ব্রেকিং নিউজ

রাত ৪:১৬ ঢাকা, রবিবার  ২৩শে সেপ্টেম্বর ২০১৮ ইং

রেলের ২৫০টি কোচ ও ১০টি ইঞ্জিন কেনা হবে

রেলসেবার মান বাড়াতে ও আধুনিকায়নে বাংলাদেশ রেলওয়ের জন্য ২৫০টি নতুন যাত্রীবাহী কোচ ও ১০টি ইঞ্জিন কেনা হবে।
এ লক্ষ্যে মঙ্গলবার জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় ২ হাজার ১শ’ আট কোটি টাকায় বাংলাদেশ রেলওয়ের জন্য পৃথক দ’টি প্রকল্পের অনুমোদন দেয়া হয়। এর মোট এ ব্যয়ের মধ্যে সরকার ৫৭৪ কোটি টাকা এবং এশিয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি) অবশিষ্ট ১৫৩৪ কোটি টাকা প্রকল্প সাহায্য হিসেবে দেবে। ২০১৯ সালের জুনের মধ্যে এ প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন হবে।
একনেক চেয়ারপার্সন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে পরিকল্পনা কমিশনে অনুষ্ঠিত এ সভায় রেলওয়ের প্রকল্প দু’টিসহ মোট ৬২৫১ কোটি টাকায় ১০টি প্রকল্পের অনুমোদন দেয়া হয়। অনুমোদিত প্রকল্পগুলোর মধ্যে ৭টি নতুন এবং ৩টি সংশোধিত। এর মোট ব্যয়ের ২৬৭৩ কোটি টাকা দেবে সরকার এবং অবশিষ্ট ৩৫৭৮ কোটি টাকা প্রকল্প সাহায্য হিসেবে পাওয়া যাবে।
বৈঠক শেষে পরিকল্পনা মন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল সাংবাদিকদের ব্রিফকালে রেলওয়ের প্রকল্প দুটো সম্পর্কে বলেন, এর মিটারগেজ এবং ব্রডগেজ প্যাসেঞ্জার ক্যারেজ সংগ্রহ প্রকল্পের আওতায় ১৩৭৪ কোটি টাকায় ২০০টি মিটার গেজ এবং ৫০টি ব্রড গেজ কোচ কেনা হবে। এছাড়া কোচগুলো পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার জন্য দু’টি ট্রেন ওয়াশিং প্ল্যান্টও কেনা হবে’।
মন্ত্রী বলেন, লোকোমোটিভ রিলিফ ক্রেন এবং লোকোমোটিভ সিমুলেটর সংগ্রহ নামে অপর অপর প্রকল্পে ৭৩৪ কোটি টাকায় ১০টি ইঞ্জিন, ৪টি অ্যাকসিডেন্ট রিলিফ ক্রেন এবং একটি লোকোমোটিভ সিমুলেটর কেনা হবে।
সভায় জানানো হয় যে, বর্তমান মিটার গেজে চলার উপযোগী ১১৬৫টি যাত্রীবাহী কোচের মধ্যে ৫৯১টির অবস্থা ভালো নয়। এছাড়া ব্রড গেজে চলাচলকারী ৩২৪টি কোচের মধ্যে ৭৮টির অর্থনৈতিক আয়ুস্কাল ইতোমধ্যে শেষ হয়েছে। এজন্য বাংলাদেশ রেলওয়ের পক্ষে আরামদায়ক ও নিরাপদ যাত্রীসেবা দেয়া সম্ভব হয় না।
মুস্তফা কামাল বলেন, ‘রেলওয়ের নতুন কোচগুলো ইন্টারসিটি ট্রেন হিসেবে চলবে এবং পুরোনো কোচগুলোর স্থলে নতুন কোচ সংযোজন করা হবে।
প্রকল্প দু’টি বাস্তবায়িত হলে যাত্রীরা নিরাপদ, উন্নত ও আরামদায়ক রেলসেবা পাবেন বলে মন্ত্রী আশাবাদ প্রকাশ করে বলেন, পুরোনো কোচগুলো পরবর্তীতে মেইল ট্রেন ও লোকাল ট্রেন হিসেবে সংযুক্ত হবে।
একনেকে ২৪ জেলায় মোট ৪৭১৫ মিটার দৈর্ঘের ৬১ টি ছোট ও মাঝারি সেতু নির্মাণে ২৯১২ কোটি টাকায় ‘ওয়েস্টার্ণ বাংলাদেশ ব্রীজ ইমপ্রুভমেন্ট প্রজেক্ট’ শীর্ষক একটি প্রকল্পের অনুমোদন দেয়া হয়। সেতুগুলোর মধ্যে ফরিদপুর (৬টি), মাদারীপুর (১টি), সিরাজগঞ্জ (৮টি), নাটোর (১টি), পাবনা (৪টি), নওগাঁ (১টি), রাজশাহী (২টি), বগুড়া (২টি), রংপুর (৪টি), জয়পুরহাট (২টি),লালমনিরহাট (১টি), গাইবান্ধা (২টি), দিনাজপুর (৫টি), নিলফামারী (১ টি), পঞ্চগড় (২টি), বাগেরহাট (২টি), যশোর (১টি), ঝিনাইদহ (২টি), কুষ্টিয়া (৩টি), বরিশাল (৭টি), পিরোজপুর (১টি), ঝালকাঠি (১টি), নরুসিংদী (১টি) এবং নড়াইল (১টি) সেতু নির্মিত হবে।
সভায় অনুমোদিত অন্যান্য প্রকল্প হচ্ছে- আধুনিক সুবিধাসহ ন্যাশনাল প্রোডাকটিভিটি অর্গানাইজেশন (এনপিও) ও পেটেন্ট, ডিজাইন ও ট্রেডমার্কস অধিদপ্তর (ডিপিডিটি)-এর অফিস ভবন নির্মাণ (৪৫ কোটি টাকা), ঢাকা জেলার দোহার উপজেলার আওরঙ্গাবাদ হতে ব্রাহা বাজার ঘাট পর্যন্ত পদ্মা নদীর বামতীর সংরক্ষণমূলক কাজ (২১৮ কোটি), নোয়াখালীল সোনাপুর- ফেনীর সানাগাজী-চট্টগ্রামের জোরারগঞ্জ সড়ক উন্নয়ন (১৭৩ কোটি), শেরেবাংলা নগরে বাংলাদেশ জাতীয় সচিবালয় কর্মকর্তা/কর্মচারীদের জন্য ৪৪৮টি ফ্ল্যাট নির্মাণ (সংশোধিত) (২১৮ কোটি টাকা), বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব প্রফেশনালস’র উন্নয়ন (২৫৭ কোটি টাকা), সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়ন (২য় সংশোধিত) (১১১ কোটি টাকা) এবং প্রাথমিক শিক্ষা উন্নয়ন প্রকল্প (১ম সংশোধিত) (২১০ কোটি টাকা)।
মন্ত্রীবর্গ, প্রতিমন্ত্রীবৃন্দ এবং পরিকল্পনা কমিশনের সদস্য ও সংশ্লিষ্ট সচিবগণ সভায় উপস্থিত ছিলেন।