ব্রেকিং নিউজ

ভোর ৫:২৩ ঢাকা, বুধবার  ১৭ই জানুয়ারি ২০১৮ ইং

ফাইল ফটো

‘মৌলবাদ নামের নিজেদের সৃষ্টি খালে পড়েছে সরকার’

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আবদুল মঈন খান বলেছেন, সরকার পশ্চিমা বিশ্বের কাছে বার বার জুজুর ভয় দেখিয়ে মৌলবাদের ধোঁয়া তুলে যে খাল সৃষ্টি করেছে, সেই খালের ক্ষত শরীরে আজকের সরকার নিজেরাই পড়েছে। সোমবার সেটাই প্রমাণ হয়েছে।
মঙ্গলবার বিকালে জাতীয় প্রেসক্লাবে এক আলোচনা সভায় গুলশানের কূটনীতিক পাড়ায় ইতালীয় নাগরিক চেজারে তাভেল্লা হত্যার ঘটনার প্রসঙ্গ টেনে তিনি এ কথা বলেন।
বাংলাদেশ বৌদ্ধ ফ্রন্টের উদ্যোগে চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারে বৌদ্ধ মন্দিরে হামলার তৃতীয় বার্ষিকী উপলক্ষে এই আলোচনা সভা হয়। সংগঠনের আহবায়ক প্রকৌশলী পুলক কান্তি বড়ুয়ার সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় অন্যান্যের মধ্যে হিন্দু-বৌদ্ধ-খৃষ্টান কল্যাণ ফ্রন্টের আহবায়ক গৌতম চক্রবর্তী, বৌদ্ধ ফ্রন্টের উপদেষ্টা অধ্যাপক সুকোমল বড়ুয়া, সুশীল বড়ুয়া, সনদ কুমার তালুকদার, অবসরপ্রাপ্ত যুগ্ম সচিব বিজন সরকার, বিএনপির ধর্ম বিষয়ক সহ সম্পাদক জয়ন্ত কুমার কুন্ড, হিন্দু-বৌদ্ধ-খৃষ্টান কল্যাণ ছাত্রযুব ফ্রন্টের সভাপতি অমলেন্দু দাস অপু, বৌদ্ধ ফ্রন্টের সদস্য সচিব বিপ্লব বড়ুয়া প্রমূখ বক্তব্য রাখেন।
দেশে সাম্প্রদায়িক জুজুর ভয় দেখিয়ে কেউ পার পাবে না বলে মন্তব্য করে বিএনপির স্থায়ী কমিটির এ সদস্য বলেন, এভাবে যদি তারা চলতে থাকে, তাহলে বলার অপেক্ষা রাখে না বাংলাদেশের শুধু সমাজনীতি নয়, দেশের অর্থনীতি ও রাজনীতি সমস্ত ধ্বংসপ্রাপ্ত হয়ে যাবে।
মঈন খান বলেন, আমরা জানি, পশ্চিমা বিশ্বে সাম্প্রদায়িক জুজুর ভয় দেখিয়ে এই সরকার হয়ত অনেক কিছু লুফে নেবার চেষ্টা করছে। কিন্তু তারা যে সেটা পারবে না, জুজুর শিকার নিজেরাই হবে-তার প্রমাণ ঘটে গেছে সোমবার সন্ধ্যায়।
তিনি বলেন, কিভাবে একজন বিদেশী নাগরিক এদেশের ক্ষয়িষ্ণু সমাজ ব্যবস্থার প্রতিফলন হিসেবে জীবন হারিয়েছেন। একজন সম্পূর্ণ নির্দোষ ব্যক্তি যিনি এদেশের নাগরিকও নন। যিনি এদেশের কোনো ভালো-মন্দের সঙ্গে জড়িত না হয়েও একমাত্র এই দেশের ক্ষয়িষ্ণু সমাজ ব্যবস্থার শিকার হয়ে প্রাণ হারান।  সরকারের নানা ষড়যন্ত্রের কথা উল্লেখ করে আবদুল মঈন খান বলেন, নিজেদের ধ্বংসপ্রায় রাজনৈতিক ব্যবস্থাকে টিকিয়ে রাখার জন্য, মানুষের দৃষ্টি অন্যত্র ফেরানোর জন্য এই সরকার কিছুদিন পর পর এক একটি ঘটনার সূত্রপাত করে।
তিনি আরও বলেন, এসব ভুয়া অজুহাত দিয়ে মানুষের সত্যিকার আন্দোলনকে কখনো রুখে দেয়া যাবে না। দেশের মানুষ জানে কোনটা সঠিক, কোনটা বেঠিক। কোনটা ভালো, কোনটা মন্দ। সব মানুষকে সব সময়ের জন্য বোকা বানিয়ে রাখা যায় না।