শীর্ষ মিডিয়া

ব্রেকিং নিউজ

দুপুর ১২:০৫ ঢাকা, বৃহস্পতিবার  ১৩ই ডিসেম্বর ২০১৮ ইং

ফাইল ফটো

“যুক্তরাষ্ট্রের তুলনায় বাংলাদেশে হত্যা ও ধর্ষণের ঘটনা খুবই কম”

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, বাংলাদেশে যে হত্যা ও ধর্ষণের ঘটনা তা যুক্তরাষ্ট্রের তুলনায় অতি নগণ্য। তিনি বলেন, গত সপ্তাহে ঢাকা ও রংপুরে দুই বিদেশী নাগরিক হত্যার সঙ্গে মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক সংগঠন আইএস’র কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই। তবে এ হত্যাকান্ড পূর্বপরিকল্পিত এবং এতে স্বাধীনতা বিরোধী শক্তি ও যুদ্ধাপরাধীদের কোনো ধরনের সংশ্লিষ্টতা নিশ্চয়ই রয়েছে।
তিনি বলেন,আমি নিশ্চিত বলতে পারি যে, আইএস অথবা এ ধরনের কোনো সংগঠন অথবা তাদের কার্যক্রম বাংলাদেশে এখনো গজিয়ে ওঠেনি। আমাদের গোয়েন্দারা সর্বদা সতর্ক রয়েছেন এবং কিছু তরুণের উগ্রপন্থা প্রদর্শন আইএস-এ যোগ দেয়ার আগ্রহ সত্ত্বেও বাংলাদেশ জঙ্গীবাদ ও সন্ত্রাস প্রশ্রয় দেবে না।
প্রধানমন্ত্রী জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৭০তম অধিবেশনে অংশগ্রহন এবং পাশাপাশি অন্যান্য অনুষ্ঠানে যোগদানসহ যুক্তরাষ্ট্র সফরের ফলাফল তুলে ধরতে আজ গণভবনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্যকালে এসব কথা বলেন।
শেখ হাসিনা বলেন, বাংলাভাই ও অন্যান্য ব্রান্ডের নামে দেশের জঙ্গীবাদ ও সন্ত্রাসবাদের বিস্তার ঘটে। তবে সরকার তাদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নিয়েছে এবং তাদের নির্মূল করেছে।
তবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ওই ঘটনার নেপথ্যে নিশ্চয়ই পূর্বপরিকল্পনা রয়েছে। স্বাধীনতা বিরোধীদের বিচারের সম্মুখীন করা হয়েছে, স্বাধীনতা বিরোধী ও যুদ্ধাপরাধীরা অলস বসে নেই।
তিনি বলেন, এটা ভুলে যাওয়া ঠিক হবে না যে, তারা ২১ বছর দেশ শাসন করেছে এবং তারা বিচারের সম্মুখীন হওয়ায় তারা কিছু প্রতিক্রিয়া প্রদর্শন করবেই।
শেখ হাসিনা বলেন, দুই বিদেশী হত্যার ধরণ দেখে এটা নিশ্চিত যে, দুই হত্যাকাণ্ডের ধরণ একই রকম। তাদের উভয়কে একইভাবে হত্যা করা হয়েছে। গুলশানে ইতালিয়ান নাগরিক হত্যায় কোনো গুলি লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়নি। চারটি বুলেটই তার শরীর ভেদ করেছে। এর অর্থ হচ্ছে এ হত্যাকান্ড ছিলো পূর্বপরিকল্পিত এবং দক্ষ হাতে এ ঘটনা ঘটানো হয়েছে।
এ প্রসঙ্গে তিনি ঘটনার আগে ও পরে এক বিএনপি নেতার বক্তব্য উল্লেখ করেন। আপনারা যদি দুটি বক্তব্য তুলনা করেন তাহলে স্পষ্ট চিত্র পাবেন। তিনি জোর দিয়ে বলেন, হত্যাকারীরা অবশ্যই গ্রেফতার হবেন এবং শাস্তিও পাবে যেমনটি হয়েছে ২০১২ সালে সৌদি কূটনীতিক হত্যা মামলার ক্ষেত্রে।
অস্ট্রেলিয়ার ক্রিকেট টিমের বাংলাদেশ সফর বাতিল করার সমালোচনা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন,বিশ্বের সর্বত্রই এ ধরনের বিচ্ছিন্ন হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটছে- এতে অনেক বিদেশী নাগরিকও প্রাণ হারাচ্ছেন।
সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্র ও অস্ট্রেলিয়ায় গুলি করে হত্যার ঘটনার পরে কোনো দেশই ‘রেড এলার্ট’ ঘোষণা করেনি। এমনকি যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট তাঁর দেশের সাম্প্রতিক হত্যাকাণ্ডের বিস্তারের ঘটনায় ভীত।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ একটি ছোট দেশ, এর জনসংখ্যা ১৬০ মিলিয়ন। খাদ্য নিরাপত্তা থেকে আইন-শৃংখলা অনেক সমস্যা মোকাবেলা করতে হচ্ছে। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্র আমাদের চেয়ে বহুগুণ বড় একটি দেশ এবং তাদের মোট জনসংখ্যা আমাদের তুলনায় মাত্র দ্বিগুণ। বাংলাদেশে যে হত্যা ও ধর্ষণের ঘটনা তা যুক্তরাষ্ট্রের তুলনায় অতি নগণ্য।
শেখ হাসিনা বলেন,প্রতিটি হত্যাকা- অথবা এ ধরনের ঘটনায় সরকার ব্যবস্থা গ্রহণ করছে। কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা আমাদের সকল সাফল্য ম্লান করতে পারে না উল্লেখ করে তিনি বলেন, বিদেশে বাংলাদেশী নাগরিকদের এবং বাংলাদেশে বিদেশী নাগরিকদের হত্যাকাণ্ড তুলে ধরে মিডিয়া আরো দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে পারে।বাসস

http://www.bssnews.net/bangla/newsDetails.php?cat=8&id=310263&date=2015-10-04