ব্রেকিং নিউজ

সকাল ৬:৩৩ ঢাকা, শনিবার  ১৭ই নভেম্বর ২০১৮ ইং

রাজনৈতিক অনিশ্চয়তার ছোঁয়া লেগেছে পুঁজিবাজারে

নতুন বছরের শুরুতে দেশে রাজনৈতিক অনিশ্চতার আশঙ্কা করছেন পুঁজিবাজারের বিনিয়োগকারীরা। আর সে আশঙ্কায় গভীর আস্থাহীনতা তৈরি হয়েছে বাজারে। কমে যাচ্ছে বিনিয়োগকারীদের অংশগ্রহণ, যার প্রতিফলন ঘটেছে দুই পুঁজিবাজারের লেনদেনে। চলমান মন্দায় নতুন এ উপসর্গ শঙ্কায় ফেলেছে বিনিয়োগকারীদের। গতকাল ঢাকা স্টক এক্সেেচঞ্জর (ডিএসই) লেনদেন নেমে আসে ১৫৬ কোটি টাকায়। পুঁজিবাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) লেনদেন হয়েছে ১২ কোটি টাকা।

বছরের শুরুতে রাজনৈতিক অস্থিরতা তৈরি হতে পারে এমন ধারণা থেকে ব্যক্তি ও প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের একটি বড় অংশই এখন নিষ্ক্রিয়। তারা মনে করছেন, রাজনৈতিক অস্থিরতা সৃষ্টি হলে আবারো দীর্ঘমেয়াদি মন্দায় আটকে যেতে পারে পুঁজিবাজার। এ আশঙ্কা থেকে কেউই নতুন করে বিনিয়োগ করতে চাচ্ছেন না।

গত ক’দিন ধরে দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি কিছুটা ঘোলাটে। বিএনপি চেয়ারপারসনের আদালতে হাজিরা দেয়াকে কেন্দ্র করে দু’পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ এবং পরে গাজীপুরে বিএনপির জনসভাস্থলে ১৪৪ ধারা জারি হঠাৎ করে রাজনীতিতে অস্থিরতা তৈরি করে। বিরোধী দলের নেতাকর্মীদের গ্রেফতার তাতে যোগ করে নতুন মাত্রা। গতকাল পুঁজিবাজারে সপ্তাহের প্রথম কার্যদিবসে তার স্পষ্ট প্রতিফলন ঘটে। লেনদেন শুরু হওয়ার এক ঘণ্টা পার হলেও লেনদেন আটকে থাকে পাঁচ কোটিতে। অথচ অন্যান্য দিনে এক ঘণ্টায় ডিএসইর লেনদেন বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই ৫০ কোটি টাকা ছাড়িয়ে যায়। অবশ্য বেলা বৃদ্ধির সাথে সাথে কিছুটা গতি ফিরে পায় পুঁজিবাজারগুলো। দুই ঘণ্টা পর ডিএসইর লেনদেন পৌঁছে ৪৮ কোটিতে।

সংশ্লিষ্টদের মতে, লেনদেনের এ অবনতির পেছনে প্রধান কারণ আস্থাহীনতা। গত বছরের  শুরুর দিকে একই ধরনের পরিস্থিতি ছিল। সে বছর ২০ জানুয়ারি ডিএসইর লেনদেন নেমে আসে ১০১ কোটিতে। অবশ্য তখন রাজনৈতিক কোনো অচলাবস্থা তৈরি হয়নি। শুধু আস্থাহীনতার কারণেই বিনিয়োগকারীরা বাজার থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছিলেন। গত বছরের মাঝামাঝি এসে আবারো একই অবস্থার সৃষ্টি হয় বাজারে। তবে তাদের মতে, সরকার ও বিরোধী দল যেভাবে মুখোমুখি, তাতে নতুন করে রাজনৈতিক অচলবস্থা তৈরি হলে আস্থাহীনতার মাত্রা আরো বাড়তে পারে।

বিনিয়োগকারীদের অন্য একটি অংশ মনে করে, রাজনৈতিক অনিশ্চয়তার পাশাপাশি ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের দিকে বাংলাদেশ ব্যাংকের চোখ রাঙানিও বাজারের নেতিবাচক আচরণের জন্য দায়ী। সম্প্রতি বাংলাদেশ ব্যাংক পুঁজিবাজারের বিনিয়োগ সমন্বয়ে বেশ কয়েকটি ব্যাংককে চিঠি দেয়। ২০১৬ সালের জুন মাসের মধ্যে ব্যাংকগুলোর পুঁজিবাজারে বিনিয়োগ পরিশোধিত মূলধনের ২৫ শতাংশের নিচে নামিয়ে আনার কথা থাকলেও বারবার ব্যাংকগুলোকে এ ধরনের চিঠি এক ধরনের চোখ রাঙানি বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

গতকাল দিনের শুরু থেকেই নেতিবাচক আচরণের শিকার হয় দুই পুঁজিবাজার। প্রধান সূচকটির চার হাজার ৮২৩ পয়েন্ট থেকে লেনদেন শুরু করে প্রথম ৫ মিনিটে সূচকটি চার হাজার ৮৩৩ পয়েন্টে উঠলেও বিক্রয়চাপের কারণে দ্রুতই নিম্নমুখী হয়ে ওঠে বাজারসূচক। এর পর শুরু হয় টানা পতন। বেলা দেড়টার দিকে সূচকটি নেমে আসে চার হাজার ৭৮৪ পয়েন্টে। এ পর্যায়ে সূচকটির ৩৯ পয়েন্ট হারায় ডিএসই। তবে লেনদেন শেষ হওয়ার পূর্ব মুহূর্তে সাময়িকভাবে ঊর্ধ্বমুখী হয় ডিএসই সূচক। দিন শেষে ২২ দশমিক ২২ পয়েন্ট হারিয়ে চার হাজার ৮০১ দশমিক ৩৪ পয়েন্টে স্থির হয় ডিএসই সূচক।

এদিকে মন্দা বাজারেও মিউচুয়াল ফান্ডের বেশ কয়েকটি কোম্পানি গতকাল মূল্যবৃদ্ধির তালিকায় উঠে আসে। যেখানে ব্যাংক , ব্যাংকবহির্ভূত আর্থিক প্রতিষ্ঠান ও বীমার মতো প্রধান প্রধান খাতগুলোতে ব্যাপক দরপতন ঘটে সেখানে মিউচুয়াল ফান্ডের মূল্যবৃদ্ধি এ খাতের বিনিয়োগকারীদের কিছুটা স্বস্তি এনে দেয়। অন্য খাতগুলোর মধ্যে প্রকৌশল, টেক্সটাইল ও সিমেন্ট খাতের হাতেগোনা কয়েকটি কোম্পানির মূল্যবৃদ্ধি ঘটতে দেখা যায়। সবচেয়ে বেশি খারাপ অবস্থা ছিল বিবিধ খাতের। এ খাতের শতভাগ কোম্পানি দর হারায়। ঢাকায় লেনদেন হওয়া ৩০৫টি সিকিউরিটিজের মধ্যে মাত্র ৫৯টির মূল্যবৃদ্ধি ঘটলেও ডিএসইর দরপতনের তালিকায় ছিল ২১৯টি সিকিউরিটিজ। ২৭টির দর থাকে অপরিবর্তিত। অপর দিকে চট্টগ্রামে লেনদেন হওয়া ২৩৮টি সিকিউরিটিজের মধ্যে ৪২টির দাম বাড়ে, ১৬৫টির কমে এবং ৩১টির দাম অপরিবর্তিত থাকে।

 ​