ব্রেকিং নিউজ

সকাল ৬:৪৯ ঢাকা, রবিবার  ২৩শে সেপ্টেম্বর ২০১৮ ইং

Index Graph of 21-01-2015

রাজনৈতিক অস্থিরতার প্রভাব পুঁজিবাজারে

দেশে চলমান রাজনৈতিক অস্থিরতা মারাত্মকভাবে প্রভাবিত করছে পুঁজিবাজারকে। অস্থিরতা নেমে এসেছে দুই পুঁজিবাজারেই। আগের দিনগুলোর তুলনায় গতকাল এর প্রভাব ছিল অনেক বেশি। লেনদেনের একপর্যায়ে দেশের প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) প্রধান সূচকটির ১০৫ পয়েন্টের বেশি হারিয়ে বসে। গত এক বছরের মধ্যে পুঁজিবাজারে একদিনে সূচকের এ ধরনের অবনতি আর ঘটেনি। তবে লেনদেনের শেষ পর্যায়ে হারানো সূচকের একটি অংশ ফিরে পায় পুঁজিবাজারটি।

দিনশেষে ডিএসইএক্স সূচকের ৭৩ দশমিক ৭৩ পয়েন্ট অবনতি রেকর্ড করা হয়। গতকাল নিয়ে পুঁজিবাজারের দরপতন গড়াল টানা চতুর্থ দিনে। আর এ চার দিনে ১৭৩ পয়েন্ট অবনতি ঘটে ডিএসইর প্রধান সূচকটির। ডিএসই-৩০ ও শরিয়াহ সূচকের অবনতি ঘটে যথাক্রমে ২৭ দশমিক ৩০ ও ১৬ দশমিক ০০ পয়েন্ট।

চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে সার্বিক মূল্যসূচক ২১০ দশমিক ৪২ পয়েন্ট হ্রাস পায়। এখানে সিএসসিএক্স ও সিএসই-৫০ সূচকের অবনতি ঘটে যথাক্রমে ১২২ দশমিক ৩২ ও ১৩ দশমিক ২৬ পয়েন্ট।

এ দিকে সূচকের টানা অবনতির কারণে কিছুদিন ধরে চলতে থাকা অস্বস্তি গতকাল আতঙ্কে রূপ নিয়েছে। লেনদেনের মাঝামাঝি সময়ে বাজারগুলোতে তৈরি হওয়া বিক্রয়চাপের প্রাবল্য তারই ইঙ্গিত বহন করে। দুপুর ১২টা থেকে ১টার মধ্যে ডিএসই সূচকের অবনতি ঘটে প্রায় ৫০ পয়েন্ট। ব্রোকার হাউজ ও মার্চেন্ট ব্যাংকের ট্রেডিং ফোরগুলোতে শেয়ার বিক্রির যেন ধুম পড়ে যায়। সবার মধ্যে কাজ করে শঙ্কা। হয়তো আরো বড় দরপতনের দিকেই এগিয়ে যাচ্ছে পুঁজিবাজার।

ডিএসইর একটি শীর্ষস্থানীয় ব্রোকার হাউজে কয়েকজন বিনিয়োগকারীর সাথে সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে আলাপ করলে তারা জানান, দীর্ঘ দিন ধরে পুঁজিবাজারগুলো নেতিবাচক প্রবণতার শিকার হলেও দরপতন এত ভয়াবহ রূপ নেয়নি। সবার মধ্যে এক ধরনের প্রত্যাশা ছিল যেকোনো সময় বাজার ঘুরে দাঁড়াতে পারে। সে সম্ভাবনা থেকেই শত প্রতিকূলতার মধ্যেও তারা বাজারে টিকে থাকার চেষ্টা করেছে। কিন্তু রাজনৈতিক অস্থিরতা যেদিকে মোড় নিচ্ছে তাতে তারা আর ভরসা পাচ্ছেন না। গতকালের বিক্রয়চাপের এটাই কারণ বলে মনে করেন তারা।

তাদের মতে, সাধারণ বিনিয়োগকারীদের একটি বড় অংশেরই বিনিয়োগ সক্ষমতা নেই। যারা এ মুহূর্তে বাজারে টিকে আছেন তারাও বড় অঙ্কের ঋণ ও লোকসানের বোঝা মাথায় নিয়ে ভালো একটি সময়ের অপেক্ষায় ছিলেন। কিন্তু এখন সে আশায়ও গুড়েবালি। ক্রমান্বয়ে পরিস্থিতি খারাপের দিকেই যাচ্ছে যার প্রভাব থেকে বাইরে নয় পুঁজিবাজারও। এ পরিস্থিতিতে প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীরাই বাজারের একমাত্র ভরসা। তারাই নিজেদের সক্ষমতা ব্যবহার করে পতনের টেনে ধরতে পারেন বলে অনেকে মনে করেন। কিন্তু কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নজরদারির কারণে প্রতিষ্ঠানগুলো এখন এক প্রকার নিষ্ক্রিয় ভূমিকায়। এর ফলে দরপতন আরো দীর্ঘস্থায়ী হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

গতকাল বস্ত্র খাতের আরো একটি কোম্পানি পুঁজিবাজারগুলোতে লেনদেন শুরু করেছে। এ নিয়ে বস্ত্র খাতে কোম্পানির সংখ্যা দাঁড়াল ৩৮টিতে। সিঅ্যান্ডএ নামের কোম্পানিটি গতকাল দুই বাজারেই লেনদেন শুরু করে। ঢাকায় ২১ টাকায় লেনদেন শুরু করে সর্বোচ্চ ২৫ টাকা পর্যন্ত ওঠে শেয়ারের দর। তবে দিনের শেষ দর ছিল ২২ টাকা। এভাবে প্রথম দিনই ১২০ শতাংশ মূল্যবৃদ্ধি ঘটে কোম্পানিটির শেয়ারের।

এর আগে সিঅ্যান্ডএ টেক্সটাইল ১০ টাকা অভিহিত মূল্যে ৪ কোটি ৫০ লাখ শেয়ার ছেড়ে পুঁজিবাজার থেকে ৪৫ কোটি টাকা মূলধন উত্তোলন করে।

গতকাল সকালে লেনদেনের শুরু থেকেই বিক্রয়চাপের মুখে পড়ে দুই পুঁজিবাজার। শুরুতে এ চাপ কিছুটা কম হলেও বেলা বাড়ার সাথে সাথে তা আরো বাড়তে থাকে। ঢাকায় ৪ হাজার ৮৫৬ পয়েন্ট থেকে লেনদেন শুরু করা ডিএসইর প্রধান সূচকটি বেলা দেড়টায় পৌঁছে যায় ৪ হাজার ৭৫২ পেয়ন্টে। অর্থাৎ লেনদেনের তিন ঘণ্টার মাথায় সূচকটির ১০৪ পয়েন্ট হারায় ডিএসই। তবে লেনদেনের শেষ এক ঘণ্টা এ বিক্রয়চাপ কিছুটা হ্রাস পায়। তখন হারানো সূচকের একটি অংশ ফিরে পায় পুঁজিবাজারটি। পরে ৭৩ দশমিক ৭৩ পয়েন্ট হারিয়ে লেনদেন শেষ করে ডিএসই।

তালিকাভুক্তির তৃতীয় দিনের মাথায় আরো বড় দরপতনের শিকার হলো ন্যাশনাল ফিড। সোমবার পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হওয়া কোম্পানিটি গতকাল দ্বিতীয় দিনের মতো দরপতনের শীর্ষে ছিল। মঙ্গলবারও কোম্পানিটি দুই পুঁজিবাজারের দরপতনের শীর্ষে ছিল। গতকাল ১০ দশমিক ৬৪ শতাংশ দর হারায় কোম্পানিটি।

গতকাল দুই বাজারেই লেনদেন হওয়া খাতগুলোর বেশির ভাগই পতনের শিকার হয়। চামড়া, সিরামিকস, সিমেন্ট ও বিবিধ খাতের শতভাগ কোম্পানি দর হারায়। জ্বালানি খাতে শাহজিবাজার পাওয়ার ছাড়া মূল্যবৃদ্ধিও তালিকায় আর কোনো কোম্পানি ছিল না। ব্যাংক, বীমা ও মিউচুয়াল ফান্ডের মতো বড় খাতগুলোতে হাতেগোনা কয়েকটি কোম্পানির নামমাত্র মূল্যবৃদ্ধি ঘটতে দেখা যায়। ঢাকায় লেনদেন হওয়া ৩০৯টি কোম্পানি ও ফান্ডের মধ্যে মূল্যবৃদ্ধির তালিকায় ছিল মাত্র ২০টি। ২৬৫টি দর হারায়। অপরিবর্তিত ছিল ২৪টির দর। পক্ষান্তরে চট্টগ্রামে লেনদেন হওয়া ২৪০টি সিকিউরিটিজের মধ্যে ২৬টির দাম বাড়ে, ১৯৭টির কমে এবং ১৭টির দাম অপরিবর্তিত থাকে।