ব্রেকিং নিউজ

সন্ধ্যা ৬:২৫ ঢাকা, শুক্রবার  ২০শে জুলাই ২০১৮ ইং

ঠাকুরগাঁও জেলা আওয়ামী লীগের ত্রি-বার্ষিক সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে রাখছেন সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম

যতদিন কর্মীদের আস্থা, ততদিন নেতৃত্ব- সৈয়দ আশরাফ

শীর্ষ মিডিয়া ১৬ অক্টোবর ঃ  আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক স্থানীয় সরকারমন্ত্রী সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম নেতাদের মানসিকতার পরিবর্তনে উদ্বুদ্ধ করতে গিয়ে  বলেন, ‘আওয়ামী লীগ প্রতিষ্ঠা করেছিলেন বঙ্গবন্ধু-ভাসানীসহ অনেক নেতৃবৃন্দ।  সবাই কিন্তু আওয়ামী লীগের পদে স্থায়ী ছিলেন না।  বঙ্গবন্ধু আওয়ামী লীগের হাল ধরার পর তিনি দলকে একটি যুগান্তকারী সংগঠনে রূপ দেন।  যার ফলে মুক্তিযুদ্ধে জয়লাভ করে দেশ স্বাধীন হয়েছে।  এরপর অনেকেই সাধারণ সম্পাদক ছিলেন কিন্তু কেউই ওই পদে স্থায়ী ছিলেন না।  আমি সারা জীবন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক থাকব, এমনটা ভাবা অনুচিত।  যখন সময় ফুরিয়ে যাবে, দল স্বেচ্ছায় সিদ্ধান্ত নিয়ে আমাকে অব্যাহতি দিয়ে দিবে। এই পরিণতিটা আমরা মানতে চাই না, এটা মেনে নিতে হবে।  দলের মধ্যে কেউই আবশ্যিক নয়।  আপনার ওপর যতদিন কর্মীদের আস্থা আছে, ততদিন আপনি নেতৃত্ব রাখতে পারবেন। এর ব্যত্যয় হলে এক ঘণ্টায় আপনার নেতৃত্ব চলে যাবে।   আওয়ামী লীগের একটি ঐতিহ্য রয়েছে। আওয়ামী লীগকে এ পর্যায়ে নিয়ে আসার জন্য জাতির জনক বঙ্গবন্ধু, জাতীয় চার নেতার রক্ত, হাজারো নিবেদিত নেতা-কর্মীর রক্ত, তাঁদের ত্যাগ-মেধার মধ্যে একটা অনুভূতির সৃষ্টি হয়েছে, সেই অনুভূতিই কিন্তু আওয়ামী লীগ। আওয়ামী লীগ শুধু কোনো রাজনৈতিক দল নয়।’

আজ বৃহস্পতিবার ঠাকুরগাঁও জেলা আওয়ামী লীগের ত্রি-বার্ষিক সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম এসব কথা বলেন। ঠাকুরগাঁও জেলা পরিষদ মিলনায়তনে এ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।
নেতাদের দীর্ঘদিন নেতৃত্ব ধরে রাখার প্রবণতার সমালোচনা করেন সৈয়দ আশরাফ। দলের সভানেত্রী শেখ হাসিনার তাগিদ দেওয়া সত্ত্বেও নেতৃত্ব হারানোর ভয়ে অনেকে জেলা কাউন্সিল আয়োজন করতে উৎসাহী হননি। যাঁরা কাউন্সিল আয়োজন করেননি তাঁদের উপজেলা, ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড পর্যায়ে কাউন্সিল না হয়ে থাকলে, উদ্যোগ নিয়ে তা শেষ করার পরামর্শ দেন তিনি। কারণ হিসেবে তিনি বলেন, ‘আমরা যদি কাউন্সিল ব্যবস্থাপনা থেকে সরে আসি, তবে দলে প্রাণসঞ্চার হবে না।  নেতা-কর্মীদের উদ্দেশে  বলেন, আপনার বিশ্বাসে যদি ঘাটতি আসে, তবে কোনো দিন রাজনৈতিক কর্মী হিসাবে আপনি অভীষ্ট লক্ষ্যে যেতে পারবেন না। তাই আমাদের প্রতিনিয়ত নতুন করে গড়ে তুলতে হবে। সংগঠনে নতুন প্রাণের সঞ্চার দিতে হবে। তা না হলে যতই যুগান্তকারী দল আওয়ামী লীগ হোক না কেন, এটা একদিন সচল থাকবে না। দলকে গতিশীল রাখার একমাত্র উপায় হলো দলের মধ্যে গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা চালু ও অনুশীলন করা।