আদালত

রাসেলকে ৫ লাখ টাকা দিল গ্রিনলাইন, বাকি ৪৫ লাখ

রাজধানীর যাত্রাবাড়ীতে ফ্লাইওভারের ওপর গ্রিনলাইন পরিবহনের বাসচাপায় পা হারানো প্রাইভেটকার চালক রাসেল সরকারকে পাঁচ লাখ টাকার চেক দিয়েছে পরিবহনটির কর্তৃপক্ষ। একইসঙ্গে বাকি ৪৫ লাখ টাকা দিতে গ্রিনলাইন এক মাস সময় পেয়েছে।

বিচারপতি এফ. আর. এম. নাজমুল আহাসান ও বিচারপতি কে, এম কামরুল কাদের সমন্বয়ে গঠিত একটি হাইকোর্ট ডিভিশন বেঞ্চ আজ এ আদেশ দেন।

আদালতে রিটকারীর পক্ষে ছিলেন আইনজীবী খোন্দকার শামসুল হক রেজা ও আইনজীবী উম্মে কুলসুম স্মৃতি। গ্রিনলাইনের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী অজি উল্লাহ। সঙ্গে ছিলেন আইনজীবী আজিম উদ্দিন পাটোয়ারী।

গ্রিনলাইনের পক্ষে অজি উল্লাহ আজ সকালে মামলাটি উত্থাপিত হলে বলেন, গ্রিনলাইনের মালিক চিকিৎসা নিয়ে দেশে ফিরেছেন। তিনি আদালতে এসেছেন। আমাদের কিছু জটিলতা আছে। এ আদেশ বাস্তবায়ন করতে এক মাস সময় দরকার।

এসময় আদালত বলেন, কিছু বাস্তুবায়ন করে আজ বিকেল ৩টায় আদালতে আসুন। এরপর বিকেলে আদালত কক্ষেই রাসেল সরকারকে পাঁচ লাখ টাকার চেক দেয়া হয়।

গত বছরের ২৮ এপ্রিল মেয়র মোহাম্মদ হানিফ ফ্লাইওভারে কথা কাটাকাটির জেরে গ্রিনলাইন পরিবহনের বাসচালক ক্ষিপ্ত হয়ে প্রাইভেটকার চালকের ওপর দিয়েই বাস চালিয়ে দেন। এতে ঘটনাস্থলেই প্রাইভেটকার চালক রাসেল সরকারের (২৩) বাম পা বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। এ ঘটনায় হাইকোর্টে রিট আবেদন দায়ের করেন সংরক্ষিত আসনের তৎকালীন সংসদ সদস্য উম্মে কুলসুম স্মৃতি। এ রিটের প্রেক্ষিতে ২০১৮ সালের ১৪ মে রাসেলকে এক কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ কেন দেয়া হবে না- তা জানতে চেয়ে রুল জারি করে হাইকোর্ট। সম্প্রতি রাসেলের পক্ষ থেকে আদালতে জানানো হয়, বাস কর্তৃপক্ষ তার কোনো খোঁজ-খবর নেয়নি।

পরে গত ১২ মার্চ এ হাইকোর্ট বেঞ্চ রাসেল সরকারকে ৫০ লাখ টাকা দেয়ার আদেশের পাশাপাশি রাসেলের অন্য পায়ে অস্ত্রোপচারের প্রয়োজন হলে এবং কাটা যাওয়া বাম পায়ে সর্বাধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে কৃত্রিম পা লাগানোর খরচও গ্রিনলাইন পরিবহন কর্তৃপক্ষকে দিতে আদেশ দেন।