ব্রেকিং নিউজ

রাত ২:৫৩ ঢাকা, মঙ্গলবার  ২৫শে সেপ্টেম্বর ২০১৮ ইং

সুরেন্দ্র কুমার সিনহা
প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহা, ফাইল ফটো

“রাজনৈতিক বক্তব্য দিচ্ছি মনে করলে আমি বলব ‘হ্যা” – প্রধান বিচারপতি

রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত বিচারাঙ্গণের জন্য সুপ্রিম কোর্টের বিচারকের সংখ্যা নির্দ্দিষ্ট করার আহ্বান জানিয়ে প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহা বলেছেন, সরকার যদি মনে করে প্রধান বিচারপতি রাজনৈতিক বক্তব্য দিচ্ছে তাহলে আমি বলব ‘হ্যা’।

তিনি বলেছেন, আমাদের হাইকোর্টে বিচারকের সংখ্যা নির্দ্দিষ্ট করা নেই। ফলে প্রতিটি রাজনৈতিক সরকার ক্ষমতায় আসলেই ইচ্ছেমত হাইকোর্টে বিচারক নিয়োগ দিয়ে থাকেন। কিন্তু এটা ঠিক নয়। সময় আসছে আমাদের হাইকোর্টে বিচারক সংখ্যা নির্দ্দিষ্ট করে দেয়ার।

তিনি বলেন, বিচারকের সংখ্যা নির্দ্দিষ্ট করে দেয়া থাকলে রাজনৈতিক প্রভাব কমে যায়। এই রাজনৈতিক প্রভাব যতই কমবে ততই বিচার বিভাগের জন্য মঙ্গল।

সদ্য অবসরে যাওয়া আপিল বিভাগের বিচারপতি নাজমুন আরা সুলতানার আজীবন সম্মাননা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রধান বিচারপতি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন আইনমন্ত্রী আনিসুল হক এমপি।

প্রধান বিচারপতি বলেন, গত তিন বছরে সুপ্রিম কোর্টের উন্নয়ন বরাদ্ধের জন্য একটি টাকাও দেয়া হয়নি। অর্থমন্ত্রীকে চিঠি দিয়েছিলাম, কিন্তু অজ্ঞাত কারণে কোনো টাকা বরাদ্দ হয়নি। অথচ জাতীয় সংসদের জন্য উন্নয়ন খাতে বরাদ্দ হয়েছে ১৬ কোটি ৪২ লাখ টাকা। এছাড়া সন্ত্রাসের কারণে দেশের সব জায়গায় নিরাপত্তা দেয়ার জন্য বাজেট বরাদ্দ বাড়ানো হয়েছে। গত বছরের বাজেট থেকে এবারের বাজেটে বিচার বিভাগের জন্য বরাদ্ধ কমিয়ে দেয়া হয়েছে। এভাবে বাজেটের বরাদ্দ প্রত্যাহার করে একেবারে ‘শূন্য’ করে দেয়া হচ্ছে। এই যদি হয় অবস্থা তাহলে বিচার বিভাগ চলবে কিভাবে? এটা দেশ ও জাতির জন্য মঙ্গলজনক নয়।

আইনমন্ত্রীর উদ্দেশে প্রধান বিচারপতি বলেন, সরকার যদি মনে করে প্রধান বিচারপতি রাজনৈতিক বক্তব্য দিচ্ছে তাহলে আমি বলব ‘হ্যা’। প্রধান বিচারপতি বিচার বিভাগের স্বার্থেই রাজনৈতিক বক্তব্য দেবেন, বিচারকদের অবস্থা ও বিচার বিভাগের উন্নয়নের জন্য প্রধান বিচারপতি আরো বলবেন। এ ব্যাপারে আমি দ্বিধান্বিত হব না।

আইনমন্ত্রীর উদ্দেশে প্রধান বিচারপতি বলেন, বৃষ্টি হলে সুপ্রিম কোর্টের মূল ভবনটির বিভিন্ন স্থানে বিশেষ করে প্রধান বিচারপতির এজলাস ও খাস কামরার ছাদ চুইয়ে পানি পড়ে। এখানে রয়েছে গুরুত্বপূর্ণ রেকর্ড রুম। স্থান সংকুলানের অভাবে এই ভবনের বারান্দায় হাইকোর্টের বিচারকদের জন্য খাস কামরা করা হয়েছে। যেখানে দু’জন বিচারককে একসঙ্গে বসতে হয়। হাইকোর্টের অ্যানেক্স ভবনটিও ভঙ্গুর অবস্থায়। এই বিবেচনায় ২০ তলা একটি প্রশাসনিক ভবন নির্মাণের জন্য প্রস্তাব করা হয়। যেটি প্রি-একনেকে পাস হয়ে একনেকের বৈঠকে গেলে অজ্ঞাত কারনে তা ফেরত পাঠানো হয়।

তিনি বলেন, যে পরিমাণে বৃষ্টিপাত হচ্ছে এবং মূল ভবনটি ভঙ্গুর অবস্থায় রয়েছে তাতে মনে হয় এটি বেশিদিন টিকবে না। এই ভবন ভেঙ্গে পড়লে কি অবস্থা দাড়াবে বলা মুশকিল? তাই আপনার মাধ্যমে সরকারকে বলছি শুধু সুপ্রিম কোর্ট কেন পুরো বিচার বিভাগের যে অবস্থা সেটি বিবেচনায় নিয়ে প্রশাসনিক ভবনের প্রকল্পটি যাতে একনেকে পাস হয় সেদিকে দৃষ্টি দিন।