ব্রেকিং নিউজ

সকাল ৮:৫১ ঢাকা, শুক্রবার  ২০শে জুলাই ২০১৮ ইং

যুক্তরাষ্ট্রে নতুন ভাইরাস ডি-৬৮, আতঙ্কে প্রবাসী বাংলাদেশীরা

শীর্ষ মিডিয়া ২১ অক্টোবর ঃ   আফ্রিকান প্রাণঘাতী ইবোলা ভাইরাস নিয়ে যখন যুক্তরাষ্ট্রসহ সারাবিশ্বে চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে তখন ‘মড়ার উপর খাঁড়ার ঘা’র মতো মার্কিন মুলুকে হানা দিয়েছে ‘ডি-৬৮’ নামে এক ভাইরাস।আপাতত এই ভাইরাসকে ফ্লু হিসেবে চিহ্নিত করা হলেও এর আক্রমণ প্রতিহত করতে নড়েচড়ে বসেছে ওবামা প্রশাসন।

ডি-৬৮’ ভাইরাস শিশুদের বেশি আক্রমণ করতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা। বিশেষ করে স্কুলগামী শিশুরা এই ভাইরাসে বেশি আক্রান্ত হতে পারে বলে সতর্কতা জারি করা হয়েছে।বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নেওয়া হয়েছে ব্যাপক সতর্কতা। শিশু-কিশোরদের মধ্যে এই ভাইরাসের সংক্রমণ রোধে অভিভাবকদের আরও সচেতন হওয়ার তাগিদ দেওয়া হয়েছে । পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন থাকার পাশাপাশি খাবারের আগে ও পরে ভালো করে হাত ধুয়ে নেওয়ার পরামর্শও দেওয়া হয়েছে।

গত ২৫ সেপ্টেম্বর নিউ জার্সির হ্যামিলটন টাউন সিটে এলি নামের চার বছরের একটি শিশু এই ভাইরাসে মারা গেছে। এই ভাইরাসের প্রথম শিকার এলি।নিউ জার্সির হ্যামিলটন শহরে প্রায় অর্ধ শতাধিক বাংলাদেশী পরিবার বাস করে। এই ঘটনার পর থেকে আতঙ্ক বিরাজ করছে সেখানে বসবাসরত বাংলাদেশীদের মধ্যে।

‘ডি-৬৮’ ভাইরাস আক্রান্ত হয়ে মৃত এলি এ ব্যাপারে উদ্বেগের কথা তুলে ধরেন হ্যামিলটন টাউন সিটে বসবসাকারী বাংলাদেশী আফরোজা বেগম।তিনি বলেন, ‘আসলে আমরা এতদিন ধরে শুনে আসছি ইবোলা ভাইরাসের কথা। কিন্তু এখন দেখছি অন্য আরেকটি ভাইরাস চেপে বসেছে। যার কথা গণমাধ্যমে তেমন প্রচার হচ্ছে না। আমাদের এলাকারই একটি শিশু এই ভাইরাসে আক্রান্ত মারা গেছে । তাই আমরা সন্তানদের স্বাস্থ্যের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কিত হয়ে পড়েছি। আসলে এই রোগের প্রধান কারণ এখনও জানা যায়নি। শুনেছি মধ্য আমেরিকার অনেক দেশে এই রোগ ছড়িয়ে পড়েছে।’

এদিকে, সবাই যখন ইবোলা ভাইরাস মোকাবেলার প্রস্তুতি নিচ্ছে, ঠিক তখনই নতুন এই ফ্লু জনিত ভাইরাস নিয়ে আবারও বেকায়দায় পড়েছে যুক্তরাষ্ট্রের স্বাস্থ্য বিভাগ।

‘ডি-৬৮’ ভাইরাসের ওপর একটি বিশেষ প্রতিবেদন প্রচার করেছে ফক্স নিউজ। যেখানে তুলে ধরা হয়েছে ‘ডি-৬৮’ ভাইরাস এখন যুক্তরাষ্ট্রের ৫১টি অঙ্গরাজ্যের মধ্যে প্রায় ৪৩টিতে দ্রুত ছড়িয়ে পড়েছে। এর মধ্যে রয়েছে মিসৌরি, কানসাস, ইলিনয়, ক্যানটাকি, আইওয়া, কলোরাডো, ওহাইয়ো, ওকলোহামা, নর্থ ক্যারোলিনা ও জর্জিয়া।ফক্স নিউজ জানায়, ‘ডি-৬৮’ ভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা ৫শ’ ছাড়িয়ে গেছে।এই ভাইরাস মোকাবেলায় প্রাথমিক করণীয় নিয়ে দ্য রিপোর্টকে মার্কিন প্রবাসী ডা. নাহিদ খান বেশ কিছু তথ্য দেন।তিনি বলেন, ‘ডি-৬৮’ ফ্লু ভাইরাস নিয়ে আবার নতুন করে ভাবতে হবে যুক্তরাষ্ট্রকে। এই ভাইরাস ইবোলার মত প্রাণঘাতী কি না সেটা এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি। গবেষণার পর চিকিৎসা বিজ্ঞানীরা তা ব্যাখ্যা করবেন।তিনি আরও বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন রাজ্যে অনেক বাংলাদেশীর বসবাস। নিউ জার্সির যে শিশুটি মারা গেছে সেখানেও বেশ কয়েকটি বাংলাদেশী পরিবার বাস করছে। তাই আমি বলব, বাবা-মায়েদের সন্তানের দিকে একটু বেশি নজর দিতে হবে। খেলাধুলা শেষে ও খাবার আগে কমপক্ষে ২০-৩০ সেকেন্ড অ্যান্টিসেপ্টিক হ্যান্ড-ওয়াশ দিয়ে হাত ধোয়া ছাড়াও গায়ের জামা-কাপড় পরিষ্কার রাখতে হবে। মূল কথা একটু বাড়তি সতর্কতাই এসব ভাইরাস মোকাবেলার অন্যতম উপায়।’