শীর্ষ মিডিয়া

ব্রেকিং নিউজ

রাত ৮:৫৪ ঢাকা, বৃহস্পতিবার  ১৭ই জানুয়ারি ২০১৯ ইং

হার্টঅ্যাটাকের ঝুঁকি

যখন হার্টঅ্যাটাকের ঝুঁকি, লক্ষণ-করণীয়

সুইডেনের গবেষকরা জানিয়েছেন, বড়দিনের ছুটির সময়ের অন্যান্য দিনের চেয়ে ২৪ ডিসেম্বর, অর্থাৎ বড়দিনের আগের সন্ধ্যায়, মানুষের মধ্যে হার্টঅ্যাটাকের ঝুঁকি সবচেয়ে বেশি থাকে৷ স্বাস্থ্য বিষয়ক জার্নাল বিএমজে এই তথ্য প্রকাশ করেছে৷

সুইডেনের ল্যুন্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্ডিওলজি বিভাগের অধ্যাপক ডেভিড এরলিঙ্গে এই গবেষক দলের প্রধান৷ তিনি এবং তাঁর দলের সদস্যরা ১৯৯৮ সাল থেকে ২০১৩ সাল অবধি হার্ট অ্যাটাকের কারণে সুইডেনের হাসপাতালে ভর্তি হওয়া ২৮০,০০-এর বেশি মানুষের তথ্য পর্যালোচনা করেছেন৷ তাঁদের গবেষণা অনুযায়ী, ২৪ ডিসেম্বর রাত দশটার দিকে সবচেয়ে বেশি হার্ট অ্যাটাকের ঘটনা ঘটে৷ এবং সেই দিন কোনো ছুটির আগের বা পরের দুই সপ্তাহের তুলনায় হার্টঅ্যাটাক ৩৭ শতাংশ বেড়ে যায়৷

বড়দিন এবং নতুন বছরের প্রথম দিনও হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি বেশি থাকে, তবে নতুন বছরের আগের রাতে সেই ঝুঁকি বেশি নয়৷ গবেষকরা দেখেছেন, বয়স্ক এবং অসুস্থ মানুষের মধ্যে এই সময়ে হার্ট অ্যাটাক বেশি হয়, যা বাহ্যিক কোনো কারণে হয়ে থাকতে পারে৷ তবে সেই কারণ ঠিক কী তা এখনো শনাক্ত করতে পারেননি গবেষকরা৷ তাঁদের অনুমান হচ্ছে, মানুষের রাগ, উদ্বেগ, দুঃখবোধ এবং মানসিক চাপের কারণে এমনটা ঘটতে পারে৷

উল্লেখ্য, সুইডেনের চিকিৎসকরা এবারই প্রথম হার্ট অ্যাটাকের পেছনে একেবারে সম্পর্কহীন বাহ্যিক কোনো কারণ খুঁজে বের করেনি৷ এর আগে আরেক গবেষণায় তাঁরা জানিয়েছিলেন যে, ঠান্ডা এবং মেঘাচ্ছন্ন পরিবেশে হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি বেশি থাকে৷

হার্ট অ্যাটাকের ছয় লক্ষণঃ

১/অসহ্য ব্যথা
দেখা গেছে হার্ট অ্যাটাকের আগে বুকে অসহ্য ব্যথা হয় এবং এই ব্যথা কমপক্ষে পাঁচ মনিট স্থায়ী হয়৷ ব্যথা সাধারণত বুক থেকে হাতে এবং পেটের ওপরের দিকে যায়৷ তাছাড়া কোমর, ঘাড়, গলা এবং চোয়ালেও অনুভূত হতে পারে এই ব্যথা৷ তবে শুধু ব্যথা নয়, সেই সাথে বুকে জ্বালাও হয় অনেক সময়৷

২/বুকে টান বা চাপ লাগে
হার্টের বহু রোগীই জানান, তাঁরা হার্ট অ্যাটাক হওয়ার আগে বুকে ভীষণ চাপ বা টান অনুভব করেছেন৷ এবং সেই সাথে তাঁদের মনে হয়েছে যে, বুকের আশেপাশে শক্ত কী যেন চাপ দিয়ে আটকে রেখেছে৷

৩/বমি, বমিভাব, নিঃশ্বাস নিতে অসুবিধা
বমিভাব, বমি হওয়া বা নিঃশ্বাসে কষ্ট হওয়ার মতো উপসর্গও দেখা দেয় অনেকক্ষেত্রে, বিশেষ করে নারীদের মধ্যে৷ এ সব লক্ষণকে সাধারণ ব্যাপার ভেবে অনেকেই গুরুত্ব দেন না৷ তবে যাঁদের এই লক্ষণগুলো প্রথমবারের মতো একসাথে দেখা দেয়, তাঁদের অবশ্যই যত দ্রুত সম্ভব হাসপাতালে ভর্তি হওয়া উচিত৷

৪/ভয়ে ঘেমে যাওয়া ও ফ্যাকাসে চেহারা
যাঁদের হার্ট অ্যাটাক হয়ে গেছে, সেরকম অনেক রোগীই জানিয়েছেন যে, কোনো কারণে ভীষণ ভয় বা আতঙ্ক থেকেও হার্ট অ্যাটাক হতে পারে৷ সে সময় শরীর প্রচণ্ড ঘামতে এবং ত্বক রক্তশূন্য হয়ে ফ্যাকাসে দেখায়৷ এমন অবস্থায় দেরি না করে সাথে সাথেই রোগীকে ইমারজেন্সিতে নিয়ে যেতে হবে৷

৫/জরুরি ব্যবস্থা
হার্ট অ্যাটাক বা মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণ, অর্থাৎ স্ট্রোক হলে সেক্ষেত্রে রোগীর সুস্থতা নির্ভর করে তাঁকে কত তাড়াতাড়ি ডাক্তারের কাছে নেওয়া হয়েছে, তার ওপর৷ তাই এই লক্ষণগুলো দেখা দিলে কোনোভাবেই দেরি নয়! বরং প্রয়োজনে আশেপাশের যে কোনো মানুষের সাহায্য নিতে দ্বিধা না করাই স্রেয়!

৬/বিশেষ পরীক্ষা
সত্যি হার্ট অ্যাটাক হয়েছিল কিনা তা নিশ্চিত হওয়ার জন্য হার্টের অন্যান্য জরুরি পরীক্ষার পাশাপাশি প্রথমেই যে রক্ত পরীক্ষা প্রয়োজন, তা হচ্ছে ‘কার্ডিঅ্যাক ট্রপোনিন’৷ তাই বুকে ব্যথা শুরু হলে দেরি না করে ডাক্তার দেখান অথবা জরুরিভিত্তিতে হাসপাতালে যান৷

লেখক: নুরুননাহার সাত্তার/ সূত্রঃ ডি ডব্লিউ