Sheersha Media

ব্রেকিং নিউজ

রাত ২:২৬ ঢাকা, বুধবার  ২১শে নভেম্বর ২০১৮ ইং

“যুগ্ম-সচিব এনামুলকে দুর্নীতির অভিযোগে বিলম্বে হলেও ডিএনসিসি থেকে সরানো হল”

২০১২ সালের ডিসেম্বরে প্রশাসক শাসিত ডিএনসিসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা হিসেবে যোগদান করেন বিএম এনামুল হক। তার বাড়ি গোপালগঞ্জ। অধস্তন কর্মকর্তারা তার ভয়ে কোনো কথা বলতেন না। তবে বিভিন্ন পত্রপত্রিকায় তার বিরুদ্ধে অনিয়ম-দুর্নীতির বিস্তর রিপোর্ট প্রকাশিত হওয়ায় দুর্নীতি দমন কমিশন তার সহায়-সম্পত্তির অনুসন্ধান শুরু করেছে। এদিকে ব্যাপক দুর্নীতির অভিযোগে অবশেষে বিএম এনামুল হককে (যুগ্ম-সচিব) ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের (ডিএনসিসি) প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তার পদ থেকে সরিয়ে দেয়া হয়েছে। ১ লা নভেম্বের জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের এক প্রজ্ঞাপনে ক্ষমতার অপব্যবহারকারী ও দুর্নীতিপরায়ন হিসেবে পরিচিত হয়ে ওঠা বিএম এনামুল হক তিন বছরের মাথায় শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ে বদলি করেছে । তিনি ডিএনসিসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তার পদে বহাল থাকতে প্রাণান্তকর চেষ্টা করেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত ব্যর্থ হয়েছেন।

ডিএনসিসির সূত্রমতে, এই সংস্থায় দায়িত্ব পালনকালীন বিএম এনামুল হক তেল চুরি, কমিউনিটি সেন্টারের ভাড়া লুটপাট, টেন্ডার জালিয়াতি, কল্যাণ ফান্ডের টাকা তসরুপ, ক্রয় কেলেংকারিতে এক রকম শীর্ষে অবস্থান করেন। এমনকি ডিএনসিসির জমি পানির দামে বিভিন্ন বেসরকারি প্রতিষ্ঠানকে দিয়ে কয়েক হাজার কোটি টাকার আর্থিক ক্ষতি সাধন করেন। আর এর বিনিময়ে তিনি বিপুল অংকের সুবিধা নিয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। মেয়র নির্বাচনের পর তিনি বেকায়দায় পড়ে যান।
তথ্যানুসন্ধানে জানা যায়, ডিএনসিসি ২০১২-২০১৪ অর্থবছরে উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে সীমাহীন অনিয়ম ও দুর্নীতি হয়েছে। ব্যয়ের ক্ষেত্রে যথাযথ নিয়ম মানা হয়নি। বিল-ভাউচারে রয়েছে গরমিল। বিধি-বিধান এবং বাস্তবতাবিবর্জিত চুক্তি বাস্তবায়ন করে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানকে সংস্থার একাধিক সম্পত্তি বেহাত করা হয়েছে। সম্প্রতি সরকারের অডিট বিভাগের এক প্রতিবেদনে এমন তথ্য মিলেছে। এতে আর্থিক ক্ষতি হিসেবে যেসব আপত্তি দেয়া হয়েছে তার পরিমাণ প্রায় ২ হাজার কোটি টাকা। অডিট বিভাগ জড়িতদের কাছ থেকে ক্ষতিপূরণ আদায় এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের সুপারিশ করে। আর এসব আপত্তি যতদিন নিষ্পত্তি না হবে ততদিন তা অনিয়ম-দুর্নীতির বোঝা হিসেবেই চিহ্নিত হয়ে থাকবে। এসব অভিযোগ মাথায় নিয়ে বদলি হতে হল বিএম এনামুল হককে।
দুদক সূত্র জানায়, দুর্নীতি দমন কমিশন বিএম এনামুল হকের রাজধানীর বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার বি-ব্লকের ১/এ রোডের ২৮৪নং প্লটে নির্মাণাধীন ৯ তলাবিশিষ্ট বিলাসবহুল ভবনে ২২০০ বর্গ ফুটের ফ্ল্যাট ক্রয়ের টাকার উৎসের অনুসন্ধান করছেন। ২০১২ সালের দরে এই ফ্ল্যাটে প্রতি বর্গ ফুট বিক্রি হয় সাড়ে ৮ হাজার টাকা। সেই হিসাবে ফ্ল্যাটটির দাম পড়ে ১ কোটি ৮৭ লাখ টাকা। বিএম এনামুল হকের বিরুদ্ধে ওঠা ঘুষ বাণিজ্য, নিয়োগ বাণিজ্য, সরকারি গাড়ি অবৈধভাবে ব্যবহারসহ কোটি কোটি টাকা আত্মসাতের মাধ্যমে বিপুল অর্থ-সম্পদ অর্জনের অভিযোগ রয়েছে। সূত্রমতে, ডিএনসিসিতে যোগ দেয়ার পর থেকে বিপুল পরিমাণ সম্পত্তির মালিক বনে যান বিএম এনামুল হক। যার সঙ্গে তার বাস্তব আয়ের কোনো সঙ্গতি নেই। এর আগেও তিনি যেসব স্থানে কর্মরত ছিলেন সেখানেও দুর্নীতির অভিযোগ থেকে তিনি মুক্ত থাকতে পারেননি। আর উত্তর সিটি কর্পোরেশনে যোগ দিয়েই এনামুল হক বিতর্কিত কর্মকর্তাদের নিয়ে গড়ে তোলেন শক্তিশালী ঘুষ বাণিজ্য সিন্ডিকেট। এ সুবাদে রাতারাতি ব্যক্তিগত দামি গাড়ি ও অত্যাধুনিক ফ্ল্যাটের মালিক হয়ে যান। অভিযোগ রয়েছে, ছোট ভাই ও স্ত্রীকে তিনি পর্দার আড়াল থেকে নিয়োজিত করেন নিয়োগ আর টেন্ডার বাণিজ্য নিয়ন্ত্রণে। পরিচ্ছন্নতা কর্মী নিয়োগ থেকে প্রায় অর্ধ কোটি টাকা হাতিয়ে নেন এনামুল হকের পরিবার। বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় নিয়োজিত পরিবহনে বরাদ্দের নামে প্রতি বছর ৪ কোটি টাকার জ্বালানি তেল চুরির ঘটনা ঘটেছে। তেল চুরির টাকার ভাগ নিতে প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা পরিবহন বিভাগের ম্যানেজার হিসেবে নিয়োগ দেন কমকর্তা আবদুল বাছেতকে। যিনি জাতীয় বেতন স্কেলের ১৬ গ্রেডের কর্মচারী। এছাড়া এনামুল হক অস্থায়ী ভিত্তিতে (কাজ করলে মজুরি, না করলে নেই) দৈনিক ২৬৫ টাকা মজুরি হিসেবে ৯৭ জন পরিচ্ছন্নতা কর্মী নিয়োগ দেন। এতে অন্তত ১৫ থেকে ২০ জন আবেদনকারীকে নিজের কোটায় অন্তর্ভুক্ত করেন। এক্ষেত্রে একই পরিবারের তিনজনকে নিয়োগ দেয়ার জন্য জনপ্রতি ৪ লাখ টাকা করে নেয়া হয়।