ফাইল ফটো

রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণে পরিবেশের ছাড়পত্র দেয়া হয়নি

পরিবেশ ও বনমন্ত্রী আনোয়ার হোসেন মঞ্জু জানিয়েছেন, এখন পর্যন্ত রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণে পরিবেশগত ছাড়পত্র দেয়া হয়নি।

বৃহস্পতিবার সংসদে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি একথা জানান।

মন্ত্রী বলেন, ‘রামপালে নির্মিতব্য খুলনা ১ হাজার ৩২০ মেগাওয়াট কয়লাভিত্তিক তাপ বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনের জন্য এখনও পরিবেশ অধিদফতর থেকে কোনো পরিবেশগত ছাড়পত্র দেয়া হয় নাই।’

জাতীয় পার্টির এ কে এম মাঈদুল ইসলামের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘বিদ্যুৎকেন্দ্রটির পরিবেশগত প্রভাব সমীক্ষা (ইআইএ) প্রতিবেদনে প্রস্তাবিত মিটিগেশন মেজার্স যথাযথভাবে বাস্তবায়িত হলে সুন্দরবনের ক্ষতি হওয়ার কোনো আশংকা নেই।’

রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণে সুন্দরবনের কোনো ক্ষতি হবে না দাবি করে আনোয়ার হোসেন মঞ্জু বলেন, ‘এই বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ হলে স্থানীয় জনগণের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে, মানুষের ক্রয় ক্ষমতা বৃদ্ধি পাবে এবং সুন্দরবনের ওপর স্থানীয় মানুষের নির্ভরশীলতা হ্রাস পাবে।’

স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য রুস্তম আলী ফরাজীর প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ২০১৫-১৬ অর্থবছরে সুন্দরবনে চার দফা অগ্নিকাণ্ডে পরিবেশসহ লতাগুল্মের ক্ষতি হয়েছে। চার দফার ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ দুই লাখ ৫০ হাজার টাকা।

ভবিষ্যতে এ ধরনের ক্ষতি যাতে না হয় তার জন্য নানাবিধ কর্মপরিকল্পনা নেয়া হয়েছে বলেও জানান মন্ত্রী।

টেবিলে উত্থাপিত এস এম মোস্তফা রশিদীর প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, বর্ষা মৌসুমে মাছ ধরার এলাকা নির্বিঘ্ন করতে স্থানীয় জেলে ও দুষ্কৃতিকারীরা সুন্দরবনে আগুন লাগিয়েছিল। তদন্তে সেটাই পাওয়া গেছে। তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে।

উল্লেখ্য, সুন্দরবনের সন্নিকটে রামপালে ভারতের সঙ্গে যৌথ উদ্যোগে ১ হাজার ৩২০ মেগাওয়াট ক্ষমতার কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ করছে বাংলাদেশ সরকার।

‘মৈত্রী সুপার থারমাল’ নামের এই বিদ্যুৎকেন্দ্রটি সুন্দরবনের ইউনেস্কো ঘোষিত হেরিটেজ অংশ থেকে ৬৯ কিলোমিটার এবং সুন্দরবনের প্রান্তসীমা থেকে ১৪ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত।

এই বিদ্যুৎ কেন্দ্র হলে বিশ্বের সর্ববৃহৎ ম্যানগ্রোভ বন সুন্দরবনের প্রাকৃতিক প্রতিবেশ ক্ষতিগ্রস্ত হবে দাবি করে তার বিরোধিতা করছে বিভিন্ন সংগঠন।

সর্বশেষ সংশোধিত: , মাধ্যম: