ব্রেকিং নিউজ

দুপুর ১:৪৮ ঢাকা, শনিবার  ২২শে সেপ্টেম্বর ২০১৮ ইং

রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে পুঁজিবাজারের মন্দা কাটছেনা

সপ্তাহের শুরুতেই ধাক্কা খেয়েছে পুঁজিবাজার। গত সপ্তাহের শেষ কার্যদিবসে সূচকের নামমাত্র উন্নতি ধরে রাখলেও গতকাল দুই পুঁজিবাজারেই সূচকের বেশ অবনতি ঘটে। দিনের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত টানা পতনের হয় দুই বাজার। আর এ নেতিবাচক প্রবণতার প্রভাব ছিল বাজারগুলোর লেনদেনেও।
ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) প্রধান সূচকটি গতকাল ৩৮ দশমিক ৭১ পয়েন্ট হ্রাস পায়। ডিএসই-৩০ ও শরিয়াহ সূচকের অবনতি ঘটে ১৮ দশমিক ০৯ ও ১১ দশমিক ৮৯ পয়েন্ট। অনুরূপভাবে চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) সার্বিক মূল্যসূচক ও সিএসসিএক্স সূচকের অবনতি ঘটে ১২০ দশমিক ৮০ ও ৬৩ দশমিক ৩১ পয়েন্ট। এখানে সিএসই-৫০ সূচকটি ৬ দশমিক ০৫ পয়েন্ট হ্রাস পায়।
অবনতি ঘটে দুই পুঁজিবাজারের লেনদেনেও। ঢাকায় গতকাল লেনদেন নেমে আসে ২৫১ কোটি টাকায়। সর্বশেষ কার্যদিবসে (গত বৃহস্পতিবার) ডিএসইর লেনদেন ছিল ৩৩১ কোটি টাকা। সে হিসাবে বাজারটির লেনদেন কমেছে ৮০ কোটি টাকা। চট্টগ্রামে আগের দিনের ২২ কোটি টাকা থেকে লেনদেন নেমে আসে ১৬ কোটি টাকায়।

রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে পুঁজিবাজারে সৃষ্ট মন্দার ধারাবাহিকতা ছিল গতকালও। দেশের দুই পুঁজিবাজারই গতকাল লেনদেন শুরু করে সূচকের অবনতি দিয়ে। ঢাকায় লেনদেনের প্রথম ২ ঘণ্টায় ডিএসই সূচকের অবনতি ঘটে ৩৯ পয়েন্ট। চার হাজার ৯৫৬ দশমিক ০৯ পয়েন্ট থেকে লেনদেন শুরু করা ডিএসইএক্স সূচকটি দুপুর সাড়ে ১২টায় নেমে আসে চার হাজার ৯১৭ দশমিক ১২ পয়েন্টে। পরে সাময়িকভাবে সূচকটি ঊর্ধ্বমুখী হলেও তা ধরে রাখা সম্ভব হয়নি। বেলা দেড়টায় সূচকটি চার হাজার ৯৩৩ পয়েন্টে উঠলেও দিনের শেষ ১ ঘণ্টা কাটে বিক্রয়চাপের মধ্য দিয়ে। এ সময় আবারো হ্রাস পায় সূচকটি। তাতে সূচকের ৩৮ দশমিক ৭১ পয়েন্ট অবনতিতে লেনদেন শেষ করে ডিএসই।
পুঁজিবাজার সংশ্লিষ্টরা মনে করেন, রাজনৈতিক অস্থিরতার প্রভাব পড়ছে পুঁজিবাজারে। আস্থায় আবারো চিড় ধরেছে বিনিয়োগকারীদের। ফলে বাজারে লেনদেন যেমন কমে যাচ্ছে তেমনি বৃদ্ধি পাচ্ছে বিক্রয়চাপও, যা প্রতিনিয়ত পুঁজিবাজার সূচকের অবনতি ঘটাচ্ছে। পরিস্থিতির উন্নতি না হওয়া পর্যন্ত প্রতিষ্ঠানগুলো বাজারে সক্রিয় হওয়ার কোনো লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না। চলমান প্রবণতা বাজারকে দীর্ঘমেয়াদি মন্দার দিকে নিয়ে যেতে পারে এমন আশঙ্কা তাদের। তবে পরিস্থিতি মোকাবেলায় তারা বিনিয়োগকারীদের ধৈর্য্য ও বুদ্ধিমত্তার সাথে বিনিয়োগে সিদ্ধান্ত নেয়ার পরামর্শ দেন। কারণ মন্দাবাজারে যারা বিনিয়োগে সিদ্ধান্ত নেয়ার মতো সাহসী হতে পারেন তারাই শেষ পর্যন্ত মুনাফা তুলে নিতে পারেন।
গতকাল দুই বাজারে বেশির ভাগ খাতেই দরপতন ঘটে। এসব খাতের মধ্যে সিমেন্ট, সিরামিকস, তথ্যপ্রযুক্তি ও চামড়া খাতে শতভাগ কোম্পানির দরপতন ঘটে। টেক্সটাইল ও প্রকৌশল খাতের ৯০ শতাংশের বেশি কোম্পানি দর হারায়। অপর দিকে রসায়ন, বিবিধ ও ব্যাংকিং খাতে হাতেগোনা কয়েকটি কোম্পানি আগের দিনের মূল্য ধরে রাখতে সক্ষম হয়। ঢাকায় লেনদেন হওয়া ৩০৬টি সিকিউরিটিজের মধ্যে মূল্যবৃদ্ধিও তালিকায় ছিল মাত্র ৪৯টি কোম্পানি। দরপতন ঘটে ২২৩টির। ৩৪টির দর ছিল অপরিবর্তিত। অপর দিকে চট্টগ্রামে লেনদেন হওয়া ২২৬টি সিকিউরিটিজের মধ্যে ৪৪টির দাম বাড়ে, ১৫৯টির কমে এবং ২৩টির দাম অপরিবর্তিত থাকে।
বরাবরের মতো এবারো মন্দার সুযোগে স্বল্প মূলধনী কোম্পানিগুলো নিয়ে মেতে উঠেছে বিনিয়োগকারীদের একটি অংশ। গতকাল লেনদেন ও সূচকের উন্নতিতে এসব কোম্পানিকেই এগিয়ে আসতে দেখা গেছে। ঢাকায় লেনদেনের শীর্ষে উঠে আসে চিটাগাং ভেজিটেবল অ্যান্ড পেট্রোকেমিক্যাল রিফাইনারি। ৯ কোটি ৬০ লাখ টাকায় এক লাখ ৭৯ হাজার শেয়ার হাতবদল হয় কোম্পানিটির। ৮৮ কোটি ৪৪ লাখ টাকা লেনদেন করে আইডিএলসি ফিন্যান্স ছিল দিনের দ্বিতীয় কোম্পানি।
মূল্যবৃদ্ধির তালিকায়ও ছিল এ ধরনের কোম্পানির প্রাধান্য। মূল্যবৃদ্ধির শীর্ষে উঠে আসে রেনউইক যজ্ঞেশ্বর। ৮ দশমিক ৭৬ শতাংশ মূল্যবৃদ্ধি ঘটে কোম্পানিটির। মূল্যবৃদ্ধিতে শীর্ষ পাঁচ কোম্পানির মধ্যে আরো ছিল শমরিতা হাসপাতাল, চিটাগাং ভেজিটেবল অ্যান্ড পেট্রোকেমিক্যালস, ফার্মা এইড ও এমবি ফার্মা। এদের মূল্যবৃদ্ধির হার ছিল ৬.৬০, ৫.০২, ৪.৯৫ ও ৪.৩০ শতাংশ। অপর দিকে দিনের সর্বোচ্চ দরপতন ঘটে সমতা লেদারের, ৭ দশমিক ৫৬ শতাংশ দর হারায় কোম্পানিটি।

এ দিকে প্রাথমিক গণপ্রস্তাব (আইপিও) প্রক্রিয়া শেষ হওয়া ন্যাশনাল ফিড মিলস লিমিটেডের শেয়ার লেনদেন শুরু হবে আজ ১৯ জানুয়ারি সোমবার। কোম্পানির একটি সূত্র এ তথ্য নিশ্চিত করেছে। এর আগে ডিএসইর সর্বশেষ পর্ষদ সভায় কোম্পানিটির তালিকাভুক্তি অনুমোদন লাভ করে। ১০ টাকা অভিহিত মূল্যে এক কোটি ৮০ লাখ শেয়ার ছেড়ে ন্যাশনাল ফিড শেয়ারবাজার থেকে ১৮ কোটি টাকা উত্তোলন করে। ৫০০টি শেয়ারে মার্কেট লট নির্ধারণ করা হয়েছে। আইপিওর মাধ্যমে উত্তোলিত অর্থ দিয়ে কোম্পানিটি ব্যবসায় সম্প্রসারণ, ব্যাংকঋণ পরিশোধ, চলতি মূলধন এবং আইপিও খরচ খাতে ব্যয় করবে। গত বছরের ২৭ নভেম্বর কোম্পানির আইপিওতে আবেদনকারীদের মধ্যে শেয়ার বরাদ্দ দেয়ার জন্য লটারির ড্র অনুষ্ঠিত হয়।
৩১ ডিসেম্বর ২০১৩ সমাপ্ত অর্থবছরে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি আয় (ইপিএস) হয়েছে ১.৮৬ টাকা এবং শেয়ারপ্রতি সম্পদ মূল্য (এনএভি) হয়েছে ১৪.৫৫ টাকা। কোম্পানিটির ইস্যু ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব পালন করছে আইসিবি ক্যাপিটাল ম্যানেজমেন্ট লিমিটেড এবং পিএলএফএস ইনভেস্টমেন্টস লিমিটেড।