সৌদি আরবের যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান
সৌদি আরবের যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান, সংগৃহীত ছবি।

যুবরাজ সালমানকে সরিয়ে দিচ্ছে?

সাংবাদিক জামাল খাশোগি হত্যার ঘটনায় বেকায়দায় আছেন সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান। খোদ রাজ পরিবারেই তাকে নিয়ে দ্বিধাবিভক্তি চলছে। সৌদি আরবেরই অনেকে তাকে ক্ষমতা থেকে সরাতে বিশেষ আগ্রহী।

প্রচণ্ড চাপে থাকা রাজপরিবার সম্প্রতি বাদশাহর নির্বাসিত ছোট ভাই আহমেদ বিন আবদুল আজিজকে দেশে ফিরিয়ে এনেছেন। ১১ মাস আগে গ্রেফতার হওয়া প্রিন্স খালিদ বিন তালালকে শনিবার মুক্তি দিয়েছে। এসব আলামত থেকে সৌদি রাজপরিবারে পরিবর্তনের সুর বোঝা যাচ্ছে।

খুব শীঘ্রই যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানকে সরিয়ে দেয়া হতে পারে মার্কিন প্রতিরক্ষা দফতর পেন্টাগনের সাবেক কর্মকর্তা মাইকেল মালুফের উদ্ধৃতি দিয়ে রোববার রুশ গণমাধ্যম আরটি নেটওয়ার্ক খবর প্রকাশ করেছে।

সাবেক এ মার্কিন উপদেষ্টা বলেন, যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান সৌদি আরবের প্রভাবশালী ব্যক্তিদের নানাভাবে উৎপীড়ন করে বিপর্যস্ত করে তুলেছেন। ফলে সৌদি পরিবারের ভেতরেই তার বিরুদ্ধে বিদ্রোহের সুর বাজছে।

ওইসব বিদ্রোহীরা যেকোনো মুহূর্তে যুবরাজের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করতে পারেন মন্তব্য করে তিনি বলেন, নিশ্চিতভাবেই তা ভাবা হচ্ছে (অভ্যুত্থান হবে)। কারণ, সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান রাজপরিবারের বহু সংখ্যক সদস্যকে নিজের শত্রু বানিয়েছেন। এজন্য বিদ্রোহীদের অভ্যুত্থান সময়ের ব্যাপার মাত্র।

তবে যুবরাজের বিরুদ্ধে যারা বিদ্রোহ করতে বা অভ্যুত্থান ঘটাতে চান তারা যুক্তরাষ্ট্র ও পশ্চিমা দেশগুলোর সহযোগিতা চান। কিন্তু এখনো পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র ও পশ্চিমা দেশগুলো মোহাম্মদ বিন সালমানকে সহযোগিতা করছে। সেকারণে অভ্যুত্থান থমকে আছে। তবে শীঘ্রই তারা বিকল্প বেছে নেবে বলে মনে করেন তিনি।

বাদশাহর ভাই আহমেদ বিন আবদুল আজিজ সম্প্রতি নির্বাসন থেকে দেশে ফিরে গেছেন। এ বিষয়টি নিয়ে সংবাদ মাধ্যম আরটির মালুফ বলেন, যুক্তরাজ্য ও যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর কাছ নিরাপত্তার নিশ্চয়তা পাওয়ার পরই তিনি দেশে ফিরেছেন।

মালুফ বলেন, যদি বাদশাহর ভাইয়ের প্রতি পশ্চিমাদের সমর্থন না থাকতো তাহলে তিনি কোনোভাবেই দেশে ফিরতে পারতেন না। তার দেশে ফেরাটা অভ্যুত্থানের প্রথম পদক্ষেপ।

এদিকে যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানকে ক্ষমতাচ্যুত করার দাবি জানিয়েছেন মার্কিন কংগ্রেসে সৌদি আরবের অন্যতম সরব সমর্থক সিনেটর লিন্ডসে গ্রাহাম। গত মাসে তিনি বলেছিলেন, ওকে (যুবরাজকে) ক্ষমতা ছেড়ে যেতেই হবে। এই লোক একটা বিধ্বংসী গোলা। ও তুরস্কের কনস্যুলেটে এক ব্যক্তিকে হত্যা করার পর আশা করছে আমি এটা উপেক্ষা করব। আমার মনে হচ্ছে ও আমাদের ব্যবহার ও অপব্যবহার করছে।