ব্রেকিং নিউজ

ভোর ৫:১৯ ঢাকা, বুধবার  ১৭ই জানুয়ারি ২০১৮ ইং

বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. আতিউর রহমান

“রিজার্ভের অর্থ পদ্মা সেতুসহ বড় প্রকল্পে বিনিয়োগের প্রস্তুতি”

বাংলাদেশ ব্যাংকের (বিবি) গভর্নর ড. আতিউর রহমান বলেছেন, অবকাঠামোগত উন্নয়নের জন্য পদ্মা সেতুসহ বড় ধরণের যে কোন প্রকল্পে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ থেকে অর্থ বিনিয়োগ করার জন্য বাংলাদেশ ব্যাংকের পূর্ণ প্রস্তুতি রয়েছে।
তিনি আরো বলেন, অবকাঠামোগত উন্নয়নের জন্য ৭ থেকে ৮ বিলিয়ন ডলারের অন্য কোন বড় প্রকল্পের প্রস্তাব পাওয়া গেলেও রিজার্ভ থেকে বৈদেশিক মুদ্রা বিনিয়োগ করা হবে।
শনিবার রাজধানীর মিরপুরে বিবিটিএ মিলনায়তনে বাংলাদেশ ব্যাংকের ৫ বছর মেয়াদী দ্বিতীয় কৌশলগত পরিকল্পনা (২০১৫-২০১৯) ঘোষণা উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
বিবি গভর্নর বলেন, সরকার নিজস্ব তহবিলে পদ্মা সেতু তৈরির ঘোষণা দেয়ার পর এ ধরণের প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে।
ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর এস কে সুর চৌধুরী রিজার্ভের টাকা ব্যয় করার বিষয়ে ব্যাখ্যা দিয়ে বলেন, ‘দেশের আমাদানি ব্যয় মেটানোর জন্য কমপক্ষে তিন মাসের ব্যয়ের টাকা রিজার্ভে রাখা জরুরি। আমাদের রিজার্ভে ২৬ বিলিয়ন ডলার রয়েছে, তা দিয়ে প্রায় ৭ মাসের ব্যয় মেটানো সম্ভব।
তিনি বলেন, ‘আমাদের পলিসি অনুযায়ী অবকাঠামোগত উন্নয়নে এখান থেকে অর্থ ব্যবহার করা হবে। দেশের ভেতরে যারা অবকাঠামো উন্নয়নে কাজ করে তাদেরকে দেড় থেকে ২ শতাংশ সুদে অর্থ দেয়া হবে।’
আগামী ৫ বছরের জন্য বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মপরিকল্পনার উল্লেখ করে আতিউর রহমান বলেন, অন্তর্ভুক্তিমূলক প্রবৃদ্ধি ও মূল্য স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে বিচক্ষণ মুদ্রানীতি গ্রহণ, রেগুলেটরি ও নজরদারি কাঠামো আরো জোরদার করা, টেকসই উন্নয়নের জন্য সামাজিক দায়বোধ, অন্তর্ভুক্তিমূলক এবং পরিবেশ বান্ধব অর্থায়নের ওপর গুরুত্ব দিয়ে দ্বিতীয় কৌশলগত পরিকল্পনা (২০১৫-২০১৯) প্রণয়ন করা হয়েছে।
তিনি জানান, এই পরিকল্পনায় ১৪টি কৌশল, এসব কৌশল বাস্তবায়নে ১০৫টি উদ্দেশ্য এবং মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদে ৩২০টি কর্মপরিকল্পনা নির্ধারণ করা হয়েছে। কর্মপরিকল্পনা মূল্যায়নে ৩৯৫টি সূচকও নির্ধারণ করা হয়েছে।
এই কৌশলগত পরিকল্পনা অনুযায়ী বাংলাদেশ ব্যাংকের সকল বিভাগ ও অফিসকে তাদের নিজ নিজ অপারেশনাল প্ল্যান তৈরি করতে হবে। এ প্ল্যান তৈরি ও বাস্তবায়নে বাংলাদেশ ব্যাংকের বিভাগ ও অফিস প্রধানগণ সামনে থেকে নেতৃত্ব দেবেন বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
গভর্নর আশা প্রকাশ করেন, কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়নের ফলাফল হিসেবে ৫ বছর পর পুরোপুরি আমলাতান্ত্রিক জটিলতামুক্ত একটি কেন্দ্রিয় ব্যাংক পাওয়া যাবে। তিনি বলেন, আমরা চাই বাংলাদেশ ব্যাংক হোক বিশ্বমানের কেন্দ্রিয় ব্যাংক, যেখানে কোনো আমলাতান্ত্রিক জটিলতা থাকবে না, নিয়ম-নীতি হবে সহজ ও সংখ্যায় কম, তবে তার প্রয়োগ হবে কঠিন।
অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে ডেপুটি গভর্নর আবু হেনা মো. রাজী হাসান ও নাজনীন সুলতানা, নির্বাহী পরিচালক মো. আহসানউল্লাহসহ বিভিন্ন ব্যাংকের প্রধান নির্বাহীরা উপস্থিত ছিলেন।