Press "Enter" to skip to content

রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নিবে মিয়ানমার

পররাষ্ট্রমন্ত্রী এএইচ মাহমুদ আলী সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, আশ্রয় নেয়া রোহিঙ্গাদের বাংলাদেশ থেকে ফিরিয়ে নেয়ার প্রস্তাব দিয়েছে মিয়ানমার।

সফররত অং সান সুচির প্রতিনিধি ও মিয়ানমারের মন্ত্রী কাও তিন্ত সয়ের সঙ্গে আজ রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন পদ্মায় প্রায় এক ঘন্টা ১৫ মিনিটের বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এ কথা জানান পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাহমুদ আলী।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া প্রত্যক্ষ করতে একটি যৌথ ওয়ার্কিং গ্রুপ গঠন করতে উভয় পক্ষ সম্মত হয়েছে।
তিনি বলেন, অত্যন্ত সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে বাংলাদেশ রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়ার জন্য প্রস্তাবিত চুক্তির একটি খসড়া মিয়ানমারের প্রতিনিধির কাছে হস্তান্তর করে।

মন্ত্রী বলেন, রোহিঙ্গা সংকটের শান্তিপূর্ণ সমাধানের জন্য ঢাকা আনান কমিশনের রিপোর্ট বাস্তবায়নের পরামর্শ দিয়েছে।
তিনি বলেন, বৈঠকে বাংলাদেশ সব ধরনের সন্ত্রাসী কর্মকান্ডের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি পুর্নব্যক্ত করেছে এবং নিরাপত্তা সহযোগিতা প্রশ্নে ফলপ্রসু আলোচনা হয়েছে।

মন্ত্রী বলেন, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান রোহিঙ্গা ইস্যু নিয়ে মিয়ানমার সরকারের সঙ্গে আলোচনার জন্য খুব শিগগির মিয়ানমার সফরে যাবেন। একটি শান্তিপূর্ণ উপায়ে রোহিঙ্গা সমস্যার সমাধানের ব্যাপারে আমরা আশাবাদি বলে তিনি উল্লেখ করেন।

যৌথ ওয়ার্কিং গ্রুপ গঠনের কোন সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে কী না এমন এক প্রশ্নের সরাসরি উত্তর এড়িয়ে গিয়ে মন্ত্রী বলেন, ‘প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে’ এবং ‘আমরা শান্তিপূর্ণ আলোচনার মাধ্যমে সংকটের সমাধান করব।’

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী মো. শাহরিয়ার আলম, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখ্য সচিব কামাল আবদুল নাসের চৌধুরী, পররাষ্ট্র সচিব মো. শহীদুল হক এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধতন কর্মকর্তাগণ বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন।

মন্ত্রী কাও তিন্ত সয়ে গত রাতে রাজধানীতে পৌঁছেন। তাঁর সফর প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত কর্মকর্তারা জানান, তিনি আজ দিন শেষে মিয়ানমারে ফিরে যাবেন।

মিয়ানমারের সংখ্যালঘু রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর স্রোতের মতো বাংলাদেশে অনুপ্রবেশের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক ব্যাপক চাপের মুখে স্টেট কাউন্সেলর অং সান সু চি মন্ত্রীকে ঢাকায় পাঠিয়েছেন।

মিয়ানমারের উত্তরাঞ্চলীয় রাখাইন রাজ্যে পুলিশ আউটপোস্টে সন্ত্রাসীদের হামলার অজুহাতে দেশটির সেনাবাহিনী সেখানে ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ চালালে ২৫ আগস্ট থেকে রোহিঙ্গারা বাংলাদেশে অনুপ্রবেশ শুরু করে।

Mission News Theme by Compete Themes.