ব্রেকিং নিউজ

সকাল ৯:৩০ ঢাকা, বুধবার  ২৩শে মে ২০১৮ ইং

যৌন হয়রানির অভিযোগে সেই চিকিৎসক সাসপেন্ড

আদালতের আদেশে অবশেষে বরখাস্ত করা হল স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজের সেই চিকিৎসককে। তিনি হলেন নেফ্রোলজি বিভাগের সহযোগী  অধ্যাপক ডা. মাসুদ ইকবাল।

ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের এক নারী চিকিৎসক তাঁর বিরুদ্ধে যৌন হয়রানির অভিযোগ এনে মামলা করেছিলেন আইন শৃঙ্খল বাহিনী কর্তৃক কোন সরকারি কর্মচারী অপরাধের পর সাসপেন্ড অপরিহার্য হলে ও  মাসুদ ইকবালের বেলায় তা হয়নি।

স্বাস্থ্য সচিব নজরুল ইসলাম এতে বাধ সাধেন অবশেষে উচ্চ আদালতের এক আদেশে স্বাস্থ্য সচিব রোববার তাঁকে সাসপেন্ড করতে বাধ্য হন।

রোববার  স্বাস্থ্য সচিব সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনে তাকে তিন মাসের জন্য বরখাস্ত করা হয়েছে।

এর আগে, ঢামেক হাসপাতালের ওই নারী চিকিৎসক মাসুদের বিচার চেয়ে নারী ও শিশু ট্রাইব্যুনাল ৪ মামলা করেন।

এরই মধ্যে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের শৃঙ্খলা-১ শাখা থেকে ডা. মাসুদকে সাময়িক বরখাস্তকরণের কথা বলা হয়। তবে, গ্রেফতার হওয়ার পরই তার বরখাস্তের আদেশ কার্যকর হবে।

গত ১ অক্টোবর মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (শৃঙ্খলা) সুভাষ চন্দ্র সরকার স্বাক্ষরিত নথিতে বলা হয়, ডা. মাসুদের বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল আদালত-৪ এ মামলা দায়ের করা হয়। মামলার প্রেক্ষিতে গত ২১ জুন আদালত মাসুদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে। বাংলাদেশ সার্ভিস রুল অনুযায়ী ফৌজদারী অভিযোগে গ্রেফতার হওয়ার তারিখ থেকে সাময়িক বরখাস্ত বলে বিবেচিত হবেন।

তবে, আদালত অভিযোগ গঠনের পরও মাসুদকে সাময়িক বরখাস্ত না করায় বাদী চিকিৎসক নিজের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন।  এর আগে, অভিযুক্ত চিকিৎসককে সাময়িক বরখাস্ত করতে গত ২৩ সেপ্টেম্বর স্বাস্থ্য সচিব সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম বরাবর আবেদন জানান তিনি।

আবেদনে বলা হয়, স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজের নেফ্রোলজি বিভাগের ডা. মাসুদ ইকবালের বিরুদ্ধে মামলাটি নারী ও শিশু ট্রাইবুনাল ৪ এ বিচারাধীন। মামলার চার্জশিট ও চার্জ ফ্রেম গঠিত হয়েছে। এরই মধ্যে মাসুদ বিষয়টি গোপন করে ১০ দিনের ছুটি নিয়ে আমেরিকার কথা বলে কানাডায় অবস্থান করেন ৩ মাস।

ওই নারী চিকিৎসক বলেন, প্রমাণসহ সব তথ্য দিয়ে মন্ত্রণালয়ে পাঠালে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়।

বর্তমানে মামলা চলাকালীন সময়ে ডা. মাসুদ ইকবালকে চার্জশিট ও চার্জফ্রেম হওয়ার পরেও বরখাস্ত না করা হলে মামলাটি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি।

রোববারের জারি করা প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগ মাসুদ ইকবালকে ৩ মাস বরখাস্তের আদেশ প্রদান করেন। তারই প্রেক্ষিতে তাকে ৩ মাসের জন্য বরখাস্ত করা হয়।

এই বরখাস্তের আদেশ সুপ্রিম কোর্টের রায় প্রকাশের দিন, ১৯ অক্টোবর ২০১৫ থেকে কার্যকর হবে।