ব্রেকিং নিউজ

দুপুর ২:২০ ঢাকা, বুধবার  ২৬শে সেপ্টেম্বর ২০১৮ ইং

ফাইল ফটো

“যুদ্ধাপরাধীদের মতোই খালেদা জিয়া রক্ষা পাবেনা”

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, বাংলাদেশের জনগণ যুদ্ধাপরাধীদের মতোই খালেদা জিয়াকে রেহাই দেবে না। কারণ তারা একই ধরনের অপরাধের জন্য দায়ী। তিনি বলেন, বাংলাদেশের জনগণ সদ্য সমাপ্ত পৌরসভা নির্বাচনে খালেদা জিয়াকে প্রত্যাখ্যান করেছে এবং তারা নিশ্চয়ই তার ধ্বংস, হত্যা ও অগ্নিসংযোগের রাজনীতির জন্য সমুচিত জবাব দিবে।
প্রধানমন্ত্রী আজ এখানে টুঙ্গিপাড়া উপজেলায় বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ল্যাপটপ ও মাল্টিমিডিয়া বিতরণ অনুষ্ঠানে বক্তৃতাকালে এ কথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ১৯৭১ সালে মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধ সংঘটনকারী যুদ্ধাপরাধীদের বাঁচানোর জন্য খালেদা জিয়া কোন চেষ্টাই বাদ রাখেননি। খালেদা জিয়া ২০১৫ সালে বাংলাদেশের জনগণের বিরুদ্ধে একই ধরণের অপরাধ করেছেন। শেখ হাসিনা এ প্রসঙ্গে তাঁর সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করার লক্ষ্যে বিএনপি’র ধ্বংসাত্মক আন্দোলনের উল্লেখ করেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, সাম্প্রতিক পৌরসভা নির্বাচনের আগে বিএনপি তাদের ভুল রাজনীতির বিষয়টি উপলব্ধি করতে পেরেছে। তাই, তারা নির্বাাচনে অংশ নিয়েছিল। কিন্তু দেশের জনগণ বিএনপি’র পক্ষে ভোট দেয়নি। কারণ, তারা অগ্নিসংযোগ ও ধ্বংসাত্মক রাজনীতিতে জড়িত ছিল। তিনি বলেন, জনগণ ভবিষ্যতেও তা ভুলে যাবে না।
স্বৈরতান্ত্রিক শাসকদের অফশাসনের উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, তারা ১৯৭৫ সালে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে হত্যা করার পর দেশের গণতন্ত্র ও অর্থনৈতিক ব্যবস্থা ধ্বংস করেছিল।
তিনি বলেন, দীর্ঘ সংগ্রামের পর বাংলাদেশে গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠিত হয়েছে এবং গণতন্ত্রের ধারাবাহিকতা দেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতি অর্জনে সহায়ক হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এলে বাংলাদেশের জনগণ কখনও বঞ্চিত হয়নি। তিনি বলেন, দেশের জনগণ আওয়ামী লীগ সরকারের সুশাসনের সুফল পাচ্ছে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ হচ্ছে বিপুল সম্ভাবনার দেশ। এই সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে হবে।
জাতির জনকের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বঙ্গবন্ধু স্বাধীন বাংলাদেশকে গড়ে তোলার লক্ষ্যে বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করেছিলেন বলে তাঁকে হত্যা করা হয়েছিল। তিনি বলেন, বর্তমান সরকার বঙ্গবন্ধুর অসম্পূর্ণ কাজ সম্পন্ন করার লক্ষ্যে নিরলসভাবে প্রয়াস চালিয়ে যাচ্ছে।
পাঁচটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রধান অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর কাছ থেকে ল্যাপটপ ও মাল্টিমিডিয়া গ্রহণ করেন। উপজেলা প্রশাসনের মাধ্যমে অন্যান্য প্রতিষ্ঠানকে এসব সরঞ্জাম প্রদান করা হবে। সমাধিসৌধের পাঠাগার ভবনে আয়োজিত অনুষ্ঠানে টুঙ্গিপাড়ার নবনির্বাচিত মেয়র গাজী গোলাম মোস্তফা বক্তৃতা করেন।
এর আগে, প্রধানমন্ত্রী জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্মৃতিসৌধে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আজ সকালে তাঁর বোন শেখ রেহানাকে নিয়ে এখানে আসেন। প্রধানমন্ত্রী নবনির্মিত রাসেল শিশু পার্ক উদ্বোধন এবং টুঙ্গিপাড়ার কয়েকটি স্কুলের মধ্যে ল্যাপটপ ও মাল্টিমিডিয়া বিতরণ করেন।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও শেখ রেহানা মাজারে বঙ্গবন্ধু, বঙ্গমাতা বেগম ফজিলাতুন্নেছা মুজিব এবং ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট শাহাদাৎ বরণকারীদের আত্মার মাগফেরাত কামনা করে মোনাজাত করেন। দেশের অব্যাহত শান্তি, অগ্রগতি ও সমৃদ্ধি কামনা করেও মোনাজাত করা হয়।
পরে, প্রধানমন্ত্রী তাঁর বাসভবনে অবস্থান করে স্মৃতিসৌধের মসজিদে আয়োজিত মিলাদ মাহফিলে শরিক হোন।
স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতৃবৃন্দ, নবনির্বাচিত মেয়র ও কাউন্সিলরগণ এবং পরিবারের সদস্যবৃন্দ প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে অনুষ্ঠানে যোগ দেন।