Sheersha Media

ব্রেকিং নিউজ

সন্ধ্যা ৬:০৪ ঢাকা, মঙ্গলবার  ২০শে নভেম্বর ২০১৮ ইং

ফাইল ফটো

নির্বাচন নিয়ে আ. লীগের দুই গ্রুপে সংঘর্ষ, পুলিশের গুলিতে নিহত ৪

রাজশাহীর বাগমারায় আওয়ামী লীগের দুই গ্রুপ ও পুলিশের মধ্যে ত্রিমুখী সংঘর্ষে পুলিশের গুলিতে ৪জন নিহত হয়েছেন।

শনিবার উপজেলার আউচপাড়া ইউনিয়নের হাটগাঙ্গোপাড়ায় দিনব্যাপী এ সংঘর্ষে ৩০ জনের বেশি মানুষ আহত হয়েছেন।

নিহতরা হলেন- উপজেলার সরঞ্জি ভাসুপাড়া গ্রামের মফিজ উদ্দিনের ছেলে সিদ্দিকুর রহমান (২৮), ছহির উদ্দিনের ছেলে জাহিদুল ইসলাম বুলু (৩৮) এবং মনতাজ আলী (৩৫)। আরেকজনের নিহতের সংবাদ পাওয়া গেলেও এখনো নাম জানা যায়নি।

এদিকে স্থানীয় একাধিক সূত্র নিহতের সংখ্যা চারজন জানালেও পুলিশ বলছে তিনজন ।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, স্থগিত হওয়া আউচপাড়া ইউপি নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থী সরদার জান মোহাম্মদ ও বিদ্রোহী প্রাথী শহিদুজ্জামান শহীদের সমর্থকদের মাঝে এই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে গুলি  চালায়।

স্থানীয় সূত্র গুলো জানায়, শনিবার বেলা ১১টার দিকে আওয়ামী লীগের আউচপাড়া ইউনিয়ন চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী সরদার জান মোহাম্মদের লোকজন হাট গাঙ্গোপাড়ায় বিদ্রোহী প্রার্থী শহিদুজ্জামান শহিদের বাড়িতে হামলা চালায়।

এ সময় শহিদের লোকজন মোহাম্মদের লোকজনকে প্রতিহত করতে গেলে তাদের মধ্যে সংঘর্ষ বেঁধে যায়। দিনভর থেমে থেমে চলে এ সংঘর্ষ। সংঘর্ষের সময় উভয় পক্ষের লোকজন বেশ কয়েকটি ককটেল বিস্ফোরণ ঘটায়।

বিকাল সাড়ে ৫টার দিকে উভয় পক্ষ সংগঠিত হয়ে এলাকার নিয়ন্ত্রণ নেয়ার চেষ্টা করলে ঘটনাস্থলে উপস্থিত পুলিশ গুলি করে। আহতদের মধ্যে উজ্জল (২৫) এবং মোসলেম (৩০) নামে দুই ব্যক্তিকে সন্ধ্যার পর রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

বাগমারা থানার ওসি মতিয়ার রহমান গণমাধ্যমকে জানান, সকাল থেকেই দুই পক্ষই দেশীয় অস্ত্রে সজ্জ্বিত হয়ে হাটগাঙ্গোপাড়ায় অবস্থান নেয়। এ সময় পরিস্থিতি উত্তপ্ত ছিল। বিকালে উভয় পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হলে পুলিশ প্রথমে ফাঁকা গুলি ছুড়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করে।

ওসি জানায়, তারা পুলিশের ওপর দেশীয় অস্ত্র দিয়ে হামলা চালায়। তারা বোমা নিক্ষেপও করে। তাই আত্মরক্ষার্থে পুলিশ গুলি চালায়।

রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, গুলিবিদ্ধ কয়েকজনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তাদের মধ্যে আছেন- কোন্দা এলাকার সোহরাওয়ার্দীর ছেলে জাহিদ হাসান (৩৪), ছানন্দ এলাকার মজিবুরের ছেলে  উজ্জল (২৫), তিমু মন্ডলের ছেলে মোসলেম , মাইনুল হোসেন, ইসাহাক আলী , আলম ও  আলাউদ্দিন আলী।