Sheersha Media

ব্রেকিং নিউজ

সকাল ৭:২২ ঢাকা, বুধবার  ২১শে নভেম্বর ২০১৮ ইং

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল

যুদ্ধাপরাধে এনএসআইয়ের সাবেক ডিজি গ্রেফতার

একাত্তরে মানবতাবিরোধী অপরাধে জড়িত থাকার অভিযোগ সম্পর্কিত এক মামলায় জাতীয় গোয়েন্দা সংস্থার (এনএসআই) এবং পাসপোর্ট ও ইমিগ্রেশন বিভাগের সাবেক ডিজি মো. ওয়াহিদুল হককে আজ রাজধানীর নিজ বাসা থেকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এর জারিকৃত ওয়ারেন্টের ভিত্তিতে মঙ্গলবার দুপুরে রাজধানীর ভাটারা থানা এলাকার বারিধারার বাসা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়।

যুদ্ধাপরাধীদের বিচারে গঠিত আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর ব্যারিস্টার তুরিন আফরোজের এক আবেদনের প্রেক্ষিতে মঙ্গলবার বিচারপতি আমির হোসেনের নেতৃত্বাধীন দু’সদস্যের ট্রাইব্যুনাল তাকে গ্রেফতারের নির্দেশ দেন।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা মতিউর রহমান জানান, আগামীকাল বুধবার তাকে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হবে।

তিনি জানান, ২০১৬ সালের ৫ ডিসেম্বর ওয়াহিদুল হকের বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ দায়ের করা হয়। এ অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত শুরু করা হয়। তদন্তকালে ওয়াহিদুল হক বিভিন্নভাবে তদন্ত সংশ্লিষ্টদের প্রভাবিত করারও চেষ্টা করে বলে তদন্ত কর্মকর্তা জানান।

ওয়াহিদুল হক ২০০৫ সালে পুলিশের অতিরিক্ত মহা-পরিদর্শক হিসেবে অবসরে যান।

মুহাম্মদ ওয়াহিদুল হকের পরিচয় তুলে ধরে মামলার প্রসিকিউটর ব্যারিস্টার তুরিন আফরোজ জানান, ১৯৭১ সালে নিরীহ নিরস্ত্র বাঙালীদের ওপর রংপুর ক্যান্টনমেন্টে যে গণহত্যার ঘটনা ঘটেছিল। সেই ঘটনায় পাকিস্তান সেনাবাহিনীর সদস্য হিসেবে তার (ওয়াহিদুল) সম্পৃক্ততা পাওয়া গেছে।

তুরিন আফরোজ জানান, ১৯৭১ সালের ২৮ মার্চ রংপুর ক্যান্টনমেন্টে ৪টি সেনাযান থেকে মেশিনগানের ব্রাসফায়ারে ৫ থেকে ৬শ’ নিরস্ত্র বাঙালী ও সাঁওতালদের হত্যা করা হয়। এ ঘটনার সঙ্গে তার জড়িত থাকার অভিযোগ পাওয়া গেছে। কারণ ওই সময় তিনি প্রথম জিপটির দায়িত্বে ছিলেন।

ওয়াহিদুল হকের গ্রামের বাড়ি মাদারীপুর জেলায়। ১৯৬৬ সালের ১৬ অক্টোবর তিনি পাকিস্তান সেনাবাহিনীতে ১১ ক্যাভালরি রেজিমেন্ট কমিশন প্রাপ্ত হন। তিনি ১৯৭৩ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত পাকিস্থান সেনাবাহিনীতে কর্মরত ছিলেন।

১৯৭৪ সালের ডিসেম্বরে তিনি দেশে ফিরে আসেন। সে সময় তাকে সেনাবাহিনী থেকে অবসর দেওয়া হয়।

এরপর ১৯৭৬ সালের ১ অক্টোবর ওয়াহিদুল হক বাংলাদেশ পুলিশের এএসপি হিসেবে নিযুক্ত হন। পরে চট্টগ্রামের পুলিশ কমিশনার হিসেবে ১৯৯১ সাল পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করেন। এরপর ১৯৯১ থেকে ১৯৯৬ সাল পর্যন্ত এনএসআই এর পরিচালক ছিলেন। পরে একই সংস্থার ভারপ্রাপ্ত মহাপরিচালক হিসেবে তিনি দায়িত্ব পালন করেন। এরপর ১৯৯৭ থেকে ২০০০ সাল পর্যন্ত তিনি পাসপোর্ট অফিসের ডিজি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। পরে ২০০৫ সালে পুলিশের অতিরিক্ত আইজি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।