যুক্তরাষ্ট্রে পত্রিকা অফিসে হামলা

যুক্তরাষ্ট্রে পত্রিকা অফিসে হামলা, গুলিতে নিহত ৫

যুক্তরাষ্ট্রের ম্যারিল্যান্ডের স্থানীয় একটি দৈনিক পত্রিকা ‘ক্যাপিটাল গ্যাজেটের’ কার্যালয়ে বৃহস্পতিবার এক বন্দুকধারীর গুলিতে পাঁচজন নিহত হয়েছেন। এতে আহত হয়েছেন আরও বেশ কয়েকজন।

অ্যান্যাপালিস শহরের ক্যাপিটাল গেজেট ভবনের এক কর্মী বলেন, সংবাদকক্ষের কাচের দরজার বাইরে থেকে গুলি ছোড়া হয়েছে।

পুলিশ জানিয়েছে, সংবাদপত্রটি আগে থেকে টার্গেট করে হামলা চালানো হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে ওই পত্রিকাটিকে এর আগে ভয়ভীতি দেখানো ও হুমকি দেয়া হয়েছিল।-খবর বিবিসি অনলাইনের।

নিহতরা হলেন- সহকারী বার্তাসম্পাদক রব হিয়াসেন, সম্পাদকীয় পাতার সম্পাদক গেরাল্ড ফিশচম্যান, বিশেষ প্রকাশনা সম্পাদক ওয়েন্ডি উইনটারস, বিক্রয় সহকারী রেবেকা স্মিথ ও নিজস্ব লেখক জন ম্যাকনামারা।

সহকর্মী চেস কুক টুইটারে লিখেছেন- এটি আমার জন্য বোঝানো অসম্ভব। তাদের সবাই চমৎকার মানুষ ছিলেন। আমার হৃদয় ভেঙে টুকরা টুকরা হয়ে গেছে।

বয়স ত্রিশের কোটার এক শ্বেতাঙ্গ যুবককে হামলার দায়ে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। কিন্তু তিনি পুলিশ কর্মকর্তাদের সহযোগিতা করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন।

সিবিএস নিউজকে পুলিশের সূত্র জানিয়েছে, তাকে যেন শনাক্ত করতে না পারে, সে জন্য তিনি তার আঙুলের ডগা ক্ষতিগ্রস্ত করেছেন। তার পেছনে ঝোলানো ব্যাগে একটি ভুয়া গ্রেনেড ও ধোঁয়া বোমা পাওয়া গেছে।

পুলিশের বরাতে সিবিএস নিউজ জানায়, দীর্ঘ নলের একটি বন্দুক ব্যবহারের কথা জানিয়ে আর কোনো তথ্য দিতে তিনি অস্বীকার করেছেন।

১৮৮৪ সালে চালু হওয়া দৈনিক দা ক্যাপিটাল দেশটির সবচেয়ে পুরনো পত্রিকাগুলোর মধ্যে একটি। এটির অনলাইন ভার্সনও রয়েছে।

ক্যাপিটাল গেজেট কমিউনিকেশনসের প্রকাশনায় এটি ছাড়াও আরও কয়েকটি স্থানীয় দৈনিক ছাপা হচ্ছে। এটির মালিক বাল্টিমোর সান মিডিয়া গ্রুপ।

অ্যানি আরুনডেল কাউন্টি পুলিশের উপপ্রধান উইলিয়াম ক্রাম্ফ বলেন, ভবনের আঙিনায় বিস্ফোরকের মতো একটি বস্তু পাওয়া গেলে সেটি ধ্বংস করে দেয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, ১৭০ জনের বেশি লোককে ভবন থেকে নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নেয়া হয়েছে। ভবনটিতে আরও বিভিন্ন ধরনের ব্যবসায়িক অফিস রয়েছে।

প্রতিবেদক ফিল ড্যাভিস টুইটারে লিখেছেন- যখন বার্তাকক্ষে আপনি কাজ করছেন, তখন শুনতে পেয়েছেন, বন্দুকধারী তার বন্দুকে ফের গুলি ভরছেন, এর চেয়ে ভয়ঙ্কর কিছু হতে পারে না।

তার কাছে পত্রিকা অফিসটিকে তখন যুদ্ধে আক্রান্ত অঞ্চল মনে হয়েছে বলে জানিয়েছেন তিনি।

বাল্টিমোর সান পত্রিকাকে তিনি বলেন, বন্দুকধারী যখন গুলি ছোড়া বন্ধ করেছে, লোকজন তখনও ডেস্কের আড়ালে লুকিয়ে ছিল। আমি জানি না, তিনি কেন গুলি ছোড়া বন্ধ করেছেন।

পত্রিকাটির অন্য এক প্রতিবেদক ড্যানিল ওহল বলেন, বার্তাকক্ষটি খুবই ছোট। সেখানে প্রায় ২০ কর্মী ছিলেন। কয়েকজন বিজ্ঞাপন কর্মকর্তাও ছিলেন। তিনি বলেন, আমরা খুবই ঘনিষ্ঠ ছিলাম। যেন আমরা একটি পরিবার। আমি বিপর্যস্ত।

পত্রিকাটির সম্পাদক জ্যামি ডিবাট বলেন, এই ঘটনার পর তার হৃদয় ভেঙে গেছে।

নিহত রব হিয়াসেন দৈনিকটিতে নিয়মিত কলামও লিখতেন। ২০১০ সালে দা ক্যাপিটালে যোগ দেয়ার আগে তিনি প্রায় ১৭ বছর বাল্টিমোর সানের জন্য ফিচার লিখেছেন। তার ভাই কার্ল বলেন, রব ছিলেন খুবই সুপরিচিত একজন লেখক ও সাংবাদিক।

সর্বশেষ সংশোধিত: , মাধ্যম: শীর্ষ মিডিয়া