Sheersha Media

ব্রেকিং নিউজ

দুপুর ১:৪৬ ঢাকা, রবিবার  ১৮ই নভেম্বর ২০১৮ ইং

রুহুল কবির রিজভী আহমেদ
বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী আহমেদ, ফাইল ফটো

রাষ্ট্রপতির বিরুদ্ধে সংবিধান লঙ্ঘনের অভিযোগ

প্রধান বিচারপতিকে বাদ দিয়ে আপিল বিভাগের অন্য বিচারপতিদের নিয়ে বৈঠক করে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদও সংবিধান লঙ্ঘন করেছেন বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপি।

সোমবার সকালে রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে দলটির পক্ষে সংবাদ সম্মেলনে এ অভিযোগ করেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী আহমেদ।

রিজভী বলেন, ‘প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহা অস্ট্রেলিয়া যাওয়ার পর তার বিরুদ্ধে দুর্নীতি, অর্থ পাচার, নৈতিক স্খলনসহ ১১টি অভিযোগ দাখিল করা হয়েছে। সুপ্রিম কোর্টের বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, প্রধান বিচারপতিকে বাদ দিয়ে আপিল বিভাগের অন্য বিচারপতিদের ডেকে নিয়ে রাষ্ট্রপতি বৈঠক করেছেন এবং তাদের বুঝিয়েছেন।’

তিনি আরও বলেন, ‘দেশের সংবিধান বিশেষজ্ঞরাও বলেছেন যে এটি সংবিধানে নেই। প্রধান বিচারপতিকে বাদ দিয়ে আপিল বিভাগের অন্য বিচারপতিদের নিয়ে বৈঠক করে রাষ্ট্রপতিও সংবিধান লঙ্ঘন করেছেন। এ ছাড়া প্রধান বিচারপতির বিদেশ যাওয়ার পর তার বিরুদ্ধে ১১ দফা অভিযোগ উত্থাপন সুপ্রিম কোর্টের ইতিহাসে নজিরবিহীন ঘটনা। বিচার বিভাগের সর্বোচ্চ মর্যাদার আসনটিকে এভাবে কালিমালিপ্ত করার ঘটনা ইতিহাসে আর কখনও ঘটেনি।’

প্রধান বিচারপতিকে নিয়ে সৃষ্ট সমস্যার দিকে দৃষ্টিপাত করে রিজভী বলেন, ‘জনগণ কোনটি বিশ্বাস করবে- তাকে ছুটি দিয়ে বিদেশ পাঠানো ক্যান্সার রোগজনিত অসুস্থতা, নাকি তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগ।’

বিএনপির সিনিয়র এ নেতা বলেন, ‘প্রধান বিচারপতির ওপর আরও বেশি চাপ সৃষ্টি করার জন্যই এমন অভিযোগ করা হয়েছে। জোর করে সন্ত্রাসী কায়দায় জালিয়াতির মাধ্যমে প্রধান বিচারপতিকে ছুটিতে পাঠিয়ে দেশ ছাড়তে বাধ্য করার পর এখন চূড়ান্ত পদক্ষেপ পদত্যাগ করাতেই হঠাৎ এসব অভিযোগ তোলা হয়েছে বলে জনগণ বিশ্বাস করে।’

তিনি প্রশ্ন তোলেন, ‘রাষ্ট্রপতি যদি প্রধান বিচারপতির বিরুদ্ধে এত অভিযোগ পেয়েই থাকেন, তা হলে তিনি সংবিধানের ৯৬ অনুচ্ছেদ প্রয়োগ করলেন না কেন? এ প্রশ্ন এখন আইনাঙ্গনে ঘুরপাক খাচ্ছে। সর্বোচ্চ আদালতের সর্বসম্মত রায়ের পর সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিল পুনর্বহাল হওয়ার কথা। নিয়ম হল- প্রধান বিচারপতির বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ উঠলে সে অভিযোগগুলো রাষ্ট্রপতি সুপ্রিম কোর্টের জুডিশিয়াল বিভাগে তদন্তের জন্য পাঠাবেন। তদন্ত শেষে যদি প্রমাণিত হয় তা হলে বিচারপতিকে অপসারণ করবেন, আর যদি প্রমাণিত না হয়, তা হলে তিনি স্বপদে বহাল থাকবেন।’

রাষ্ট্রপতি তা না করে আপিল বিভাগের অন্য বিচারপতিদের নিয়ে বৈঠক করে কেন অভিযোগ শোনালেন তা এখন আর মানুষের বুঝতে বাকি নেই বলে মন্তব্য করেন রিজভী আহমেদ।

সংবাদ সম্মেলনে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, হাবিব-উন-নবী খান সোহেল, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আবুল বাশার প্রমুখ।

 

আরো পড়তে পারেন

সিনহার বিরুদ্ধে ১১ অভিযোগ : সুপ্রিমকোর্টের বিবৃতি