ব্রেকিং নিউজ

দুপুর ১:৫৭ ঢাকা, শুক্রবার  ২১শে সেপ্টেম্বর ২০১৮ ইং

বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ

রফতানিতে অবদানে ১৬৪ জনকে সিআইপি কার্ড দিলেন বাণিজ্যমন্ত্রী

রফতানি খাতে বাণিজ্যিক গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি (সিআইপি) নির্বাচিত হয়েছেন ১৬৪ জন। রফতানি বাণিজ্যে গুরুত্বপূর্ণ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ২০১৩ সালের জন্য ১৪টি পণ্য খাতে ১২৫ রফতানিকারক এবং পদাধিকার বলে ৩৯ ব্যবসায়ী নেতাকে সিআইপি নির্বাচন করা হয়।

সোমবার রাজধানীর একটি হোটেলে বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ প্রধান অতিথি থেকে তাদের হাতে সিআইপি কার্ড তুলে দেন।

এ উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব হেদায়েতুল্লাহ আল মামুন, বাংলাদেশ শিল্প ও বণিক সমিতি ফেডারেশনের (এফবিসিসিআই) সভাপতি আব্দুল মাতলুব আহমাদ, রফতানি উন্নয়ন ব্যুারোর (ইপিবি) ভাইস চেয়ারম্যান বেগম মাফরূহা সুলতানা প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।

সিআইপি (রফতানি ও ট্রেড) পরিচয়পত্রধারীদের অনুকূলে সরকার প্রদত্ত বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা আজ থেকে আগামী এক বছরের জন্য বহাল থাকবে। এটি বাংলাদেশ সচিবালয়ে প্রবেশের ক্ষেত্রে প্রবেশপত্র হিসেবে গণ্য হবে। কার্ডধারীরা বিভিন্ন জাতীয় অনুষ্ঠান এবং সিটি কর্পোরেশন আয়োজিত নাগরিক সংবর্ধনায় আমন্ত্রণ পাবেন। তাঁদের ব্যবসা সংক্রান্ত ভ্রমণের সময় বিমান, রেলপথ, সড়ক ও জলপথে সরকারি যানবাহনে আসন সংরক্ষণে অগ্রাধিকার থাকবে। ব্যবসার কাজে বিদেশ ভ্রমনের ক্ষেত্রে ভিসা প্রাপ্তির জন্য তাঁদের অনুকূলে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে সংশ্লিষ্ট দূতাবাসে ‘লেটার অব ইনট্রুডাকশন’ দেয়া হবে। তাঁদের স্ত্রী, পুত্র, কন্যা ও নিজের চিকিৎসার জন্য হাসপাতালের কেবিন সুবিধার ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার থাকবে। কার্ডধারীরা বিমান বন্দরে ভিআইপি লাউঞ্জ-২ ব্যবহারের সুবিধাও পাবেন।

অনুষ্ঠানে বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ বলেন,২০১৮ সালের পর দেশে গ্যাসের কোন সংকট থাকবে না। তখন ব্যবসায়ীরা চাহিদামাফিক গ্যাস পাবেন। তিনি বলেন,কয়েকটি বিদেশী কোম্পানীকে গ্যাস উত্তোলনের দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। আশা করছি ২০১৮ সালের মধ্যে গ্যাসের সব সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে।

ভোলায় কয়েকটি নতুন গ্যাস ক্ষেত্রের অনুসন্ধান পাওয়া গেছে উল্লেখ করে বাণিজ্যমন্ত্রী ব্যবসায়ীদের এসব গ্যাস ক্ষেত্র থেকে গ্যাস উত্তোলনের জন্য বিনিয়োগের আহবান জানান ব্যবসায়ীদের প্রতি।

তিনি বলেন,প্রচলিত পণ্যের পাশাপাশি সরকার অপ্রচলিত পণ্য রফতানি সম্প্রসারণের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে। প্লাস্টিক, আইটি ও ওষুধ রফতানির ওপর নগদ সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। ২০২১ সাল নাগাদ এই তিনটি পণ্যের প্রত্যেকটি থেকে ৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার রফতানি আয় করা সম্ভব হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

তোফায়েল আহমেদ পোশাক আমদানিকারক কয়েকটি দেশের সমালোচনা করে বলেন,যেসব দেশ বাংলাদেশের পোশাক কারখানায় ট্রেড ইউনিয়ন আছে কি-না, এ নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন-সেসব দেশে শতভাগ ট্রেড ইউনিয়ন নেই। বড় পোশাক রফতানিকারক দেশ চীন ও ভিয়েতনামে  ট্রেড ইউনিয়ন নেই, অথচ সেখানে তারা কোন প্রশ্ন করছেন না। কারোর কোন চাপে বাংলাদেশ মাথা নোয়াবে না বলে তিনি মন্তব্য করেন।

এফবিসিসিআই সভাপতি আব্দুল মাতলুব আহমাদ রফতানিকারকদের জন্য দেশে শিল্প ও বিনিয়োগ সহায়ক অবকাঠামো নিশ্চিত করার আহবান জানান।