Sheersha Media

ব্রেকিং নিউজ

সকাল ৬:৫৮ ঢাকা, সোমবার  ১৯শে নভেম্বর ২০১৮ ইং

ফাইল ফটো

রিজার্ভ হ্যাকিং: অর্থনীতিতে প্রভাব কিংবা মূদ্রানীতি বাধাগ্রস্থের আশঙ্কা নেই: প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, রিজার্ভ হ্যাকিংয়ের ঘটনায় মূদ্রানীতি বাধাগ্রস্থ হবারও কোন আশঙ্কা নেই। তিনি বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ হ্যাকিংয়ের ঘটনায় দেশের অর্থনীতিতে আপতত ক্ষতি হলেও দীর্ঘ মেয়াদে কোন প্রভাব পড়বে না। বিভিন্ন পদক্ষেপের ফলে ইতোমধ্যে কিছু অর্থ ফেরত পাওয়া গেছে। আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে বাকি অর্থও ফেরত আনা যাবে।

প্রধানমন্ত্রী আজ তাঁর জন্য নির্ধারিত প্রশ্নোত্তর পর্বে স্বতন্ত্র সদস্য হাজী মো. সেলিমের পক্ষে সরকারি দলের সদস্য আ খ ম জাহাঙ্গীর হোসাইনের এক প্রশ্নের জবাবে এ কথা বলেন।

শেখ হাসিনা বলেন, হ্যাকিংয়ের ঘটনার পর বাংলাদেশ ব্যাংকের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে যথোপযুক্ত পদক্ষেপ নেয়ার ফলে আরও বড় রকমের হ্যাকিং বন্ধ করা গেছে। একইসাথে ফিলিপাইন সরকারের সহযোগিতায় অর্থ ফেরত আনার তৎপরতার ফলে এ বিষয়ে সম্ভাব্য বিরূপ পরিস্থিতি ঠেকানো গেছে। এ বিষয়ে গঠিত তদন্ত কমিটি অন্তর্বর্তীকালীন একটি রিপোর্ট দিয়েছে। সে মোতাবেক নানামুখী পদক্ষেপ নেয়া হচ্ছে। এসব তৎপরতার ফলে বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ হ্যাকিংয়ের ঘটনা দেশের অর্থনীতিতে দীর্ঘ মেয়াদে কোন প্রভাব ফেলবে না।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, মুদ্রানীতি গ্রহণের প্রাক্কালে ২০১৬ এর জুনের শেষে যে পরিমাণ নিট বৈদেশিক সম্পদের (১ হাজার ৮৬৬ বিলিয়ন টাকা) লক্ষ্যমাত্রা প্রাক্কলন করা হয়েছে তার তুলনায় মার্চে শেষে প্রকৃত নিট বৈদেশিক সম্পদের পরিমাণ, রিজার্ভ হ্যাকিংয়ের পরেও দাঁড়িয়েছে অনেক বেশি অর্থাৎ ১ হাজার ৯৮১ বিলিয়ন টাকা। সুতরাং বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ হ্যাকিংয়ের ঘটনায় মূদ্রানীতি বাধাগ্রস্থ হবারও কোন আশঙ্কা নেই।

আ খ ম জাহাঙ্গীর হোসাইনের অপর এক সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে শেখ হাসিনা বলেন, সরকার কোন অফশোর ব্যাংকিং করার অনুমতি দেয়নি। যদিও বিশ্বের বিভিন্ন দেশে এ ব্যাংকিং ব্যবস্থা চালু রয়েছে। সরকার নতুন ব্যাংক স্থাপন ও এর শাখা খোলার অনুমতি দিয়েছে। অনিবাসী বাংলাদেশীদের জন্য ৩টি ব্যাংক স্থাপনের অনুমতি দেয়া হয়েছে। তারা দেশে ব্যাংক স্থাপন করেছে এবং বিদেশেও এর শাখা রয়েছে।

তিনি বলেন, অনেকে বিদেশে ব্যবসা করে টাকা আনে না। আবার অনেকে টাকা বাইরে নিয়ে যায়, এমন তথ্য আমাদের কাছে রয়েছে। ২০০৭-০৮ সালে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময়ে আতঙ্কিত হয়ে অনেকে বিদেশে টাকা পাঠিয়েছে। ২০০১ সাল থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত যারা ক্ষমতায় ছিল তাদের অনেকেই বিদেশে টাকা পাচার করেছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকার টাকা পাচার রোধ ও বিদেশে পাচারকৃত টাকা ফেরত আনতে যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। ইতোমধ্যে সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি নেত্রীর পুত্রের পাচারকৃত টাকা ফেরত আনা হয়েছে, যা বিরল দৃষ্টান্ত।