ব্রেকিং নিউজ

সকাল ৯:২১ ঢাকা, বুধবার  ১৯শে সেপ্টেম্বর ২০১৮ ইং

রাজনকে হত্যায় ৪ জনের মৃত্যুদণ্ড

সিলেটের কুমারগাঁওয়ে অমানবিক নির্যাতনের মাধ্যমে শিশু সামিউল আলম রাজনকে হত্যা মামলায় কামরুলসহ চারজনের মৃত্যুদণ্ড, তিনজনের জাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত।রোববার দুপুরে  সিলেট মহানগর দায়রা জজ আদালতের বিচারক আকবর হোসেন মৃধা আলোচিত রাজন হত্যা মামলার এ রায় ঘোষণা করছেন। এদিকে এ মামলায় দুইজনকে খালাস দেয়া হয়েছে।

আজ রোববার দুপুরে ১৪ কার্যদিবসে বিচার-প্রক্রিয়া শেষ করে সিলেট মহানগর দায়রা জজ আদালতের বিচারক আকবর হোসেন মৃধা আলোচিত এ মামলার রায় দেন।
মৃত্যুদণ্ড প্রাপ্তরা হলেন- মহানগরীর জালালাবাদ থানার কুমারগাঁও এলাকার শেখপাড়া গ্রামের মৃত আব্দুল মালেকের ছেলে কামরুল ইসলাম (২৪), জাকির হোসেন পাভেল, তাজ উদ্দিন বাদল (২৮) ও চৌকিদার ময়না মিয়া ওরফে বড় ময়না (৪৫)। এ ছাড়া ভিডিওচিত্র ধারণকারী নূর আহমদের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং মুহিত আলম, আলী হায়দার ও শামীম আহমদকে (পলাতক) সাত বছর করে কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত।
উল্লেখ্য, গত ৮ জুলাই সিলেটের কুমারগাঁওয়ে সামিউল আলম রাজনকে নির্মম নির্যাতনের মাধ্যমে হত্যা করা হয়। নির্যাতনের সময় ঘাতকরা নির্যাতনের দৃশ্য ভিডিওচিত্রে ধারণ করে ইন্টারনেটের মাধ্যমে ছড়িয়ে দিলে দেশ-বিদেশে আলোড়নের সৃষ্টি হয়। রাজন হত্যা মামলার ১৩ আসামির মধ্যে সৌদি আরবে আটক প্রধান আসামি কামরুলসহ ১১ জন কারাবন্দি ও আর পলাতক রয়েছেন শামীম ও পাভেল।
১৬ আগস্ট ১৩ জনকে আসামি করে এ মামলায় আদালতে অভিযোগপত্র দেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা সিলেট মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের পরিদর্শক সুরঞ্জিত তালুকদার। ২৪ আগস্ট চার্জশিট আমলে নেন আদালত। ২২ সেপ্টেম্বর ১৩ জনকে অভিযুক্ত করে রাজন হত্যা মামলায় অভিযোগ গঠন করা হয়। হত্যার পর লাশ গুমচেষ্টার অভিযোগে আদালতের বিচারক মুহিদ আলম ময়না চৌকিদার, তাজউদ্দিন আহমদ বাদল ও শামীম আহমদের বিরুদ্ধে আলাদা অভিযোগ আনেন। ১ অক্টোবর থেকে শুরু হয় রাজন হত্যা মামলার সাক্ষ্য গ্রহণ। মামলার মোট সাক্ষী ৩৮ জনের মধ্যে ৩৬ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ করা হয় আদালতে। ২৫ আগস্ট পলাতক কামরুল ও শামীমের মালামাল ক্রোক করে নগরীর জালালাবাদ থানা পুলিশ। ৭ সেপ্টেম্বর রাজন হত্যা মামলা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত থেকে মহানগর দায়রা জজ আদালতে হস্তান্তর করা হয়। নির্মম এ হত্যাকান্ডের পর মামলার প্রধান আসামি কামরুল ইসলাম পালিয়ে সৌদি আরবে চলে যান। সেখানে গিয়েও তার শেষ রক্ষা হয়নি। প্রবাসীরা তাকে ধরে বাংলাদেশ দূতাবাসে হস্তান্তর করেন। ইন্টারপোলের মাধ্যমে ১৫ অক্টোবর কামরুল ইসলামকে দেশে ফিরিয়ে আনে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।