ব্রেকিং নিউজ

রাত ৮:৪৬ ঢাকা, শনিবার  ২২শে সেপ্টেম্বর ২০১৮ ইং

ফাইল ফটো

রক্ষীবাহিনীর প্রেতাত্মা নিয়ে যৌথবাহিনী বিভৎস তান্ডব চালাচ্ছে

২০ দল ষোঘিত অবরোধ কর্মসূচি চালিয়ে যেতে জোটের নেতাকর্মীদের প্রতি আহবান জানিয়েছেন বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। শুক্রবার গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, বিরোধী দলের গণতান্ত্রিক অধিকারসমূহ তথা বাক, সমাবেশ, চলাচলের স্বাধীনতা ও জনগণের ভোটাধিকার পূণরুদ্ধারের চলমান আন্দোলনকে দমাতে বর্তমান অবৈধ সরকার জনগণের টাকায় পরিচালিত বিভিন্ন সরকারি বাহিনীকে জনগণের বিরুদ্ধে ব্যবহার করছে। বিজিবি’র মহাপরিচালক ‘প্রয়োজনে আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহার করবে বিজিবি’ বলে যে হুমকি দিয়েছেন সেটি নজীরবিহীন, অমানবিক ও আতংকজনক। বিভিন্ন আইন প্রয়োগকারী সংস্থাকে নিজেদের স্বার্থে ব্যবহার করতে গিয়ে গুরুত্বপূর্ণ পদে নিজেদের লোকদের বসিয়ে এই সমস্ত বাহিনীগুলোকে গণশত্রুতে পরিণত করা হয়েছে। বিজিবি’র দায়িত্ব সীমান্ত পাহারা দেয়া। প্রায় প্রতিদিনই আমাদের দেশের লোককে সীমান্তে গুলি করে হত্যা করা হচ্ছে। ফেলানীর লাশ যখন কাঁটাতারের ওপর ঝোলে তখন এই ধরণের মহাপরিচালকরা নিশ্চুপ থাকে। কিন্তু জনগণের বিরুদ্ধে অস্ত্রধারণ করতে এরা দ্রুত তৎপরতা দেখায়।
দলের সহ দপ্তর সম্পাদক আবদুল লতিফ জনি সাক্ষরিত বিবৃতিতে রিজভী আহমেদ বলেন, যৌথবাহিনীর নামে গ্রামে-গঞ্জে নিরীহ জনগণের ওপর চালানো হচ্ছে আক্রমণ। র‌্যাব, পুলিশ ও বিজিবি’র সমন্বয়ে গঠিত যৌথবাহিনী মানুষ হত্যার নির্দেশনা নিয়ে চলমান আন্দোলনের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ছে। ৭২-৭৫ এর রক্ষীবাহিনীর প্রেতাত্মা নিয়ে এই যৌথবাহিনী গ্রামে-গঞ্জে বিভৎস তান্ডব চালাচ্ছে। চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার শিবগঞ্জ-কানসাটের কয়েকটি গ্রামে যৌথবাহিনী অভিযান চালিয়ে বিরোধী দলের নেতা-কর্মীদের হত্যা, বাড়ীঘর ভাংচুর এবং অগ্নিসংযোগ করে পুড়িয়ে ছাই করে দিয়েছে। আতংকে দিশেহারা মানুষ এলাকা ছেড়ে পালিয়ে যাচ্ছে। এই পৈশাচিক তান্ডব চলছে শিবগঞ্জ-কানসাটসহ সারা বাংলাদেশে। বাপকে ধরতে গিয়ে ছেলেকে কিংবা ছেলেকে ধরতে গিয়ে পিতাকে অথবা ভাইকে ধরে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। পরিবারের মা-বোনদের সাথে করা হচ্ছে ভয়ংকর অসদাচরণ।
রিজভী বলেন, আমরা দলের পক্ষ থেকে বারবার বলেছিলাম, বর্তমান আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এখন আর জনগণের বাহিনী নয়, এটি দলীয় ক্যাডারে সাজানো আওয়ামী রক্ষাকারী বাহিনী, যদিও জনগণের টাকায় তারা বেতন পায়। তিনি বলেন, শতকরা ৫ ভাগ ভোট নিয়ে জোর করে ক্ষমতা আঁকড়ে ধরা এই প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতার মসনদ থেকে অবতরণ করতে এতো অনিহা কেন? কারণ এই ভোটারবিহীন সরকার এতোই অনাচার করেছে যে, জনগণের ক্রোধের ভয়ে দলীয় লোকদের দিয়ে গঠিত আইন প্রয়োগকারী বাহিনীর প্রহরায় ক্ষমতা আঁকড়ে ধরে আছে। তাই সংকট নিরসন করতে তারা ভয় পা্েচ্ছ।
তিনি বলেন, বিএনপি প্রতিহিংসার রাজনীতি করে না এবং ক্ষমতায় গেলে কারও প্রতি প্রতিহিংসামূলক আচরণ করবে না। আইনের শাসন ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে আমরা বদ্ধপরিকর। জনগণের ভোটের অধিকার ফিরে পাওয়া ও একটি অবাধ নির্বাচন নিশ্চিত করার জন্যই আমরা জনগণকে সাথে নিয়ে লাগাতার এই আন্দোলনে রত আছি। এই অবৈধ সরকার এখন খাদের কিনারায় এসে দাঁড়িয়েছে। আবারও আহবান জানাচ্ছি, একটি অর্থবহ নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য জনগণের ক্ষমতা জনগণের কাছে ফিরিয়ে দিতে এই মূহুর্তে কার্যকর সংলাপের ব্যবস্থা করুন। উৎপীড়ণ, পরিকল্পিত নাশকতা, প্রকাশ্য গুলি করে অবরোধকারীদের হত্যা আর ধরপাকড়ের পথ থেকে সরে আসুন। দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে অবরুদ্ধ অবস্থা থেকে মুক্তি দিন। যতক্ষণ পর্যন্ত না বিজয় অর্জিত হচ্ছে ততক্ষণ পর্যন্ত চলমান অবরোধ কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে।