ব্রেকিং নিউজ

সন্ধ্যা ৬:০২ ঢাকা, রবিবার  ২২শে এপ্রিল ২০১৮ ইং

রাখাইনরা সীমান্তের দিকে
রাখাইনরা সীমান্তের দিকে, ছবিঃ নিউ ইয়র্ক টাইমসের

রাখাইনের লড়াই তীব্র আকার ধারণ, মানুষ ছুটছে সীমান্তের দিকে

মিয়ানমারে নিরাপত্তা রক্ষাকারী ও বিদ্রোহীদের মধ্যে সংঘাত ভয়াবহ রূপ ধারণ করেছে। দেশটির পশ্চিমাঞ্চলীয় রাখাইন প্রদেশে নিরাপত্তা রক্ষাকারীদের সঙ্গে তাদের বিদ্রোহ এত তীব্র আকার ধারণ করেছে যে, আতঙ্কিত বেসামরিক লোকজন রুদ্ধশ্বাসে ছুটে আসছে বাংলাদেশের দিকে। তবে বাংলাদেশ সীমান্তে তাদের বিরুদ্ধে নেয়া হয়েছে কড়া ব্যবস্থা।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাবশালী পত্রিকা নিউ ইয়র্ক টাইমসে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এ কথা বলা হয়েছে। ‘অ্যাজ মিয়ানমার ফাইটিং সোয়েলস, এ ডেসপারেট ফ্লাইট টু দ্য বর্ডার’ শীর্ষক এ প্রতিবেদনটি লিখেছেন সাংবাদিক এরিক নাগোরনি।

এতে তিনি আরো লিখেছেন, যারা এ অবস্থার শিকার হচ্ছেন তারা সংখ্যালঘু রোহিঙ্গা মুসলিম। তারা দীর্ঘদিন ধরে মিয়ানমারে নিষ্পেষণের মুখোমুখি। রাখাইনে বসবাস করেন প্রায় ১০ লাখ রোহিঙ্গা। এখানে বিদ্রোহী ও নিরাপত্তা রক্ষীদের ভিতরে ভয়াবহ লড়াই ক্রমশ বৃদ্ধি পাচ্ছে।
রবিবার মিয়ানমারের নেত্রী অং সান সুচি এক বিবৃতিতে বলেছেন, বৃহস্পতিবার রাতে সহিংসতা শুরুর পর নিহতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৯৬।

প্রতিবেদনে বলা হয় যদিও পর্যবেক্ষকরা বলছেন, এ সংখ্যা অনেক বেশি। নিহতদের মধ্যে রয়েছে রোহিঙ্গা বিদ্রোহীরা ও সরকারের বিভিন্ন বাহিনীর সদস্য। কিন্তু বিদ্রোহী ও নিরাপত্তারক্ষীদের মধ্যকার এই লড়াইয়ে সবচেয়ে ঝুঁকিতে পড়েছেন বেসামরিক সাধারণ মানুষ। ফেব্রুয়ারিতে জাতিসংঘ এক রিপোর্টে বলেছে, রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে সেনাবাহিনীর দমন অভিযানে গণধর্ষণ করা হয়েছে। কয়েক শত মানুষকে হত্যা করা হয়েছে। এতে ৯০ হাজারের মতো মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন। রবিবার তাদের কিছু সংখ্যক বাংলাদেশে প্রবেশ করতে সক্ষম হয়েছেন। কিন্তু রোহিঙ্গাদের এই যাত্রা ছিল অত্যন্ত কষ্টসাধ্য। অনেকেই এভাবে আশ্রয় নিতে পারেন নি। তাদেরকে সীমান্ত থেকে ফিরিয়ে দিয়েছে বাংলাদেশ।

প্রতিবেদনে আরো বলা হয় বাংলাদেশ সীমান্তের প্রত্যক্ষদর্শী ও শরণার্থীরা বার্তা সংস্থা এপি’কে বলেছেন, পরিস্থিতি অত্যন্ত উত্তেজনাকর। মিয়ানমার থেকে হাজার হাজার রোহিঙ্গা পালানোর চেষ্টা করছেন। কিন্তু ব্যর্থ হচ্ছেন তারা। প্রত্যক্ষদর্শীরা বলেছেন, গুলির শব্দ শোনা যাচ্ছে রাখাইনে। বাংলাদেশ থেকে মিয়ানমারের আকাশে টহল দিতে দেখা গেছে সেনাবাহিনীর হেলিকপ্টার। যাদেরকে (বাংলাদেশে) প্রবেশ করতে দেয়া হচ্ছে না তার মধ্যে নারীরাও রয়েছেন। সর্বশেষ সহিংসতার পর এ পর্যন্ত কমপক্ষে দুই হাজার রোহিঙ্গা সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশে সক্ষম হয়েছেন। আরো কয়েক শত আটকরা পড়েছে ‘নো ম্যানস ল্যান্ডে’। তাদের সামনে সুযোগ খুবই সীমিত। তারা সুযোগ খুঁজছেন। অথবা অপেক্ষা করছেন দেশের পরিস্থিতি শান্ত হলে ফিরে যাবেন।