Sheersha Media

ব্রেকিং নিউজ

দুপুর ১২:০০ ঢাকা, সোমবার  ১৯শে নভেম্বর ২০১৮ ইং

শেখ হাসিনা - জোকো ইউদোদো

রোহিঙ্গা সংকটের সমাধান জরুরি : ইন্দোনেশিয়া

বাংলাদেশে সফররত ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্ট জোকো ইউদোদো রোববার রোহিঙ্গা ইস্যুর দ্রুত ও শান্তিপূর্ণ সমাধানের আহ্বান জানিয়েছেন।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কার্যালয়ে তাঁর সঙ্গে বৈঠককালে তিনি এ আহ্বান জানান।

আজ সকালে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্টের বরাত দিয়ে পররাষ্ট্র সচিব মো. শহিদুল হক বলেন, ‘বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের পরিপ্রেক্ষিতে যত দ্রুত সম্ভব রোহিঙ্গা সংকটের শান্তিপূর্ণ সমাধান জরুরি।’

মিয়ানমার সরকারের ওপর চাপ সৃষ্টির জন্যই বাংলাদেশ ও কক্সবাজারের রোহিঙ্গা শিবিরগুলোতে ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্ট এই সফর করছেন কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে পররাষ্ট্র সচিব বলেন, ‘নিঃসন্দেহে এটি মিয়ানমারের ওপর একটি চাপ। আমি মনে করি বাংলাদেশে আশিয়ান সদস্যভুক্ত কোন সরকার প্রধানের সফর ও রোহিঙ্গাদের দুরবস্থা সরেজমিনে প্রত্যক্ষ করা একটি বড় ধরনের ইস্যু।’

হক বলেন, বাংলাদেশ রোহিঙ্গা ইস্যুতে ইন্দোনেশিয়াসহ বিভিন্ন দেশের কাছ থেকে কূটনৈতিক সমর্থন চাইছে। জাকার্তা ইতোমধ্যেই জাতিসংঘ ও জাতিসংঘ মানবাধিকার পরিষদে রোহিঙ্গাদের পক্ষে অবস্থান নিয়েছে।

তিনি বলেন, ‘আমরা বিশ্বাস করি ইন্দোনেশিয়া এই ইস্যুতে আমাদের প্রতি তাদের সমর্থন অব্যহত রাখবে।’

পররাষ্ট্র সচিব বলেন, মিয়ানমার থেকে সহিংসতার কারণে প্রাণভয়ে পালিয়ে আসা লাখ লাখ রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দেয়া ও তাদের থাকা-খাওয়ার সব ধরনের ব্যবস্থা করার জন্য ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্ট প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভূয়সী প্রশংসা করেন।

পররাষ্ট্র সচিব বলেন, ব্যক্তিগত আলাপচারিতার মধ্যদিয়ে দুই নেতার আলোচনা শুরু হয়, পরে বিভিন্ন ইস্যু নিয়ে দুই দেশের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

তিনি বলেন, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ এগিয়ে নিতে একটি অগ্রাধিকারমূলক বাণিজ্য চুক্তি স্বাক্ষরের ব্যাপারে আলোচনা শুরু করতে বৈঠকে বাংলাদেশ ও ইন্দোনেশিয়া সম্মত হয়েছে।

হক বলেন, দ্ইু নেতা মনে করেন, দ্ইু দেশের মধ্যে বিপুল সম্ভাবনা থাকায় বাণিজ্য ও বিনিয়োগের উল্লেখযোগ্য অগ্রগতির সুযোগ রয়েছে।

তিনি বলেন, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ এগিয়ে নিতে উভয় পক্ষ একটি অগ্রাধিকারমূলক বাণিজ্য চুক্তি স্বাক্ষরের বিষয় আলোচনায় সম্মত হয়েছে।

তিনি আশা প্রকাশ করেন, এক সময় চুক্তি স্বাক্ষর হলে বাংলাদেশের রফতানি পণ্যের ক্ষেত্রে ইন্দোনেশিয়ায় রেয়াতি সুবিধা দেবে এবং এটি দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য ব্যবধান কমাতে সহায়ক হবে।

পররাষ্ট্র সচিব বলেন, সম্ভাবনাময় খাত উন্মুক্ত করতে সমুদ্রসম্পদ আহরণে একত্রে কাজ করতে উভয় পক্ষ সম্মত হয়েছে।

তিনি অবৈধ, অসমর্থিত ও অনিয়ন্ত্রিত মাছ ধরার বিরুদ্ধে সহযোগিতার ব্যাপারে যৌথ ঘোষণা এবং টেকসই মৎস্য আহরণ ব্যবস্থা উন্নয়নে সমুদ্র সম্পদ খাতে সহযোগিতা জোরদারে দুই দেশের স্বাক্ষরিত চুক্তির কথা উল্লেখ করেন।

শহিদুল হক বলেন, সরকার দেশের বিভিন্ন এলাকায় একশ’টি অর্থনৈতিক জোন প্রতিষ্ঠা করছে, প্রধানমন্ত্রী এসব অর্থনৈতিক জোনে ইন্দোনেশিয়ার বিনিয়োগের আহবান জানিয়েছেন।

পররাষ্ট্র সচিব বলেন, বাংলাদেশ দীর্ঘদিন ধরে আসিয়ানের (এএস ইএএন) সেক্টোরাল ডায়ালগ পার্টনার হওয়ার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।

এ ব্যাপারে ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্ট বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে অবহিত করেন যে, এ ক্ষেত্রে জাকার্তা ঢাকাকে সহযোগিতা দেবে।

শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমু, বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ, পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ এইচ মাহমুদ আলী, পররাষ্ট্র বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়াল আলম, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী জাহিদ মালেক, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব নজিবুর রহমান এবং পররাষ্ট্র সচিব শহীদুল হক বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন।