Sheersha Media

ব্রেকিং নিউজ

সকাল ১১:১১ ঢাকা, শুক্রবার  ১৬ই নভেম্বর ২০১৮ ইং

যুগ্ম সচিবের পুত্রের বিরুদ্ধে ধর্ষণের পর গৃহকর্মী হত্যার অভিযোগে উত্তাল কাফরুল

রাজধানীর কাফরুলে গৃহকর্মী জনিয়া বেগম খুনের ঘটনায় যুগ্ম সচিব আহসান হাবিবের ছেলে রুম্মান (২৬) জড়িত বলে অভিযোগ উঠেছে।

নিহত জনিয়ার মা ফুলবানুর দাবি, রুম্মানই তার মেয়েকে ধর্ষণের পর ছাদ থেকে ফেলে হত্যা করেছে।

সোমবার এই দাবি জানিয়ে রুম্মানের গ্রেফতার চেয়ে ফুলবানু স্বজনদের নিয়ে দফায় দফায় বিক্ষোভ করেছেন। এতে এলাকাবাসীও স্বতস্ফূর্ত অংশগ্রহণ করেছে। ফলে আজ এ ঘটনায় উত্তাল ছিল কাফরুল।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, অভিযুক্ত রুম্মান ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিবিএ’র শিক্ষার্থী। তার বাবা আহসান হাবিব জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিলের (জামুকা) পরিচালক।

মিরপুর-১৩ নম্বরে ন্যাম গার্ডেনের তিন নম্বর ভবনের ৪০৩ বি ফ্ল্যাটে বাবা-মায়ের সঙ্গে থাকেন রুম্মান।

rape4

রুম্মানদের বাসায় কাজ করতেন সেনপাড়া নিবাসী গৃহকর্মীর ফুলবানু। তিনি অসুস্থ হওয়ায় ৪/৫ দিন ধরে ওই বাসায় কাজ করছিল দ্বিতীয় সন্তান জনিয়া। তার বয়স আনুঃ ১৩ ।

রোববার সকালে রুম্মানদের বাসায় কাজ করতে যাওয়ার পর বেলা ১০টার দিকে ১০তলা ভবনটির নিচ তলা থেকে জনিয়ার লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।

এ সময় জনিয়ার শরীরজুড়ে আঘাতের চিহ্ন ছিল। তার মুখ ওড়না দিয়ে পেঁচানো থাকলেও নাক ও মুখ দিয়ে রক্ত ঝরছিল। ডান হাত থেঁতলানো, স্তনের নিচে এবং দুই পায়ের হাঁটুতে জখমের কালো দাগ ছিল বলে সুরতহাল প্রতিবেদনে উল্লেখ করেছে কাফরুল থানা।

জনিয়ার মা ফুলবানু জানান, তার বাড়ি কিশোরগঞ্জের ইটনা উপজেলায়। পাঁচ মেয়ে ও এক ছেলেকে নিয়ে সেনপাড়ায় থাকেন। তার স্বামী ওসমান গণি রিকশা চালান আর তিনি বাসা বাড়িতে গৃহকর্মীর কাজ করেন। অসুস্থতার জন্য ফেব্রুয়ারি মাস থেকে তিনি আর কাজ করতে পারছিলেন না। এ কারণে তার পরিবর্তে মেয়ে জনিয়াকে রুম্মানদের বাসায় কাজ করতে পাঠিয়েছিলেন তিনি। ৪/৫ দিন ধরে সে ওই বাসায় কাজ করছিল। রোববার সকাল ১০টার দিকে পুলিশ তাকে জরুরি ভিত্তিতে রুম্মানদের বাড়িতে ডেকে নেয়। সেখানে গিয়ে দেখেন নিচতলায় রক্তাক্ত অবস্থায় জনিয়ার লাশ পড়ে আছে। তার শরীরের বিভিন্ন জায়গায় আঘাতের চিহ্ন ছিল।

এ সময় তিনি পুলিশের কাছে অভিযোগ করেন, গৃহকর্তার ছেলে রুম্মন তার মেয়েকে ধর্ষণের পর ছাদ থেকে ফেলে হত্যা করেছে।

ওসমান গণির দাবি, মামলার অভিযোগে তিনি আহসান হাবিব, তার স্ত্রী ও ছেলে রুম্মানের বিরুদ্ধে জনিয়াকে হত্যার অভিযোগ করেছেন। কিন্তু পুলিশ তাকে না জানিয়ে অপমৃত্যুর মামলার করেছে।

এ মামলাটি হত্যা মামলার পরিবর্তে অপমৃত্যুর মামলা হওয়ায় সোমবার জনিয়ার লাশ নিয়ে বিক্ষোভ করেন তার বিক্ষুব্ধ স্বজনরা।

rape2

সোমবার সকাল ১০টা থেকে ১১টা পর্যন্ত তারা কাজীপাড়া বাসস্ট্যান্ডে সড়ক অবরোধ ও বিক্ষোভ করেন। সেখান থেকে পুলিশ তাদের সরিয়ে দিলে তারা কাফরুল থানার সামনে গিয়ে অবস্থান নেন। পরে তারা ন্যাম গার্ডেনের সামনে অবস্থান নেন।

জনিয়াকে হত্যার ঘটনায় সন্দেহভাজন হিসেবে ন্যাম গার্ডেনের তৃতীয় ভবনের সুপারভাইজার এমদাদ ও ও তিন জন লিফটম্যানকে আটক করা হয়েছে।

পুলিশ বলছে, সোমবার জনিয়ার পরিবারের বক্তব্য মামলায় সম্পূরক অভিযোগ হিসেবে সংযুক্ত করা হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদনে ধর্ষণ ও হত্যার প্রমাণ পাওয়া গেলে হত্যা মামলা দায়ের করা হবে।