ব্রেকিং নিউজ

সকাল ৬:২২ ঢাকা, শনিবার  ১৭ই নভেম্বর ২০১৮ ইং

আবদুর রব
জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল-জেএসডির সভাপতি আ স ম আবদুর রব, ফাইল ফটো

রকিব মার্কা নির্বাচন কমিশন এলে মানব না: রব

জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল-জেএসডির সভাপতি আ স ম আবদুর রব বলেছেন, সামনে রকিব মার্কা কোন কমিশন এলে তা মানা হবে না। সোমবার বিকালে জাতীয় প্রেসক্লাব মিলনায়তনে দলের ৪৪ তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকীর আলোচনাসভায় তিনি এ মন্তব্য করেন।

আবদুর রব বলেন, প্রধান নির্বাচন কমিশনার কাজী রকীব উদ্দিন আহমদসহ বর্তমান সব নির্বাচন কমিশনার মেরুদন্ডহীন। তারা নির্দিষ্ট দলের আনুগত্য করে।

তিনি বলেন, সুশাসন ছাড়া গণতন্ত্র ও উন্নয়ন টেকসই হয়না। এজন্য জনগণের মৌলিক মানবাধিকার, গণতন্ত্র এবং অবাধ ও সুষ্ঠ নির্বাচন নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে সৎ, নিরপেক্ষ ও সাহসী ব্যক্তিদের সমন্বয়ে নতুন নির্বাচন কমিশন গঠন করতে হবে।

প্রধানমন্ত্রীকে উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, এক সময় পাকিস্তানিরা মনে করতেন, আওয়ামী লীগকে ক্ষমতা দেয়া যাবে না এতে পাকিস্তান ভেঙ্গে যাবে। আর এখন আওয়ামী লীগ মনে করছে অন্য কোন দলকে ক্ষমতায় আসতে দেয়া হবে না এতে তাদের ভয়াবহ পরিনতি হবে। দেশে জঙ্গীবাদ তৈরী হয়েছে মানুষের মৌলিক অধিকার না থাকার কারণে। মানুষের অধিকার না থাকলে আরও অনেক সমস্যা হয়ে থাকে। স্বৈরতন্ত্র বেশি দিন টিকে থাকে না। এখন আপনারা কিভাবে বিদায় নিবেন সেটা নিয়ে ভাবেন। তা না হলে যেভাবে দেশ শাসন করছেন পরিস্থিতি কি হবে সেটা আল্লাহ ভালো জানেন।

নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, জাতীয় জীবনে আজ যে সংকট, ঘুষ, দুর্নীতি, হত্যা, ধর্ষণ লুটপাট ও সন্ত্রাস- জঙ্গীবাদ যে ভাবে বিস্তার লাভ করেছে তাতে জাতীয় ঐক্যের কোন বিকল্প নেই। তৃণমূল পর্যন্ত গণতন্ত্রের বিস্তার, ক্ষমতার কার্যকর বিকেন্দ্রীকরণ করে তৃতীয় রাজনৈতিক শক্তি গড়ে তুলতে হবে।

বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী বীর উত্তম বলেন, আওয়ামী লীগের কাউন্সিলে খালেদা জিয়ার না যাওয়ার সিদ্ধান্তটা সঠিক। কারণ সেখানে গেলে খালেদা জিয়াসহ বিএনপি নেতাদের ঠিক মতো বসার জায়গা দেয়া হতো না। তাদের কথা বলার সুযোগ দেয়া হতো না। কারণ আমরা দেখেছি বিকল্পধারা বাংলাদেশের সভাপতি ও সাবেক প্রেসিডেন্ট এ কিউ এম বদরুদ্দোজা চৌধুরী সম্মেলনে গিয়েছেন। তাকে যথা সম্মানে বসার জায়গা দেয়া হয়নি। তাকে বক্তব্য দেয়ার সুযোগ দেয়া হয়নি। যেখানে বদরুদ্দোজা চৌধুরীকে সুযোগ দেয়া হয়নি সেখানে কোথায় আমি কাদের সিদ্দিকী আর কোথায় আবদুর রব। তিনি বলেন, খালেদা জিয়ার আওয়ামী লীগের কাউন্সিলে না যাওয়ার সিদ্ধান্ত ভুল ছিল বলেছেন জাফরুল্লাহ চৌধুরীসহ অনেকেই।  আমি তাদের  সঙ্গে একমত নই। খালেদা জিয়ার না যাওয়ায় সঠিক ছিল। কাউন্সিলের সমালোচনা করে কাদের সিদ্দিকী বলেন, জাকজমকপূর্ণ কাউন্সিল হয়েছে। স্বাধীনতায় আমাদের কোন অবদান হয়তো নেই তার জন্য আমরা দাওয়াত পাইনি। এতে আমাদের কোন দুঃখ নেই। কিন্তু বি চৌধুরীর মত একজন প্রবীন লোককে দাওয়াত করে কোন কথা বলতে দেয়া হয়নি এটি কেমন আচরণ। এটি একটি ব্যর্থ কাউন্সিল, এর মত ব্যর্থ কাউন্সিল পৃথিবীর কোথাও হয়নি,  হবেও না। তিনি বলেন, হয়তো বেগম খালেদা জিয়া গেলে বক্তব্য দেয়ার সুযোগ দেয়া হতো কিন্তু যথাযোগ্য সম্মান দিতনা আওয়ামী লীগ। এই জন্য তার না যাওয়াটায় ঠিক হয়েছে। ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী বলেন, বিএনপি নেত্রী খালেদা জিয়ার মানসিক অবস্থা পরিবর্তন করে সকল বিরোধী দলের সঙ্গে আলোচনা করতে হবে। তা না হলে শক্তিশালী আন্দোলনও করা যাবে না। এই সরকারের পতনও করা যাবে না। তিনি আরও বলেন, এই সরকার চট্টগ্রামের সাবেক এসপি বাবুল আক্তারের স্ত্রীর খুনিদের জামিন দেয় কিন্তু মাহমুদুর রহমান মান্নাকে জামিন দেয় না। বছরের পর বছর বিনা বিচারে কারাগারে বন্দি রেখেছে। জেএসডির যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক শহীদ মাহমুদ স্বপনের পরিচালনায় আলোচনা সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন, কমরেড খালেকুজ্জামান, এসএম আকরাম, আবদুল মালেক রতন, এম এ গোফরান, আতাউল করিম ফারুক, মো. সিরাজ মিয়া, তানিয়া ফেরদৌসী প্রমুখ।