ব্রেকিং নিউজ

বিকাল ৫:৫৮ ঢাকা, রবিবার  ২৩শে সেপ্টেম্বর ২০১৮ ইং

মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর
মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, ফাইল ফটো

‘যা শেখ হাসিনা ঠিক করে রেখেছেন তাই হবে’

নির্বাচন কমিশন গঠন প্রসঙ্গে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, ‘জনগণ এটা বলতে শুরু করেছে, যা ঠিক করে রেখেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তাই হবে।

তিনি বলেন, সরকার চালাচ্ছে এখন পোশাকদারী লোকেরা, তারা আজকে সব কিছু নিয়ন্ত্রণ করছে, যার ফলে রাজনৈতিক কোনো চিন্তা-ভাবনা আসছে না।

শনিবার দুপুরে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি মিলনায়তনে এক সমাবেশে অংশ নিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।

অবাধ, সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য দল নিরপেক্ষ নির্বাচন কমিশন ও সহায়ক সরকারের দাবিতে এ সমাবেশের আয়োজন করে ঢাকা মহানগর জাগপা।

সরকারের সমালোচনা করে মির্জা ফখরুল বলেন, এই আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে রাজনৈতিক ও সাংবাদিকদের যেভাবে হয়রানি, অপমান, নির্যাতন করা হয়েছে, তা আর কোনো সরকারের আমলে হয়নি।

খালেদা জিয়ার মামলা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘গত পরশু খালেদা জিয়ার মামলার হাজিরা ছিল আলীয়া মাদ্রাসার মাঠে বিশেষ আদালতে। আইনশৃংখলা বাহিনীর সদস্যদের উপস্থিতি দেখে মনে হয়, যেন যুদ্ধক্ষেত্র।  র‌্যাব, পুলিশ, আর্ম পুলিশ ব্যাটালিয়ান, মোটরসাইকেল, বন্দুক, জলকান, প্রিজন ভ্যান এমন ভাবে রাখা হয়, যেন পৃথিবীর সবচেয়ে বড় টেরোরিস্টকে (সন্ত্রাসী) নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। এটা কোনো ধরনের রাজনীতি।’

বিএনপির এই মহাসচিব বলেন, ‘আওয়ামী লীগ রাজনৈতিকভাবে এতটাই দেউলিয়া, রাজনীতিকে রাজনৈতিকভাবে না পেরে, প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করতে  অন্যায় ও মিথ্যা মামলাকে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করছে। তারা গ্রাম্য মোড়লের মত আচরণ করছে।’

নির্বাচন কমিশনের জন্য সার্চ কমিটি গঠনে নিরপেক্ষতা বজায় রাখা হয়নি- এমন অভিযোগ করে তিনি বলেন, ‘বিএনপি চেয়ারপারসন দেশের স্বার্থে, সংঘাত এড়িয়ে নিরপেক্ষ নির্বাচন কমিশন গঠনে ১৩ দফা প্রস্তাব দিয়েছিলেন, যার পরিপ্রেক্ষিতে তিনি (রাষ্ট্রপতি) সাড়া দিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোকে আলোচনার জন্য ডেকেছিলেন।’

মির্জা ফখরুল বলেন, ‘কিন্তু অন্যান্য নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলগুলোকে ডাকা উচিৎ ছিল এবং তাদের না ডেকে আপনি ( রাষ্ট্রপতি) গণতন্ত্রের যে বিষয়কে অবজ্ঞা করেছেন। রাষ্ট্রপতি হিসেবে আপনার কাছে এটা আমরাই কোনো দিন আশা করিনি।  কারণ আপনি শপথ নিয়েছেন, সম্পূর্ণভাবে কোনো রাগ-অনুরাগের বশবর্তী হয়ে কোনো কারজ করবেন না, আপনি নিরপেক্ষ হয়ে কাজ করবেন। আপনি এখন কোনো রাজনৈকি দলের নেতা নন। সমগ্র বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি। আমরা আশা করব পরবর্তীতে আপনি এ বিষয়টিকে বিবেচনায় করবেন এবং নিবন্ধিত সকল রাজনৈতিক দলকে সময় থাকলে আহ্বান করবেন।’

তিনি বলেন, ‘জনগণ এটা বলতে শুরু করেছে, যা ঠিক করে রেখেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তাই হবে। আমরাও সেটাই দেখতে চাই। জনগণের আশা-আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন ঘটাতে পারছেন কি না? যদি না পারেন ইতিহাসের এক কলংকময় অধ্যায়ে তাদের নাম লিখিত হবে। আর যদি পারেন ইতিহাসের স্বর্ণ খচিত জায়গার তাদের নাম লেখা থাকবে।’

সার্চ কমিটি নিয়ে আমরা সন্তুষ্ট হতে পারিনি এমনটা উল্লেখ করে বিএনপির মহাসচিব বলেন, ‘সার্চ কমিটিতে সরকারের সঙ্গে সরাসরি সম্পর্ক, সরকারি সুবিধাপ্রাপ্ত, সরকারি কাজে নিয়োজিত এমন লোকও রয়েছেন, যারা নিরপেক্ষ সিদ্ধান্ত নিতে পারেন না। তারপরও আমরা মেনে নিয়েছি। নাম চাওয়া হয়েছিল, সার্চ কমিটির কাছে নাম দিয়েছি একটি মাত্র কারণে। আমরা গণতন্ত্রকে সম্পূর্ণভাবে কোনো রকম সংঘাত, অস্থিতিশীল, অনিশ্চয়তা ছাড়া সুসংগত অবস্থায় দেখতে চাই।’

এ সময় রাজনৈতিক সংকট দূর করে  সুষ্ঠু অবস্থায় ফিরে আসার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানান মির্জা ফখরুল।

রাষ্ট্রপতির উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘আমরা আশা করব দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক অভিজ্ঞতার আজকে তিনি (রাষ্ট্রপতি) জাতিকে এই সংকট থেকে মুক্ত করতে পারবেন। একটি নির্বাচন কমিশন দেবেন, যে কমিশন অন্তত শক্তিশালী হয়ে দাঁড়াতে পারে।’

ঢাকা মহানগর জাগপার সভাপতি  আসাদুর রহমান খানের সভাপতিত্বে আরও বক্তব্য দেন, জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টি (জাগপা) সভাপতি শফিউল আলম প্রধান, সাধারণ সম্পাদক খন্দকার লুৎফর রহমান প্রমুখ।