ব্রেকিং নিউজ

রাত ২:৫৭ ঢাকা, বৃহস্পতিবার  ২০শে সেপ্টেম্বর ২০১৮ ইং

রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকে জালিয়াতি বন্ধে নির্দেশনা আসছে

জালজালিয়াতি বন্ধে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্দেশনা হরহামেশাই অমান্য করার অভিযোগ উঠেছে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোর বিরুদ্ধে। বিশেষ করে সোনালী, জনতা, অগ্রণী ও রূপালী ব্যাংকের বিরুদ্ধে এ প্রবণতা বেশি। বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনা অনুযায়ী, প্রতি তিন মাস অন্তর বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে সার্বিক আর্থিক সূচক পাঠিয়ে থাকে। ব্যাংকগুলো যে আর্থিক অগ্রগতির সূচক বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে পাঠায়, তা বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই মিল পাওয়া যায় না। বাংলাদেশ ব্যাংকের তদন্তে ঋণ নবায়নসহ বিভিন্ন ঋণ জালিয়াতির তথ্য বেরিয়ে আসে। ঋণ নবায়ন থেকে শুরু করে খেলাপি ঋণের তথ্য প্রদর্শনসহ বিভিন্ন ধরনের ঋণ জালিয়াতির আশ্রয় নেয় এসব ব্যাংক। ব্যাংকগুলোর এ জালজালিয়াতি কমাতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে নতুন নির্দেশনা আসছে। জালিয়াতির ধরন হিসেবে সর্বনিম্ন ৫০ হাজার টাকা থেকে সর্বোচ্চ পাঁচ লাখ টাকা জরিমানা করা হবে। চলতি মাসেই ব্যাংকগুলোর সাথে বৈঠক করবে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। ইতোমধ্যে ব্যাংকগুলোর সার্বিক সূচক নিয়ে কাজ চলছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের এক সূত্র এ তথ্য জানিয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের এক সূত্র জানিয়েছে, ব্যাংকগুলোর জুন মাসের তুলনায় সেপ্টেম্বর প্রান্তিকে খেলাপি ঋণ বেড়ে গেছে। শুধু ছয় মাসেই দুই হাজার কোটি টাকার ওপরে খেলাপি ঋণ বেড়েছে। পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, গত মার্চ প্রান্তিকে ছিল ১৮ হাজার ৬৮৮ কোটি টাকা। আর গত সেপ্টেম্বর শেষে তা প্রায় ২০ হাজার ৮০০ কোটি টাকায় উন্নীত হয়েছে। খেলাপি ঋণ বেড়ে যাওয়ার পাশাপাশি ব্যাংক চারটির মন্দ ঋণও বেড়ে গেছে। গত মার্চ প্রান্তিকে চার ব্যাংকের মন্দ ঋণ ছিল ১৫ হাজার ৯২৪ কোটি টাকা, যা গত সেপ্টেম্বরে এসে দাঁড়িয়েছে পৌনে সতের হাজার কোটি টাকা। অর্থাৎ মোট খেলাপি ঋণের প্রায় ৮৫ শতাংশই মন্দ ঋণ। এ মন্দ ঋণের কারণে কাক্সিত হারে প্রভিশন সংরক্ষণ করতে পারছে না। শুধু সোনালী ও রূপালী ব্যাংকের প্রভিশন ঘাটতি হয়েছে এক হাজার ২০০ কোটি টাকা।
মন্দ ঋণ বেড়ে যাওয়ায় সোনালী ও রূপালী ব্যাংকের মূলধন ঘাটতি দেখা দিয়েছে। এর মধ্যে সোনালী ব্যাংকের মূলধন ঘাটতি দেখা দিয়েছে গত জুন শেষে এক হাজার ৫১১ কোটি টাকা ও রূপালী ব্যাংকের ২১৭ কোটি টাকা। সেপ্টেম্বর প্রান্তিকে আরো বেড়ে গেছে বলে জানা গেছে। এ দিকে ব্যাংকগুলোর বিশেষ করে সোনালী ব্যাংকের ঋণকার্যক্রম প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে। চার ব্যাংকের নগদ আদায়ও আগের তুলনায় কমে গেছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিযেছে, রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোর সেপ্টেম্বর প্রান্তিকের সামগ্রিক তথ্য নিয়ে বৈঠকে পর্যালোচনা করা হবে। একই সাথে ব্যাংকগুলোর সাথে সমঝোতা স্মারকের শর্ত অনুযায়ী লক্ষ্যমাত্রা অর্জন নিয়ে আলোচনা করা হবে। তবে ইতোমধ্যে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের হাতে ব্যাংকগুলোর যেসব তথ্য হাতে এসেছে তা বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই অর্জন হয়নি। যেমন শীর্ষ ঋণখেলাপিদের কাছ থেকে ঋণ আদায় বাড়েনি। আদায় বাড়েনি নগদ আদায়। বরং এ সময়ে লোকসানী শাখার পরিমাণ বেড়ে গেছে। এ ছাড়া খেলাপি ঋণ নিয়ে ব্যাংকগুলো যে তথ্য বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে পাঠিয়েছে, বাংলাদেশ ব্যাংকের তদন্তে ওই সব তথ্যেও গড়মিল দেখা দিয়েছে। বৈঠকে সামগ্রিক বিষয় নিয়েই পর্যালোচনা হবে। চলতি মাসের শেষ দিকে ব্যাংকগুলোর সাথে বৈঠক করার কথা রয়েছে বলে ওই সূত্র জানিয়েছে।