Sheersha Media

ব্রেকিং নিউজ

দুপুর ১:৪৮ ঢাকা, শুক্রবার  ১৬ই নভেম্বর ২০১৮ ইং

লন্ডনি বাতাসে আমাদের রাজনীতিতে উত্তাপ

tarique20-12-1চিকিৎসার জন্য বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমান দীর্ঘদিন যুক্তরাজ্যের লন্ডনে অবস্থান করছেন। দেশে ফেরার কোনো সম্ভাবনা না থাকলেও তিনি যুক্তরাজ্য বিএনপির বিভিন্ন অনুষ্ঠানে নিয়মিত অংশগ্রহণ করছেন। এসব রাজনৈতিক অনুষ্ঠানে তার দেওয়া বক্তব্য নিয়ে বাংলাদেশের রাজনৈতিক অঙ্গন বারবার উত্তপ্ত হচ্ছে।

তারেক রহমানের বিতর্কিত বক্তব্যকে কেন্দ্র করে আওয়ামী লীগের সভাপতি প্রধানমন্ত্রী থেকে শুরু করে অন্যান্য নেতাদের তীব্র প্রতিবাদ ও প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। সারাদেশে বিভিন্ন থানায় তার বিরুদ্ধে ১৩ টি মামলা হয়েছে। ইতোমধ্যে কয়েকটি মামলায় গ্রেফতারি পরোয়ানাও জারি হয়েছে।

লন্ডনে বিএনপির বিভিন্ন রাজনৈতিক অনুষ্ঠানে তিনি একের পর এক বক্তব্য দিয়েই যাচ্ছেন। সম্প্রতি তিনি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে ‘রাজাকার’ বলে মন্তব্য করলে আবারও উত্তপ্ত হয় এদেশের রাজনৈতিক অঙ্গন। তারেক রহমান বলেন, একাত্তরে বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষণা আসার ঠিক আগে ইয়াহিয়া খানকে প্রেসিডেন্ট মেনে তার সঙ্গে সমঝোতা করেছিলেন শেখ মুজিবুর রহমান। এ সভায় তারেক আবারও তার বাবা জিয়াকে বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষক ও প্রথম রাষ্ট্রপতি বলে দাবি করেন। আওয়ামী লীগের মুক্তিযুদ্ধের প্রস্তুতি ছিল না দাবি করে এর পক্ষে এ কে খন্দকার এবং বদরুদ্দীন উমরের লেখা উদ্ধৃত করে শোনান তারেক। সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে বঙ্গবন্ধুকে ‘রাজাকার, খুনী ও পাকবন্ধু’ বলে মন্তব্য করেন তারেক রহমান।

pm16-12এই বক্তব্যের প্রেক্ষিতে তারেক রহমানকে ‘অশিক্ষিত জানোয়ার’ আখ্যায়িত করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, লেখাপড়া শেখেনি, জানোয়ারের মতো কথা বলে। জানোয়ারের শিক্ষা কিভাবে দিতে হয়, মানুষ তা জানে। মানুষের কাছ থেকে জানোয়ার যে শিক্ষা পায়, তাই দেওয়া উচিত এবং মানুষ তা দেবেও।

abdul-gaffarবিশিষ্ট সাংবাদিক ও কলামিস্ট আবদুল গাফ্ফার চৌধুরী বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমান জীবন্ত উন্মাদ বলে মন্তব্য করেছেন।

ফাইল ফটো

সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত খালেদা জিয়াকে ঘষেটি বেগম ও তারেককে ঘষেটি বেগমের পুত্র মিরন আখ্যা দিয়ে বলেন, ঘষেটি বেগমের পোলা সমস্ত সীমা ছাড়িয়ে গেছে। তার জিহ্বা কাটতে হবে।

ফাইল ফটো

খাদ্যমন্ত্রী এ্যাডভোকেট কামরুল ইসলাম তারেক রহমান মুক্তিযুদ্ধকে ধর্ষণ করছে বলে মন্তব্য করেছেন।

 

nasim10-12আওয়ামী লীগের সভাপতিমন্ডলীর সদস্য ও স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম বলেছেন, বিএনপিকে ডুবাতে বেগম জিয়ার দুর্নীতির বরপুত্র তারেক জিয়াই যথেষ্ট। তিনি তারেক জিয়াকে বিশ্ব বেয়াদব অভিহিত করেন।

ফাইল ফটো

আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব উল আলম হানিফ তারেক রহমানকে উন্মাদ হিসেবে আখ্যায়িত করে বলেছেন,তারেক রহমান সম্পর্কে কথা বলতে যে কোন মানুষেরই ঘৃণা বোধ হয়। কারণ সে একটা উন্মাদ জানোয়ারের মত। তার বিরুদ্ধে কথা বলা কুকুরের পায়ে কামড় দেয়ার সামিল।

ফাইল ফটো

নৌ-পরিবহন মন্ত্রী শাজাহান খান অভিযোগ করে বলেছেন, বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার ছেলে তারেক রহমান উন্মাদ, পাগল, কুলঙ্গার ও চরিত্রহীন।

 

ফাইল ফটো

আওয়ামী লীগের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক বলেন, বেগম খালেদা জিয়াকে অনুরোধ জানাবো- দয়া করে নিজের এবং পুত্রের মুখটা সামলান । দেশের মানুষের উপর পেট্রোলবোমা নিক্ষেপ ও নৃশংস হামলা পরিচালনার হিংস্র হায়েনার মতো মানসিকতা পরিহার করুন। তাতে দেশের মানুষ স্বস্তি পাবে। অন্যথায়, দেশের মানুষের রোষানলের আগুনে আপনি এবং আপনার পুত্র দুজনই দগ্ধ হবেন।

sohag s- leagueএ দিকে তারেককে ক্ষমা না চাইলে খালেদা জিয়াকে কোনো সমাবেশ করতে দিবে না বলে হুমকি দিয়েছে ছাত্রলীগ।

এছাড়াও এই বক্তব্যকে কেন্দ্র করে আওয়ামী লীগের প্রায় সব মন্ত্রী এবং নেতাই কম/ বেশী বিষেদগার করেছেন। এই ঘটনায় তারেক রহমানের নামে বিভিন্ন থানায় মামলা হয়েছে এবং কয়েকটিতে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়েছে।

তারেক রহমানের এই ধরণের বক্তব্য নতুন নয়। এর আগেও তিনি এমন বক্তব্য দিয়েছেন।

গত ২৯ সেপ্টেম্বর এক অনুষ্ঠানে বঙ্গবন্ধুকে ‘মানুষ হত্যাকারী’ বলে আখ্যায়িত করেন তারেক রহমান। এ অনুষ্ঠানে তারেক রহমান বলেন, ১৯৭১ সালের ৭ মার্চসহ বিভিন্ন সময় সুযোগ পাওয়া সত্ত্বেও স্বাধীনতা ঘোষণা না করে শেখ মুজিব যে ভুল করেছিলেন, প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান কিন্তু সেই ভুল করেননি। দেশের মানুষের মনের ভাষা বুঝতে পেরে ২৫ মার্চ রাতেই তাই স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়েছিলেন তিনি।

গত আগস্টের শেষের দিকে বঙ্গবন্ধুকে ‘কুলাঙ্গার’ ও আওয়ামী লীগকে ‘কুলাঙ্গার পার্টি’ বলে মন্তব্য করেন তারেক রহমান।

গত ৫ জানুয়ারির নির্বাচনের আগে আগে সমসাময়িক রাজনীতি ও ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের সমালোচনা করে তারেক একের পর এক ভিডিও বার্তা পাঠান তিনি। তার এ ভিডিও বার্তাগুলোকে আওয়ামী লীগের নেতারা আল কায়েদার পাঠানো ভিডিও বার্তার সাথে তুলনা করেন সে সময়।

গত ১১ জুন মালয়েশিয়ার কুয়ালালামপুরের পুত্রা ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারে মালয়েশিয়া বিএনপির অনুষ্ঠানে তারেক রহমান বলেন, শেখ হাসিনাকে রিমান্ডে নেওয়া হলে জিয়াউর রহমান হত্যার রহস্য বের হবে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমান। এসময় তিনি অভিযোগ করেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জিয়াউর রহমান হত্যার বিষয়ে জানতেন। হাসিনা দেশে ফেরার ১৭ দিন পরই কেন জিয়া খুন হলেন? হাসিনা কিছু যদি না জানবেন, তাহলে বোরকা পরে পালাচ্ছিলেন কেন?

গত ২৯ মে সন্ধ্যায় পূর্ব লন্ডনের ইলফোর্ডে এক মিলনায়তনে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের ৩৩তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে এক আলোচনা সভায় তারেক রহমান বলেন, শেখ মুজিব রাজনীতিক হিসেবে ব্যর্থ ছিলেন এবং জিয়া ছিলেন একজন সফল রাজনীতিক। এ অনুষ্ঠানে তিনি আরও বলেন, শেখ মুজিব জনগণের নিরাপত্তা বিধানের কথা বলে গুম, খুন ও বিরোধী দল দমনের জন্য রক্ষীবাহিনী গঠন করে আতঙ্কের জনপদ তৈরি করেন। অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির কথা বলে দুর্ভিক্ষ ডেকে আনেন।

গত ৯ এপ্রিল লন্ডনের ওয়েস্ট মিন্সটারের সেন্ট্রাল হলে আয়োজিত সুধী সমাবেশে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে প্রথম ‘অবৈধ প্রধানমন্ত্রী’ বলে উল্লেখ করেন তারেক রহমান।

২৬ মার্চ লন্ডনে এক আলোচনা সভায় তারেক রহমান বলেন, ৭ মার্চ কিংবা ২৫ মার্চ কোনো তারিখেই শেখ মুজিব স্বাধীনতার ঘোষণা দেননি। এমনকি তার দেয়ার ইচ্ছেও ছিল না। যদিও স্বাধীনতাকামী জনগণ তৎকালীন রাজনৈতিক নেতৃত্বের মুখে স্বাধীনতার ঘোষণা শুনতে চেয়েছিলো, কিন্তু তারা জনগণের মনের ভাষা বুঝতে ব্যর্থ হয়েছেন। তবে জিয়াউর রহমান সফল। সেদিন সাত কোটি বাঙালির স্বাধীনতার আকাঙ্ক্ষা অনুযায়ী জিয়াউর রহমান স্বাধীনতার ঘোষণা দেন।

বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমান দীর্ঘদিন ধরে লন্ডনে অবস্থান করছেন। তত্বাবধায়ক সরকারের সময় রিমান্ডে নিয়ে নির্যাতন করায় তার মেরুদন্ডের বেশ কয়েকেটি হাড় ভেঙ্গে যায়। এরপর আদালতের অনুমতি নিয়ে চিকিৎসার জন্য যুক্তরাজ্যে যান তিনি। তারেক রহমানের অসুস্থতার খবরাখবর ঠিকঠাক না পাওয়া গেলেও মাঝে মাঝেই লন্ডনে যুক্তরাজ্য শাখা বিএনপির বিভিন্ন অনুষ্ঠানে তিনি সক্রিয়।
আর লন্ডনে তারেক রহমানের দেয়া এসব বক্তব্যের তীব্র প্রভাব পড়ছে বাংলাদেশে। এদেশের রাজনৈতিক অঙ্গন উত্তপ্ত হচ্ছে তার বক্তব্যের প্রেক্ষিতে। আওয়ামী লীগের অনেক নেতা বিভিন্ন অনুষ্ঠানে তারেক রহমানের বিষেদগার করেন। আওয়ামী লীগের বিষেদগারের পাল্টা জবাব দিচ্ছে ছাত্রদল ও বিএনপির নেতারাও। ছাত্রলীগের খালেদা জিয়াকে সমাবেশ করতে না দেয়ার ঘোষণায় যে কোন সময় পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠার আশঙ্কা করা হচ্ছে কারন ছাত্রদলও পাল্টা বিবৃতি দিয়েছে। এ দিকে ২৭ ডিসেম্বর গাজীপুরে খালেদা জিয়ার সমাবেশ রয়েছে প্রতিহত করার ঘোষণা থাকায় অপ্রিতিকর কিছু ঘটার বিষয়টি একদম উড়িয়ে দেয়াও যায় না।