ব্রেকিং নিউজ

সকাল ৭:১৫ ঢাকা, বুধবার  ২৬শে সেপ্টেম্বর ২০১৮ ইং

ক্যাম সিন ওংগ ওরফে কিম ওংগ। ছবি: দি ফিলিপিন্স ডেইলি ইনকোয়ারার

রিজার্ভের ডলার চুরির ঘটনায় সন্দেহভাজন ছয়জনের বিরুদ্ধে তদন্ত

যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংকে সংরক্ষিত বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভের ৮ কোটি ১০ লাখ  ডলার হ্যাকের (চুরি) ঘটনায় জড়িত সন্দেহে ফিলিপাইনের ছয় ব্যক্তির বিরুদ্ধে তদন্ত করছে দেশটির অ্যান্টি মানিলণ্ডারিং কাউন্সিল (এএমএলসি)।অভিযুক্ত ছয় জন হলেন- মাইকেল ফ্রান্সিসকো ক্রুজ, জেসি ক্রিস্টোফার ল্যাগরোসাস, আলফ্রেড সান্তোস ভার্গারা, অ্যানরিকো টিওডোরো ভাস্কোয়েজ, উইলয়াম সো গো এবং ক্যাম সিন ওংগ (কিম ওংগ)।বৃহস্পতিবার দি ফিলিপিন্স ডেইলি ইনকোয়ারারের এক প্রতিবেদনে এই খবর জানানো হয়েছে। গত ২৯ ফেব্রুয়ারি এই সংবাদপত্রটিই সর্বপ্রথম বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ চুরির ঘটনার কথা জানায়।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সন্দেহভাজন ছয়জনের মধ্যে পাঁচজনই হলেন- ফিলিপিন্সের রিজল কমার্শিয়াল ব্যাংকিং কর্পোরেশনে (আরসিবিসি) অ্যাকাউন্টধারী। বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ চুরি করে প্রথমে আরসিবিসির এ সব অ্যাকাউন্টেই সরবরাহ করা হয়েছিল।

পরে এ সব অ্যাকাউন্ট থেকে চুরি করা টাকা তুলে নিয়ে ক্যাসিনোর মাধ্যমে সাদা করে হংকংয়ে পাচার করে দেয়া হয়।

গত ১৬ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. আতিউর রহমান ফিলিপাইনের ব্যাংকো সেন্ট্রালের গভর্নর আমান্ডো টেটাংকো জুনিয়রের কাছে সহযোগিতা চেয়ে লেখা এক চিঠিতে জানান, আরসিবিসির এসব অ্যাকাউন্টে জালিয়াতি করে সুইফট কোডের মাধ্যমে টাকা পাঠানো হয়েছিল।

এদিকে এএমএলসির প্রতিবেদনের ভিত্তিতে গত ১ মার্চ অভিযুক্ত ছয়জনের ব্যাংক অ্যাকাউন্ট ছয় মাসের জন্য ফ্রিজ (স্থগিত) করে দিতে ফিলিপাইনের চারটি ব্যাংকে নির্দেশ দেয় দেশটির আপিল আদালত কোর্ট অব অ্যাপিলাস (সিএ)।

ব্যাংক চারটির মধ্যে আরসিবিসি ছাড়াও রয়েছে ইস্ট ওয়েস্ট ব্যাংক, ব্যাংকো ডি ওরো ও ফিলিপাইন ন্যাশনাল ব্যাংক।

এ ছাড়া উইলয়াম সো গো’র কোম্পানি ‘সেঞ্চুরি টেক্স ট্রেডিং’র সকল ব্যাংক অ্যাকাউন্ট ফিজ করে দিতেও নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

আদালত জানিয়েছে, সন্দেহভাজন ছয়জন ও দুই প্রতিষ্ঠানের অ্যাকাউন্টে বেলজিয়ামভিত্তিক আন্তব্যাংক আর্থিক লেনদেনের নেটওয়ার্ক সুইফটের কোড ব্যবহার করে অর্থ পরিশোধের অননমোদিত নির্দেশনার প্রমাণ পাওয়া গেছে বলে তদন্তে প্রমাণ পেয়েছে এএমএলসি।

ইনকোয়ার জানিয়েছে, ক্রুজ, ল্যাগরোসাস, ভার্গারা ও ভাস্কোয়েজের প্রত্যেকে পাঁচশ’ ডলার করে দিয়ে গত বছরের ১৫ মে আরসিবিসি ব্যাংকে অ্যাকাউন্ট খোলে।

খোলার পর প্রায় নয় মাস অ্যাকাউন্টে কোনো লেনদেন হয়নি। গত ৫ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংকে সংরক্ষিত বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ থেকে ৮ কোটি ১০ লাখ ডলার স্থানান্তরের কাজেই প্রথম অ্যাকাউন্টগুলো ব্যবহার করা হয়।

এএমএলসির প্রতিবেদনের বরাতে কোর্ট অব অ্যাপিলাস জানিয়েছে, উইলয়াম সো গোর সঙ্গে ষড়যন্ত্র করে ক্রুজ, ল্যাগরোসাস, ভার্গারা ও ভাস্কোয়েজ বেআইনি হ্যাকিং ও ক্র্যাকিংয়ের কাজে এসব অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করে।

উল্লেখ্য, যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংক অব নিউইয়র্কে মজুদ বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভের অর্থ থেকে প্রায় ১ বিলিয়ন (১০০) কোটি ডলার বা ৭ হাজার ৬০০ কোটি টাকা হ্যাক করতে সুইফট কোডের মাধ্যমে ৩০টি ‘অ্যাডভাইস’ (পরামর্শ) পাঠানো  হয়েছিল।

এর মধ্যে গত ৫ ফেব্রুয়ারি ৫টি অ্যাডভাইস  কার্যকর হয়। যার মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের ব্যাংক থেকে রিজার্ভের মোট ১০১ মিলিয়ন  বা ১০ কোটি ১০ লাখ ডলার শ্রীলঙ্কা ও ফিলিপাইনে স্থানান্তর করা হয়।
এর মধ্যে শ্রীলঙ্কায় গেছে ২ কোটি  ডলার আর বাকি ৮ কোটি ১০ লাখ ডলার ফিলিপাইনে স্থানান্তর করা হয়।

তবে শ্রীলঙ্কার কেন্দ্রীয় ব্যাংক বিপুল পরিমাণের অর্থ লেনদেনের বিষয়ে সন্দেহ প্রকাশ করে ২ কোটি  ডলার আটকে দেয়। পরে জানা যায় এই অর্থ বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে স্থানান্তর করা হয়েছে। এরই মধ্যে এই টাকা উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে।

ফিলিপাইনে স্থানান্তর হওয়া টাকা কয়েকটি ক্যাসিনোর হাত ঘুরে দেশটি থেকে বেরিয়ে হংকংয়ে চলে গেছে। বাংলাদেশ ব্যাংক আশাবাদী এই টাকাও উদ্ধার করা সম্ভব হবে।