ব্রেকিং নিউজ

রাত ১০:০০ ঢাকা, শুক্রবার  ২১শে সেপ্টেম্বর ২০১৮ ইং

আদালত
হাইকোর্ট

‘রায় হওয়া ১৬৮টি মামলার পুনঃশুনানির কারণ অস্পষ্ট’

বাংলাদেশে সর্বোচ্চ আদালতে রায় হওয়া ১৬৮টি মামলায় আবার শুনানির বিষয়ে সরকার এখনও স্পষ্ট কারণ জানতে পারেনি।

সুপ্রিমকোর্টের রেজিষ্ট্রার জানিয়েছেন, রায় ঘোষণার পর পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশের অপেক্ষায় থাকা এই মামলাগুলো পুন:শুনানির জন্য ২রা মে আপিল বিভাগের দু’টির বেঞ্চের তালিকায় রাখা হয়েছে।

এগুলোর ১৬১টি মামলার রায় লেখার দায়িত্বে ছিলেন আপিল বিভাগের অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি শামসুদ্দিন চৌধুরী। তিনি বলেছেন, আবারও শুনানি হলে বিচারপ্রার্থীরা ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

গত জানুয়ারি মাসে প্রধান বিচারপতি এস কে সিনহা অবসরের পর রায় লেখা সংবিধান পরিপন্থী বলে মন্তব্য করেছিলেন। এনিয়ে তখন ব্যাপক আলোচনা সৃষ্টি হয়েছিল।

সুপ্রিমকোর্টের আপিল বিভাগে রায় ঘোষণার পর পূর্ণাঙ্গ রায়ের জন্য অপেক্ষায় থাকা ১৬৮টি মামলা পুন:শুনানির জন্য কার্যতালিকায় যে আনা হয়েছে, এগুলোর বেশিরভাগই ছিল আপিলের অনুমতি চেয়ে আবেদন।

আপিল বিভাগের অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি এ এইচ এম শামসুদ্দিন চৌধুরী ছিলেন ১৬১টি মামলার রায় লেখার দায়িত্বে। বাকি সাতটি মামলার রায় লেখার দায়িত্বে ছিলেন সাবেক প্রধান বিচারপতি মোজাম্মেল হোসেন।

তবে প্রধানবিচারপতি এস কে সিনহা বিচারপতির পদ থেকে অবসর নেয়ার পর রায় লেখার বিরুদ্ধে অবস্থান তুলে ধরেছিলেন।

সুপ্রিমকোর্টের রেজিষ্ট্রার জেনারেল সৈয়দ আমিনুল ইসলাম বলেছেন, অবসরের পর রায় লেখা নিয়ে একটা আলোচনা যেমন ছিল, একইসাথে মামলাগুলোর রায় হাতে লেখা হয়েছিল। এসব বিষয় বিবেচনায় নিয়ে পুন:শুনানি করা হচ্ছে বলে তিনি মনে করছেন।

তিনি বলছিলেন, “কিছু মামলার রায় লেখা হয়নি। যেগুলো লেখা হয়েছে, সেগুলো হাতে লিখে ঐ ভাবে জমা দিয়েছেন। সব বিষয় বিবেচনায় নিয়ে মাননীয় প্রধান বিচারপতি মামলাগুলো আবার শুনানিতে দিয়েছেন।”

মামলাগুলোতে নতুন করে পূর্ণাঙ্গ শুনানি হবে নাকি সুনির্দিষ্ট কোন পয়েন্টে শুনানি হবে,এই নিয়ে সরকারি আইনজীবীরা জটিলতায় পড়েছেন। তাদের কাছে এর কারণও পরিস্কার নয়।

আইনজীবীদের অনেকে বলেছেন, মামলায় রায় হওয়ার পর পুন:শুনানির জন্য আনা হচ্ছে, এটি নজিরবিহীন ঘটনা বলে তারা মনে করেন।

এদিকে আইনমন্ত্রী আনিসুল হক বলেছেন, তিনি বিষয়টা জানার চেষ্টা করছেন।

“জিনিসটা একটু নতুন দেখলাম। ফলে তথ্য নিয়েই আমাকে বক্তব্য দিতে হবে। এর কারণ জনগণের কাছে এটা পরিস্কার করার কিছুটা দায়িত্ব আমার। সে দিকটা খেয়াল রেখেই আমি দু’একদিনের মধ্যেই বক্তব্য দিব।”

অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি শামসুদ্দিন চৌধুরী প্রতিক্রিয়ায় বলেছেন, পুন: শুনানি করা হলে মামলাগুলোর বিচারপ্রার্থীদের ভোগান্তি হবে বলে তিনি মনে করেন। তিনি আরও বলেছেন, “প্রতিহিংসা থেকে এমনটা করা হয়েছে। আমার কম্পিউটার প্রত্যাহার করে নেয়া হয়েছিল। সেজন্য আমার নিজেকে কাগজ কিনে হাতে লিখতে হয়েছে।”

সরকারি আইনজীবীরা বলেছেন, এখন ২রা মে আপিল বিভাগের কি দিকনির্দেশনা দেয়া হয়, তারা সেই অপেক্ষায় রয়েছেন। বিবিসি বাংলা ।

 

http://www.bbc.com/bengali/news/2016/04/160429_bd_supreme_court_168cases_rehearing