ব্রেকিং নিউজ

বিকাল ৫:০৪ ঢাকা, সোমবার  ২৪শে সেপ্টেম্বর ২০১৮ ইং

যথাযোগ্য ধর্মীয় মর্যাদা ও ভাবগাম্ভীর্য পরিবেশে পবিত্র শবেবরাত উদযাপিত

যথাযোগ্য ধর্মীয় মর্যাদা ও ভাবগাম্ভীর্য পরিবেশে মুসলিম সম্প্রদায়ের সৌভাগ্যের রজনী পবিত্র শবেবরাত গতকাল মঙ্গলবার দিবাগত রাতে উদযাপিত হয়েছে।
রাজধানীসহ সারাদেশে এবং সেই সঙ্গে বিশ্বের ধর্মপ্রাণ মুসলমানেরা আল্লাহর রহমত ও নৈকট্য লাভের আশায় নামাজ, পবিত্র কোরআন তেলাওয়াত, জিকির, ওয়াজ, দোয়া ও মিলাদ মাহফিলসহ নফল ইবাদত-বন্দেগীর মধ্যদিয়ে মহিমান্বিত এ রাতটি অতিবাহিত করেছেন।
মুসলমানদের বিশ্বাস, মহিমান্বিত এই রাতে মহান আল্লাহতায়ালা মানুষের ভাগ্য অর্থাৎ তার নতুন বছরের ‘রিজিক’ নির্ধারণ করে থাকেন। তাই এ রজনীতে মুসল্লীরা নিজের ও পরিবারের সদস্যদের ভুল-ভ্রান্তি ও পাপ-তাপের জন্য গভীর অনুশোচনায় ভুগে মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামিনের কাছে আত্মসমর্পন করে ক্ষমা প্রার্থনা করেছেন এবং ভবিষ্যৎ জীবনে পাপ-পঙ্কিলতা পরিহার করে পরিশুদ্ধ জীবনযাপনের জন্য আল্লাহর রহমত কামনা করেছেন। তেমনি সৌভাগ্যের এ রাতে মুসল্লিরা আবার নিজ ও পরিবারের সুখ, শান্তি ও সমৃদ্ধি কামনায় ও আয়-উন্নতিতে বরকত চেয়ে সর্বশক্তিমান আল্লাহর রহমত ও সন্তুষ্টি কামনা করেছেন।
ধর্মপ্রাণ মুসল্লীরা মহিমান্বিত এ রজনীতে বিশ্বের মুসলিম উম্মাহর সুখ, শান্তি ও সমৃদ্ধি কামনা করেও বিশেষ মোনাজাত ও দোয়া খায়ের করেছেন।
পবিত্র শব-ই-বরাত উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি মো. আব্দুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পৃথক বাণী দিয়েছেন।
সৌভাগ্যের এ রজনী উপলক্ষে ধর্মপ্রাণ নারী-পুরুষগণ নফল রোজা পালন করেছেন। অনেকে আজ বুধবারও নফল রোজা পালন করছেন। মসজিদের পাশাপাশি বাসাবাড়িতেও রাতভর চলেছে নফল নামাজ আদায়, পবিত্র কোরআন তেলাওয়াত ও জিকিরসহ অন্যান্য এবাদত-বন্দেগী।
রাতভর এবাদত বন্দেগী ও জিকির-আজকার ছাড়াও ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা এই পবিত্র রাতে মৃত পিতা-মাতা, আত্মীয়-স্বজনসহ প্রিয়জনদের কবর জিয়ারত করেছেন এবং গরীব-দুঃখীর মাঝে সাধ্যমত দান-খয়রাত করেছেন। তাই এ রাতে কবরস্থানগুলোতে মুসল্লীদের উপচেপড়া ভির দেখা গেছে।
ইসলামিক ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে ধর্মীয় ভাবগম্ভীর পরিবেশের মধ্যদিয়ে মহিমান্বিত এ রজনী উদযাপনে জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররম মঙ্গলবার দিবাগত রাতে ধর্মীয় নানা অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। এসব অনুষ্ঠানমালার মধ্যে ছিল-ওয়াজ মাহফিল, কোরআন তেলাওয়াত, মিলাদ মাহফিল, জিকির, হামদ্, না’ত, নফল ও তাহাজ্জতের নামাজ এবং আখেরি মোনাজাত।
পবিত্র এ রাতে জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররকসহ দেশের সকল মসজিদে রাতভর ধর্মীয় এসব অনুষ্ঠানের মাধ্যমে মুসল্লীরা এবাদত বন্দেগী করেছেন।
চট্টগ্রাম বাসস প্রতিনিধি জানান, বন্দরনগরী চট্টগ্রামেও ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যের মধ্যদিয়ে সৌভাগের রজনী শবেবরাত পালন করা হয়। মসজিদে মসজিদে মুসল্লিদের এবাদত বন্দেগীর পাশাপাশি বাসাবাড়িতেও নামাজ, কোরআন তেলাওয়াত, দোয়া, মিলাদ মাহফিল, জিকির আজকারসহ নানা এবাদত বন্দেগিতে অনেক নারী-পুরুষ মশগুল ছিলেন।
বন্দরনগীর জামিয়াতুল ফালাহ মসজিদ, আন্দরকিল্লা শাহী জামে মসজিদ ও বায়তুস শারাফ মসজিদ পুরো রাত্রিই মুসল্লীর আনাগোনায় ও এবাদত-বন্দেগীতে জমজমাট ছিল।
ধর্মপ্রাণ অনেক মুসলমানই আল্লাহর সন্তুষ্টি ও নৈকট্য লাভের আশায় তাঁর পরহেজগার ও প্রিয় বান্দা পীর-আউলিয়াদের মাজার দিয়ারত করেছেন। এ কারণে হযরত শাহ আমানত শাহ (র.), হযরত গরীবুল্লাহ শাহ (র.) ও হযরত বায়াজিদ বোস্তামী (র.)’র মাজারে মুসল্লীদের উপচেপড়া ভিড় দেখা গেছে।
জয়পুরহাট বাসস সংবাদদাতা জানান, যথাযোগ্য মর্যাদা ও ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে সেখানেও মঙ্গলবার দিবাগত রাতে ধর্মপ্রাণ মুসলমানেরা সৌভাগ্যের এ রজনী পবিত্র শবেবরাত পালন করেছেন।
এ রাতে জেলার মুসলিম সম্প্রদায়ের লোকজন মহান আল্লাহ-তায়ালার রহমত ও নৈকট্য লাভের আশায় মসজিদে মসজিদে নামাজ, কোরআন তেলাওয়াত, দোয়া, মিলাদ মাহফিল, জিকির আজকারসহ নানা ইবাদত বন্দেগিতে মশগুল ছিলেন।
ইসলামিক ফাউন্ডেশন এ উপলক্ষে জয়পুরহাট কেন্দ্রিয় জামে মসজিদ, কালেক্টরেট জামে মসজিদ, পুলিশ লাইন জামে মসজিদ ও চিনিকল জামে মসজিদসহ বিভিন্ন মসজিদে বিশেষ দোয়া ও মিলাদ মাহফিলের আয়োজন করে।
ধর্মপ্রাণ মুসল্লিরা নিজেদের ভুল ভ্রান্তির ক্ষমা চেয়ে পরবর্তী পরিশুদ্ধ জীবনের আশায় আল্লাহর রহমত কামনা করেন। ধর্মীয় এ দিবসটি পালনে বিভিন্ন সামাজিক প্রতিষ্ঠানও মিলাদ মাহফিলের আয়োজন ও তবারক বিতরণ করে।
এভাবে দেশের অন্যান্য বিভাগীয় শহর ও জেলা শহরসহ সর্বত্রই বাসাবাড়ি ও মসজিদে মুসল্লীরা বিরামহীনভাবে এবাদত বন্দেগীর মধ্যদিয়ে ফজরের নামাজের পর আখেরী মোনাজাতের মাধ্যমে রাতটি অতিক্রম করেছে।
শবেবরাত উপলক্ষে গতকাল মুসলমানদের বাসাবাড়িতে সাধ্যানুযায়ী হালুয়া, পায়েস, রুটিসহ উপাদেয় খাবার রান্না করা হয়েছে। এসব খাবার আবার আত্মীয়স্বজন, পাড়া-প্রতিবেশীর বাড়িতে পাঠানো এবং গরিব-দুঃখীর মধ্যে বিতরণ করা হয়েছে। অনেকে এদিন মুক্ত হস্তে দান-খয়রাতও করেছেন।
ফারসি ‘শব’ শব্দের অর্থ রাত এবং ‘বরাত’ অর্থ সৌভাগ্য। এ দুটি শব্দ নিয়ে ‘শবেবরাত’, অর্থাৎ সৌভাগ্যের রজনী। আরবিতে একে বলে ‘লাইলাতুল বরাত’। হিজরি বর্ষপঞ্জির শাবান মাসের ১৪ তারিখ দিবাগত রাতে ধর্মীয় এ দিবসটি পালন করা হয়। মুসলমানদের কাছে এ দিনটি অত্যন্ত পবিত্র ও মহিমান্বিত। কারণ মহান আল্লাহ তায়ালা এ রাতে বান্দাদের জন্য তাঁর অশেষ রহমতের দরজা খুলে দেন।
শাবান মাসের পরেই আসে পবিত্র মাহে রমজান। শবেবরাত মুসলমানদের কাছে রমজান মাসের আগমনী বার্তাও বয়ে আনে।
বাংলাদেশ টেলিভিশন, বাংলাদেশ বেতারসহ বিভিন্ন বেসরকারি টিভি চ্যানেল ও রেডিও এ উপলক্ষে ধর্মীয় নানা অনুষ্ঠান সম্প্রচার করেছে। দিবসটির তাৎপর্য তুলে ধরে জাতীয় দৈনিকগুলোও বিশেষ নিবন্ধ প্রকাশ করেছে।
পবিত্র শবেবরাত উপলক্ষে আজ বুধবার সরকারি ছুটি পালিত হচ্ছে।