ব্রেকিং নিউজ

বিকাল ৪:১৫ ঢাকা, বৃহস্পতিবার  ২০শে সেপ্টেম্বর ২০১৮ ইং

ফাইল ফটো

রাষ্ট্রপতি ও মন্ত্রীবর্গের বেতন-ভাতা বাড়াতে সংসদে বিল উত্থাপন

রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রিসভার অন্য সদস্যদের বেতন-ভাতা বাড়াতে আলাদা তিনটি বিল উত্থাপন করা হয়েছে। এই বিলগুলো পাস হলে রাষ্ট্র ‍ও সরকারের কর্ণধারের বেতন-ভাতা প্রায় দ্বিগুণ হবে। বিলে রাষ্ট্রপতির নতুন বেতন ১ লাখ ২০ হাজার, প্রধানমন্ত্রীর বেতন ১ লাখ ১৫ হাজার, মন্ত্রীদের বেতন এক লাখ ৫ হাজার, প্রতিমন্ত্রীদের বেতন ৯২ হাজার এবং উপমন্ত্রীদের বেতন ৮৬ হাজার ৫০০ টাকা করার প্রস্তাব করা হয়েছে।
সোমবার সংসদ কাজে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী মতিয়া চৌধুরী ‘দ্য প্রেসিডেন্টস (রেমুনারেশন অ্যান্ড প্রিভিলেজ) (অ্যামেন্ডমেন্ট) বিল-২০১৬, ‘দ্য প্রাইম মিনিস্টারস (রেমুনারেশন অ্যান্ড প্রিভিলেজ) (অ্যামেন্ডমেন্ট) বিল-২০১৬ এবং ‘দ্য মিনিস্টারস, মিনিস্টার অফ স্টেট এন্ড ডেপুটি মিনিস্টারস’ (রেমুনারেশন অ্যান্ড প্রিভিলেজ) (অ্যামেন্ডমেন্ট) বিল- ২০১৬ উত্থাপন করেন।
এরপর বিলগুলো সাত দিনের মধ্যে পরীক্ষা করে সংসদে প্রতিবেদন দেয়ার জন্য আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটিতে পাঠানো হয়।
নতুন জাতীয় বেতন স্কেল ঘোষণা এবং দেশের আর্থ সামাজিক পরিপ্রেক্ষিত বিবেচনায় নিয়ে রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রীদের বেতন-ভাতা পুনর্নির্ধারণের প্রস্তাব করা হয়েছে বলে জানান মতিয়া।
বিলে রাষ্ট্রপতি ও মন্ত্রিসভার সদস্যদের বর্ধিত বেতন ২০১৫ সালের ১ জুলাই থেকে কার্যকরের প্রস্তাব করা হয়েছে।
রাষ্ট্রপতির বেতন ৬১ হাজার ২০০ থেকে বাড়িয়ে এক লাখ ২০ হাজার টাকা এবং বিমান ভ্রমণের বীমা কভারেজ ১৫ লাখ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২৭ লাখ টাকা করার প্রস্তাব করা হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রীর বেতন ৫৮ হাজার ৬০০ থেকে বাড়িয়ে এক লাখ ১৫ হাজার টাকা, মাসিক বাড়ি ভাড়া ৫০ হাজার থেকে বাড়িয়ে এক লাখ টাকা, দৈনিক ভাতা এক হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে তিন হাজার টাকা, বিমান ভ্রমণের বীমা কভারেজ ১৪ লাখ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২৫ লাখ টাকা এবং স্বেচ্ছাধীন তহবিল এক কোটি টাকা থেকে বাড়িয়ে দেড় কোটি টাকা করার প্রস্তাব করা হয়েছে।
একজন মন্ত্রীর বর্তমান বেতন ৫৩ হাজার ১০০ থেকে বাড়িয়ে এক লাখ ৫ হাজার টাকা, একজন প্রতিমন্ত্রীর বেতন ৪৭ হাজার ৮০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৯২ হাজার টাকা এবং একজন উপমন্ত্রীর বেতন ৪৫ হাজার ১৫০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৮৬ হাজার ৫০০ টাকা করার প্রস্তাব করা হয়েছে।
বিলে নিয়ামক ভাতা বাড়ানোর প্রস্তাবে একজন মন্ত্রীর জন্য ৬ হাজার থেকে ১০ হাজার টাকা, একজন প্রতিমন্ত্রীর জন্য চার হাজার থেকে বাড়িয়ে সাড়ে সাত হাজার টাকা এবং একজন উপমন্ত্রীর জন্য তিন হাজার থেকে বাড়িয়ে পাঁচ হাজার টাকা করার কথা বলা হয়েছে।
মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী ও উপমন্ত্রীদের বাড়ি ভাড়ার ক্ষেত্রে বিদ্যমান পদ্ধতি পরিবর্তনের প্রস্তাব করা হয়েছে। বর্তমান আইনে মন্ত্রিসভার একজন সদস্যকে সরকার থেকে বাড়ি বরাদ্দ দেয়া না হলে ভাতা দেয়া হত এবং বাড়ি বরাদ্দ দেয়ার পরেও ওই বাড়িতে না থাকলেও ভাতা দেয়া হত।
উত্থাপিত বিলে এই বিধান বিলুপ্ত করে বরাদ্দ দেয়া হোক বা না হোক, সরকারি বাড়িতে না থাকলে ভাতা দেয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে।
একজন মন্ত্রী বাড়ি ভাড়া পাবেন ৮০ হাজার টাকা, একজন প্রতিমন্ত্রী বা উপমন্ত্রী পাবেন ৭০ হাজার টাকা। সঙ্গে বাড়ি ব্যবস্থাপনা খরচ ও সকল ধরনের সেবাখাতের বিলও সরকার থেকে দেয়া হবে।
বিলে স্বেচ্ছাধীন তহবিল বাড়ানোর প্রস্তাবে একজন মন্ত্রীর জন্য বর্তমান চার লাখ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১০ লাখ টাকা, একজন প্রতিমন্ত্রীর জন্য তিন লাখ থেকে বাড়িয়ে সাড়ে সাত লাখ টাকা এবং একজন উপমন্ত্রীর জন্য তিন লাখ থেকে বাড়িয়ে পাঁচ লাখ টাকা করার কথা বলা হয়েছে।
সব মন্ত্রীদের বিমান ভ্রমনের জন্য বীমা কভারেজ বিদ্যমান ৫ লাখ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৮ লাখ করার প্রস্তাব করা হয়েছে।
এছাড়া একজন মন্ত্রীর দৈনিক ভাতা ৭৫০ থেকে বাড়িয়ে দুই হাজার টাকা এবং প্রতিমন্ত্রী ও উপমন্ত্রীর দৈনিক ভাতা ৬০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে দেড় হাজার টাকা করার প্রস্তাব করা হয়েছে।