ব্রেকিং নিউজ

রাত ১২:৫৩ ঢাকা, শুক্রবার  ২৭শে এপ্রিল ২০১৮ ইং

ভ্যালেন্তিনো টাল্লুতো
২০১৫ সালে ভ্যালেন্তিনো টাল্লুতোকে গ্রেফতার করা হয়

যৌন সম্পর্কের মাধ্যমে ‘এইচআইভি’ ছড়ানোই ছিল তাঁর কাজ

এইচআইভিতে আক্রান্ত ইটালির এক ব্যক্তিকে ২৪ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছে সে দেশের আদালত।

যৌন সম্পর্ক স্থাপনের মাধ্যমে সে ব্যক্তি ইচ্ছাকৃত ভাবে ৩০জন নারীর দেহে এইচআইভি ভাইরাসের সংক্রমণ ঘটিয়েছেন।

৩৩ বছর বয়সী সে ব্যক্তির নাম ভ্যালেন্তিনো টাল্লুতো এবং তিনি পেশায় একজন হিসাবরক্ষক।

দশ বছর আগে তিনি যখন এইচআইভিতে আক্রান্ত হবার বিষয়টি জানতে পারেন, তখন তিনি ইন্টারনেটের মাধ্যমে বিভিন্ন নারীদের প্রলুব্ধ করে তাদের সাথে পরিচয় এবং পরে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করতেন।

এর উদ্দেশ্য ছিল নারীদের দেহে এইচআইভির সংক্রমণ ঘটানো।

তিনি বলেন, ২০০৬ সালে তাঁর দেহে এইচআইভি ভাইরাস সনাক্ত হবার পরে ৫৩ জন নারীর সাথে তিনি যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেছিলেন এবং এদের মধ্যে একজনের বয়স ছিল ১৪ বছর।

মি: টাল্লুতোর আইনজীবী বলছেন, তাঁর মক্কেলের আচরণ ‘অপরিণত’ ছিল কিন্তু এটি ‘ইচ্ছাকৃত’ ছিল না।

তিনি যাদের সাথে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করতেন, তাদের মধ্যে কেউ যদি কনডম ব্যবহার করার জন্য বলতেন, তখন মি: টাল্লুতো যুক্তি দেখাতেন যে তাঁর অ্যালার্জি রয়েছে এবং তিনি সম্প্রতি এইচআইভি পরীক্ষা করিয়েছেন।

যৌন সম্পর্ক স্থাপন করা নারীদের মধ্যে কেউ-কেউ যখন বুঝতে পারেন যে মি: টাল্লুতোর এইচআইভি সংক্রমণ রয়েছে, তখন তিনি বিষয়টি অস্বীকার করে বলতেন, এইডস হবার মতো কোন মারাত্মক ভাইরাসে তিনি আক্রান্ত নন।

মি: টাল্লুতোর সাথে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করে যেসব নারী এইচআইভিতে আক্রান্ত হয়েছেন, তাদের সাথে যৌন সম্পর্ক করার জন্য আরো চারজন পুরুষের দেহে এইচআইভি সংক্রমণ হয়েছে।

এদের মধ্য থেকে একজন নারীর সন্তানও এইচআইভিতে আক্রান্ত হয়েছে।

মি: টাল্লুতোর বয়স যখন চার বছর তখন তাঁর মা এইচআইভি সংক্রমণে মারা যান।

তিনি আদালতে বলেন, কোন নারীর দেহে ইচ্ছাকৃত ভাবে এইচআইভি সংক্রমণের ইচ্ছা যদি থাকতো তাহলে তিনি তাদের সাথে সত্যিকারের সম্পর্কে জড়াতেন না।

আদালতে তিনি বলেন, ” অনেক মেয়ে আমার পরিবার এবং বন্ধুদের সম্পর্কে জানে। তারা বলছে, আমি অধিক সংখ্যক নারীর দেহে এইচআইভি সংক্রমণ ছড়িয়ে দিতে চেয়েছি। সেটা যদি সত্যি হতো, তাহলে আমি তাদের সাথে সত্যিকারের সম্পর্কে না জড়িয়ে পানশালায় খুব সাধারণভাবে যৌন সম্পর্ক করতে পারতাম।”

স্থানীয় গণমাধ্যম বলছে, রায় ঘোষণার সময় মি: টাল্লুতো কাঁদছিলেন।

সরকারী কৌসুলিরা তার যাবজ্জীবন সাজা চাইলে আদালত সেটি না দিয়ে ২৪ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছে। -বিবিসি