয়েছেন টেলিকম এশিয়া প্রধান নির্বাহী মোহাম্মদ শাফায়েত আলম।
বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ ও তথ্য প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনায়েদ আহমেদ পলকের উপস্থিতিতে বাংলাদেশ সরকারের পক্ষে এই চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন হাইটেক পার্কের ব্যবস্থাপনা পরিচালক হোসনে আর বেগম। অন্যদিকে বিনিয়োগকারী প্রতিষ্ঠান সিমার্কের পক্ষে প্রতিষ্ঠানের চেয়ারম্যান ইকবাল আহমেদ, টেলিকম এশিয়ার প্রধান নির্বাহী মোহাম্মদ শাফায়েত আলম ও টেকশেডের পক্ষে চুক্তিপত্রে স্বাক্ষর করেন টেকশেড ইউকে’র ব্যবস্থাপনা পরিচালক সুশান্ত দাশ গুপ্ত।
বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে শনিবার একথা বলা হয়।
বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ এর আগে শুক্রবার লন্ডনে দুই দিনব্যাপী মেলার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন।
তোফায়েল আহমদ বাংলাদেশকে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার সবচেয়ে দ্রুতবর্ধনশীল অর্থনীতির দেশ আখ্যা দিয়ে বলেন, তথ্য প্রযুক্তিখাতে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় অগ্রণী ভূমিকায় থাকবে বাংলাদেশ। এ সময় তিনি ব্রিটেন প্রবাসীদের দেশে বিনিয়োগের আহ্বান জানান। দেশের তথ্য প্রযুক্তি, ওষুধ শিল্প, জাহাজ নির্মাণ, পাট ও এগ্রো প্রসেসিং শিল্পকে সবচেয়ে সম্ভাবনাময় ও লাভজনক বিনিয়োগের খাত হিসেবে উল্লেখ করেন।
বাংলাদেশের গড় প্রবৃদ্ধি হার আর্ন্তজাতিকভাবে প্রশংসনীয় হচেছ দাবি করে মন্ত্রী বলেন, একটি সত্যিকারের ডিজিটাল বাংলাদেশ বির্নিমাণে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা অত্যন্ত আন্তরিকতার সাথে কাজ করে যাচ্ছেন। তিনি জানান, দেশে বিদেশী বিনিয়োগের সব ধরনের নিরাপত্তা দিতে সরকার অঙ্গীকারবদ্ধ। মন্ত্রী ইউরোপে শুল্কমুক্ত ওষুধ রফতানির ব্যাপারে সরকারের উদ্যোগের কথা জানান। যা আগামী ৭ বছরের জন্য কার্যকর থাকবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
উদ্বোধনী বক্তৃতায় তথ্য ও প্রযুক্তি বিষয়ক মন্ত্রী জুনায়েদ আহমদ পলক বাংলাদেশের হাইটেক পার্কে বিনিয়োগ সম্ভাবনার দিক তুলে ধরে বলেন, দেশের প্রত্যেকটি সেক্টরকে ডিজিটাল রূপ দিতে আগামী ২ বছরে ১ লাখ তরুণকে আইসিটি ট্রেনিংয়ের আওতায় নিয়ে আসার পাশাপাশি দেশের সকল বিভাগে হাইটেক পার্ক গড়ে তোলার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার।
অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন যুক্তরাজ্যে নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনার মোহাম্মদ আব্দুল হান্নান, ব্রিটেনের অল পার্টি পার্লামেন্টারী কারী গ্রুপের চেয়ার পল স্কেলী এমপি, জন রেডউড এমপি, সেকেন্ড ই-কমার্স ফেয়ারের অন্যতম স্পন্সর এনআরবি ব্যাংকের চেয়ারম্যান ইকবাল আহমদ, প্রধান আয়োজক কম্পিউটার জগৎ-এর চীফ এক্সিকিউটিভ আব্দুল ওয়াহিদ তমাল, এফবিসিসিআই‘র সভাপতি আব্দুল মাতলুব আহমদ ও ইভেন্ট ডাইরেক্টর রহিম মিয়া।
ব্রিটিশ এমপি পল স্কেলী বাংলাদেশের ক্রমবর্ধমান অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির ভূয়সী প্রশংসা করে বলেন, বাংলাদেশ নিয়ে ব্রিটেনে ব্যাপক আগ্রহ রয়েছে। এখানে বসবাসরত বাংলাদেশীরা চাইলে দেশের উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে পারবেন। বাংলাদেশীদের হাতে গড়া কারী শিল্প ব্রিটিশ অর্থনীতিতে প্রতিবছর যোগ করছে প্রায় ৫ বিলিয়ন পাউন্ড। পল স্কেলী বাংলাদেশের আইসিটি খাতে ব্রিটিশ বিনিয়োগের আগ্রহ প্রকাশ করেন।
মেলার উদ্বোধনের আগে লন্ডনের অভিজাত ক্রিস্টাল ভেন্যুতে আয়োজিত নৈশভোজে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন হাউজ অব লর্ডস সদস্য পলা মঞ্জিলা উদ্দিন, এফবিসিসিআই’র সভাপতি আব্দুল মাতলুব আহমদ, বাংলাদেশ হাইকমিশনের কমার্শিয়াল কন্স্যুলার শরিফা খান, বাংলাদেশ ক্যাটারার্স এসোসিয়েশনের (বিবিসএ)প্রেসিডেন্ট পাশা খন্দকার, ইউকেবিসিসিআই’র সভাপতি বজলুর রশীদ, যুক্তরাজ্য আওয়ামী লীগের সভাপতি সুলতান মাহমুদ শরীফ, ব্রিটিশ কারী এওয়ার্ডের ফাউন্ডার এনাম আলী, মেলার অন্যতম আয়োজক টেকশেড-এর চীফ এক্সিকিউটিভ সুশান্ত দাশ গুপ্তসহ শতাধিক ব্যবসায়ী ও কমিউনিটি নেতৃবৃন্দ।
আইসিটি মন্ত্রণালয়, হাইটেক অথোরিটি ও কম্পিউটার জগতের উদ্যোগে আয়োজিত দ্বিতীয় ই-কর্মাস ফেয়ারে বাংলাদেশ ও ব্রিটেনের তথ্য প্রযুত্তি বিষয়ক অর্ধশতাধিক প্রতিষ্ঠান অংশ নিয়েছে।
মেলা চলবে ১৪ নভেম্বর পর্যন্ত।
ব্রিটেনের আইটি ও টেলিকমিউনিকেশ সেক্টরের শীর্ষ কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণে দু’দিনব্যাপী ই-কমার্স ফেয়ারের মোট ৬টি পৃথক সেমিনার ছাড়াও আগ্রহী বিনিয়োগকারদের উপস্থিতিতে বিটুবি সেশন অনুষ্ঠিত হয়েছে।