Sheersha Media

ব্রেকিং নিউজ

সন্ধ্যা ৬:০০ ঢাকা, শুক্রবার  ১৬ই নভেম্বর ২০১৮ ইং

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা

“রোহিঙ্গাদের জন্য সহায়তা অব্যাহত থাকবে”

মিয়ানমার থেকে জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসন এবং এ দেশে তাদের অবস্থানকালে বাংলাদেশকে সহায়তা অব্যাহত রাখার ব্যাপারে আশ্বাস দিয়েছে ডেনমার্কের সরকার ও বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি (ডব্লিউএফপি)।

আজ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে তাঁর সরকারি বাসভবন গণভবনে সফররত ডেনমার্কের উন্নয়ন সহযোগী বিষয়কমন্ত্রী উলা পেডারসন টরনাস এবং ডব্লিউএফপি-এর নির্বাহী পরিচালক বিসলে সৌজন্য সাক্ষাতকালে এ আশ্বাস দেন।

প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব ইহসানুল করিম জানান, উলা পেডারসন টরনাস মূলত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে রোহিঙ্গা ইস্যু নিয়ে আলোচনা করেন এবং রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর জন্য ডেনমার্ক সরকারের মানবিক সহায়তা হিসেবে ৩৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলার প্রদানের সিদ্ধান্ত সম্পর্কে প্রধানমন্ত্রীকে অবহিত করেন।

ডেনমার্কের মন্ত্রী মিয়ানমারের বিপুলসংখ্যক বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠিকে আশ্রয় এবং তাদের জন্য খাদ্য ও স্বাস্থ্যসেবা এবং তাদের শিশু সন্তানদের শিক্ষার ব্যবস্থা করায় বাংলাদেশ সরকারের প্রশংসা করেন।

রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলোতে যেসব কর্মকর্তা-কর্মচারি আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করে যাচ্ছেন, তাদের অভিনন্দন জানিয়ে ডেনিশ মন্ত্রী বলেন, ‘বিপুলসংখ্যাক জনগোষ্ঠীকে আশ্রয় দেয়া বাস্তবিকভাবেই একটি বিরাট চ্যালেঞ্জ।’

উলা পেডারসন টরনাস বলেন, ক্যাম্পগুলো সফরকালে তিনি দেখেছেন সেখানকার পরিস্থিতি আগের তুলনায় পুরোপুরি বদলে গেছে।

শেখ হাসিনা বলেন, মিয়ানমার তার নাগরিকদের ফেরত নিতে সম্মত হওয়ায় রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া খুব শিগগিরই শুরু হবে। তিনি বলেন, প্রথম পর্যায়ে ৪৮৫টি পরিবারের ২ হাজার ২৬০ জন রোহিঙ্গা নিজ দেশে ফিরে যাবেন।

শেখ হাসিনা প্রত্যাবাসনের পরও রোহিঙ্গাদের জন্য সহায়তা অব্যাহত রাখতে ডেনিশ সরকার এবং ডব্লিউএফপি-এর প্রতি অনুরোধ জানান।

প্রধানমন্ত্রী মিয়ানমারের বলপূর্বক বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের জন্য অস্থায়ী আশ্রয়, স্বাস্থ্যসেবা এবং শিক্ষার জন্য তাঁর সরকারের গৃহীত বিভিন্ন পদক্ষেপ তুলে ধরেন।

তিনি বলেন, ক্যাম্পে প্রায় ১ হাজার ৬শ’টি স্কুল নির্মাণ করা হয় এবং তাতে ছেলে-মেয়েদের পাঠদানের জন্য শিক্ষিত রোহিঙ্গাদের নিয়োগ করা হয়।

শেখ হাসিনা বলেন, প্রাকৃতিক দুর্যোগের বিষয়টি মাথায় রেখে তাঁর সরকার বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের জন্য ভাসানচর নামক এলাকায় ‘ঘূর্ণিঝড় আশ্রয় কেন্দ্র’ নির্মাণের পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। তারা সেখানে নিরাপদ ও ভালো অবস্থায় বসবাস করতে পারবে।

ভাসানচরে আশ্রয় কেন্দ্র নির্মাণের জন্য সেখানে বাংলাদেশ নৌবাহিনী এবং প্রায় ৭ হাজার শ্রমিক কাজ করছেন উল্লেখ করে তিনি বলেন, রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসনের পর ওইসব আশ্রয় কেন্দ্র দেশের মানুষের জন্য ব্যবহার করা হবে।

প্রধানমন্ত্রী কক্সবাজারে ব্যাপকসংখ্যক রোহিঙ্গার আশ্রয়দানের ফলে স্থানীয় জনগণের দুর্ভোগের কথা তুলে ধরে বলেন, মিয়ানমারের নাগরিকরা স্থানীয় অধিবাসীদের চাষাবাদের জমি ব্যবহার করায় সরকার স্থানীয় জনগণকে বিভিন্নভাবে সাহায্য করেছে।

রোহিঙ্গা সংকটে বাংলাদেশকে অব্যাহত সমর্থন এবং তাদের (রোহিঙ্গা) মানবিক সহায়তা প্রদান করায় প্রধানমন্ত্রী ডেনমার্ক সরকারকে ধন্যবাদ জানান। তিনি এই সংকটে টেকসই সমাধানে অব্যাহত মনোযোগ দেয়ায় ডব্লিউএপি-কে বিশেষভাবে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন।

প্রেস সচিব বলেন, তাদের আলোচনায় আসন্ন জাতীয় নির্বাচনের প্রসঙ্গটিও উঠে আসে এবং প্রধানমন্ত্রী বলেন, যথাসময়েই এই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, নির্বাচন কমিশন (ইসি) নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করবে এবং সকল প্রশাসন ও আইন-শৃংখলা বাহিনী ইসি’র নিয়ন্ত্রণে থাকবে।

শেখ হাসিনা বিগত বছরগুলোতে বাংলাদেশের আর্থ-সামাজিক ক্ষেত্রে বিভিন্ন অর্জনের কথাও উল্লেখ করেন এবং বলেন, সামরিক শাসন, তথাকথিত সামরিক আইন ও অগণতান্ত্রিক শাসনের কারণে বাংলাদেশের অগ্রগতি বাধাগ্রস্ত হয়েছে।

তিনি বলেন, ‘বঙ্গবন্ধু একটি সামাজিক কল্যাণ রাষ্ট্রের স্বপ্ন দেখতেন। কিন্তু স্বাধীনতার মাত্র সাড়ে তিন বছরের মাথায় তাঁকে নৃশংসভাবে হত্যা করায় তিনি তাঁর স্বপ্ন পূরণ করতে পারেননি।’

ডেনমার্কের মন্ত্রী বাংলাদেশ ও ডেনমার্কের মধ্যে বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতার দীর্ঘ ইতিহাস স্মরণ করেন।
প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব মো. নজিবুর রহমান এবং প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সচিব সাজ্জাদুল হাসান এ সময় উপস্থিত ছিলেন।