Press "Enter" to skip to content

রোহিঙ্গা নির্যাতন: সু চি’র বিরুদ্ধে আর্জেন্টিনায় মামলা

রোহিঙ্গাদের ওপর নির্যাতনে মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধের জন্য মিয়ানমারের নেত্রী অং সান সু চি’র বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে।

১৩ নভেম্বর সু চিসহ কয়েকজন সামরিক নেতার বিরুদ্ধে রোহিঙ্গা ও লাতিন আমেরিকান মানবাধিকার সংগঠনগুলো আর্জেন্টিনায় এ মামলা দায়ের করে।

রোহিঙ্গা মুসলিম এবং অন্য সংখ্যালঘু গোষ্ঠীর ওপর সামরিক বাহিনীর হামলার কারণে মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধের জন্য এই প্রথম কোনো আইনি পদক্ষেপের মুখোমুখি হতে যাচ্ছেন অং সান সু চি।

‘ইউনিভার্সাল জুরিসডিকশন’ বা ‘বৈশ্বিক বিচার-দায়বদ্ধতার’ আওতায় দায়ের করা মামলায় রোহিঙ্গাদের ওপর যুদ্ধাপরাধ ও মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ তুলে বলা হয়, এ ধরনের নৃশংস অপরাধ কেবল একটি জাতির প্রতি হয়নি, (বিচার না হলে) এটা যে কোথাও হতে পারে।

আইনজীবী টমাস ওজিয়া বলেন, অভিযোগে অপরাধী, সহযোগী ও তথ্য গোপনকারীদের ওপর নিষেধাজ্ঞা চায়া হয়েছে। আমরা আর্জেন্টিনার মাধ্যমে এটা করছি কারণ অন্য কোথাও এই অভিযোগ করার কোনও সম্ভাবনা নেই।

রোহিঙ্গাদের ওপর নির্মম নির্যাতনের কারণে ২০১৬ সালেই সু চির নোবেল শান্তি পুরস্কার ফিরিয়ে নেয়ার দাবি ওঠে। সেই সময় অনলাইনে তার নোবেল শান্তি পুরস্কার ফিরিয়ে নেয়ার জন্য এক আবেদনে স্বাক্ষর করেছেন লক্ষাধিক মানুষ।

এর আগে রোহিঙ্গাদের ওপর গণহত্যা চালানোর অভিযোগে জাতিসংঘের সর্বোচ্চ বিচারিক সংস্থা আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে (আইসিজে) মিয়ানমারের বিরুদ্ধে মামলা করেছে গাম্বিয়া। মিয়ানমার জাতিসংঘের জেনোসাইড কনভেনশনে স্বাক্ষরকারী দেশ হওয়ায় এই বিচার প্রক্রিয়া তাদের ওপর বিশাল চাপ সৃষ্টি করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচের (এইচআরডব্লিউ) এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, মূলত জেনোসাইড কনভেনশন লঙ্ঘনের অভিযোগে মামলাটি হয়েছে বলে ১০টি বেসরকারি সংস্থা জানিয়েছে। এর মধ্যে এইচআরডব্লিউও রয়েছে।

এইচআরডব্লিউর অ্যাসোসিয়েট ইন্টারন্যাশনাল জাস্টিস ডিরেক্টর পরমপ্রীত সিংহ বলেন, গাম্বিয়ার আইনি পদক্ষেপ বিশ্বের সর্বোচ্চ আদালতে একটি আইনি প্রক্রিয়ার সূচনা করল। যেটা প্রমাণ করতে পারে, রোহিঙ্গাদের ওপর মিয়ানমারের নিষ্ঠুরতা জেনোসাইড কনভেনশন লঙ্ঘন করেছে।

এই উদ্যোগকে সমর্থন করছে নো পিস উইদাউট জাস্টিস, ইউরোপিয়ান সেন্টার ফর কন্সটিটিউশনাল অ্যান্ড হিউম্যান রাইটস, দ্য ইন্টারন্যাশনাল ফেডারেশন ফর হিউম্যান রাইটস ও গ্লোবাল জাস্টিস সেন্টারের মতো সংস্থাও।

২০১৯ সালের সেপ্টেম্বরে জাতিসংঘ সমর্থিত স্বাধীন আন্তর্জাতিক তথ্য অনুসন্ধানী (ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং) মিশন সিদ্ধান্তে উপনীত হয় যে, রাখাইন রাজ্যে রোহিঙ্গা মুসলিমদের ওপর গণহত্যা ও নানা ধরনের বর্বর নির্যাতন চালিয়েছে মিয়ানমারের সামরিক বাহিনী।

গণহত্যা ঠেকানো, তদন্ত করা এবং এর শাস্তির আইন করার ক্ষেত্রে দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হয়েছে মিয়ানমার সরকার। মিশন বলেছে, নারীদের ওপর ধর্ষণ চালানো হয়েছে, এর প্রকৃতি ও মাত্রা থেকেই বোঝা যায় মিয়ানমারের ইচ্ছা ছিল রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীকে ধ্বংস করা।

বাংলাদেশ, কানাডা, যুক্তরাষ্ট্র, নাইজেরিয়া, তুরস্ক ও ফ্রান্স জোর দিয়ে বলেছে, রোহিঙ্গাদের ওপর মিয়ানমার গণহত্যা চালিয়েছে। মুসলিমপ্রধান দেশগুলোর সংস্থা ওআইসি তার ৫৭ সদস্য দেশকে উৎসাহিত করেছে, যেন তারা মিয়ানমারকে কাঠগড়ায় ওঠায়।

শেয়ার অপশন: