ব্রেকিং নিউজ

রাত ১২:২৯ ঢাকা, শুক্রবার  ২১শে সেপ্টেম্বর ২০১৮ ইং

যুদ্বাপরাধ: তিন ভাইয়ের রায় যে কোন দিন ঘোষণা

মুক্তিযুদ্ধকালীন মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় হবিগঞ্জ জেলার খাগাউড়া ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান মাহিবুর রহমান ওরফে বড় মিয়া ও তার ছোট ভাই বর্তমান ইউপি চেয়ারম্যান মুজিবুর রহমান ওরফে আঙ্গুর মিয়া এবং তাদের চাচাতো ভাই আব্দুর রাজ্জাকের বিরুদ্ধে যে কোন দিন রায় ঘোষণা করা হবে।

মামলায় উভয় পক্ষের শুনানি শেষে আজ বুধবার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চেয়ারম্যান বিচারপতি আনোয়ারুল হকের নেত্বেত্বে তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল মামলার যে কোন দিন রায় ঘোষণা করতে পারেন। বিচারিক প্যানেলের বাকি দুই সদস্য হলেন-বিচারপতি মো. শাহিনুর ইসলাম ও বিচারপতি মোহাম্মদ সোহরাওয়ার্দী।

গতবছর ৩০ এপ্রিল একই মামলার আসামি দুই ভাই বড় মিয়া ও আঙ্গুর মিয়ার বিরুদ্ধে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করে প্রসিকিউশন। সে সময় এ মামলার তদন্তকালে আব্দুর রাজ্জাকের সম্পৃক্ততার প্রমাণ পাওয়া গেছে উল্লেখ করে তার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারির আবেদন পেশ করা হয়।

এর আগে আসামিদের বিরুদ্ধে গতবছর ২৯ এপ্রিল তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ করে তদন্ত সংস্থা। আসামিদের বিরুদ্ধে হত্যা, ধর্ষণ, অপহরণ, নির্যাতন, অগ্নিসংযোগসহ ৪টি মানবতাবিরোধী অপরাধের সুনির্দিষ্ট অভিযোগ প্রকাশ করা হয়। গতবছর ৩১ মে এ তিনজনের বিরুদ্ধে চার অভিযোগ আমলে নেয় ট্রাইব্যুনাল।

গত বছর ১২ ফেব্রুয়ারি মাহিবুর রহমান ওরফে বড় মিয়া ও তার ছোট ভাই মুজিবুর রহমান ওরফে আঙ্গুর মিয়াকে কারাগারে প্রেরণ করে ট্রাইব্যুনাল। এর আগে মুক্তিযুদ্ধকালীন মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় আসামি দুই সহোদরকে এক আবেদনের প্রেক্ষিতে ট্রাইব্যুনালের নির্দেশে ১০ ফেব্রুয়ারি গ্রেফতার করা হয়।

২০০৯ সালে শহীদ মুক্তিযোদ্ধা আকল মিয়ার স্ত্রী ভিংরাজ বিবি হবিগঞ্জের জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মহিবুর রহমান বড় মিয়া ও মজিবুর রহমান আঙ্গুর মিয়ার বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ এনে মামলা দায়ের করেন। আদালত মামলাটি আমলে নিয়ে ২৫ কাযর্ দিবসের মধ্যে বানিয়াচং থানা পুলিশকে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেন। পরে মামলাটি আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে পাঠানো হয়। ২০১৪ সালের ২৬ নভেম্বর ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থা হবিগঞ্জে সরেজমিন তদন্তে আসেন। তদন্তে ২১ জন সাক্ষীর জবানবন্দি লিপিবদ্ধ করা হয়।

তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়, আসামি বড় মিয়া ও আঙ্গুর মিয়া মুক্তিযুদ্ধের সময় তাদের এলাকায় রাজাকার বাহিনী গড়ে তোলেন। তাদের মধ্যে বড় ভাই ছিলেন শান্তি কমিটির চেয়ারম্যান ও ছোট ভাই ছিলেন রাজাকার কমান্ডার। তাদের সহযোগী হিসেবে ছিলেন তাদের চাচাতো ভাই আব্দুর রাজ্জাক। আসামিরা এলাকার মুক্তিযোদ্ধাদের পাকিস্তানি বাহিনীর হাতে ধরিয়ে দেন।

তাদের বিরুদ্ধে প্রথম অভিযোগে বলা হয়েছে, মুক্তিযুদ্ধকালে ৭১ এর ১১ নভেম্বর বানিয়াচং উপজেলায় অভিযান চালিয়ে মুক্তিযোদ্ধা আকল আলী ও রজব আলীকে হত্যা করে মরদেহ গুম করে আসামিরা।

দ্বিতীয় অভিযোগে বলা হয়, আসামিরা মুক্তিযুদ্ধের উপ-প্রধান সেনাপতি মরহুম মেজর জেনারেল এম এ রবের বাড়িতে পাকিস্তানি বাহিনীর সহযোগিতায় হামলা চালিয়ে অগ্নিসংযোগ ও লুটপাট করে টাকা-পয়সা, স্বর্ণালঙ্কার নিয়ে যায় এবং ঘর-বাড়ি জ্বালিয়ে দেয়।

তৃতীয় অভিযোগে বলা হয়েছে, একই দিন বানিয়াচং উপজেলার খাগাউড়া এলাকার উত্তরপাড়ায় তাদের সহযোগিতায় পাকিস্তানি বাহিনী মঞ্জব আলীর স্ত্রী ও আওলাদ ওরফে আল্লাত মিয়ার ছোট বোনকে ধর্ষণ করে। ওই বোন বিষপানে করে আত্মহত্যা করে।

চতুর্থ অভিযোগে বলা হয়, মুক্তিযুদ্ধকালে আনছার আলীকে বাড়ি থেকে ধরে নিয়ে রাজাকার ক্যাম্পে নিয়ে নির্যাতন চালায় আসামিরা। ওই নির্যাতনে পঙ্গু হয়ে যান আনছার আলী।

প্রসিকিউশন দাবী করেছে আসামীদের বিরুদ্ধে আনীত এসব অভিযোগ তারা সাক্ষ্য-তথ্যের আলোকে প্রমাণ করতে পেরেছেন। আসামীদের দৃষ্টান্তমূলক সাজা প্রত্যাশা করেছে প্রসিকিউশন।